বৃষ্টিপথে বাইকের চাকা পিছলে ভয়ংকর দুর্ঘটনা, ভিয়েতনামে মৃত্যু ২ ভারতীয় যোগ প্রশিক্ষকের

ভিয়েতনামে (Vietnam) ভয়ংকর পথদুর্ঘটনা। বর্ষার পথে মোটরবাইকের চাকা পিছলে বিপত্তি। উলটো দিক থেকে আসা গাড়ির সঙ্গে প্রবল সংঘর্ষে মৃত্যু হল ২ ভারতীয় যুবকের। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে যোগ শিক্ষকের পেশায় নিযুক্ত ছিলেন তাঁরা। দেহ দেশে ফেরাতে বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে মৃতদের পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর ডাল লাট শহরে ঘটে দুর্ঘটনা। ২৬ বছরের রাজ কুমার বর্মা ও ২৩ বছরের বিনয় যাদব যোগা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকেই ফিরছিলেন। বৃষ্টির কারণে পিচ্ছিল ছিল রাস্তা। এক সময় তীব্র গতিতে থাকা বাইকের চাকা পিছলে যায়। চোখের নিমেষে উলটো দিক থেকে আসা গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বিনয়ের। প্রত্যক্ষদর্শীরা পুলিশের সাহায্যে জীবিত রাজ কুমারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন। যদিও দিন দুই বাদে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তাঁরও।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, যোগ প্রশিক্ষকের কাজে গত দুই বছর ধরে ভিয়েতনাম থাকছিলেন রাঁচির রাজ কুমার বর্মা। জামশেদপুরর বাড়ি ছেড়ে বিনয় যাদবও দু’বছর আগেই ভিয়েতনাম যান কর্মসংস্থানের প্রয়োজনে। তিনি যোগ প্রশিক্ষকের কাজ করছিলেন। নিম্নবিত্তের দুই পরিবার সন্তানদের মুখ চেয়ে আশার আলো দেখছিলেন। এই অবস্থায় শোক মুহ্যমান দুই পরিবার জানিয়েছে, বিপুল খরচের কারণে তাদের পক্ষে দেহ দেশে ফেরানো সম্ভব নয়। আনুমানিক ২০ লক্ষ টাকা প্রয়োজন।
মৃত বিনয়ের মা রূপা বর্মা, ভাই শুভম বর্মা এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা রাজ্যসভার সাংসদ মহুয়া মাজির বাসভবনে গিয়ে বাড়ির ছেলের মরদেহ ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান। এরপর মহুয়া কথা বলেন রাঁচির ডেপুটি কমিশনার মঞ্জুনাথ ভজন্ত্রীর সঙ্গে। তিনি ফোনে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। অন্যদিক রাজ কুমারের পরিবারেরও একই দাবি। তাঁর তুতো ভাই অভিজিৎ বর্তমানে ভিয়েতনামে রয়েছেন। তিনি সেখানে ভিয়েতনাম প্রশাসনের নিয়মকানুন পালন করছেন। যাতে করে মৃত রাজ কুমারের দেহ জামশেদপুরে ফেরানো যায়। ঝাড়খণ্ডের শ্রমমন্ত্রী সঞ্জয় প্রসাদও উভয় যুবকের মরদেহ রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে দেশে ফেরানো হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
শেয়ার
লিংক



