0%

ভিক্ষায় জমানো ১৭ লক্ষ টাকা দান করলেন মন্দিরে, নজিরবিহীন জনসেবা ভিক্ষুকের

অনন্যা সরকার, অন্ধ্রপ্রদেশ: রাস্তাঘাটে বা মন্দির চত্বরে এমন অনেক অসহায় মানুষকে (Beggar) দেখা যায়, যারা পথচারীদের করুণার আশায় বসে অপেক্ষা করেন। দুটো টাকার জন্য হাত পাতেন। অনেকেরই রোজ হয়তো দু’বেলা দু’মুঠো খাবার জোটে না। তবু ভিক্ষুকের জীবন থেকে বেরিয়ে আসার সাধ্য বা সামর্থ্য থাকে না অধিকাংশেরই। একজন ভিক্ষুকের কাছে একটি টাকার মূল্যও অনেক। কিন্তু আপনি কি কখনো শুনেছেন যে কোনো ভিক্ষুক ভিক্ষা করে তাঁর উপার্জিত অর্থ কোনো মন্দিরের উন্নয়নে বিনিয়োগ করেছে? অবাক হচ্ছেন তো? আসলে এরকম ঘটনা খুবই বিরল। কিন্তু এমনটাই ঘটিয়েছেন অন্ধ্রপ্রদেশের এক ব্যক্তি। ভিক্ষা করে সংগৃহীত ১৭ লক্ষ টাকা তিনি একটি মন্দিরের উন্নয়নে বিনিয়োগ করেছেন।

ভিক্ষা করে জমানো ১৭ লক্ষ টাকা দান করলেন মন্দিরে 

মন্দিরে আগত ভক্তদের অসুবিধা কমাতে এক ভিক্ষুক মন্দিরে রেলিং তৈরির জন্য কষ্টার্জিত ১৭ লক্ষ টাকা দান করে দিয়েছেন। এই গল্পটি অন্ধ্রের মারকাপুর জেলার কোল্লিমালাইয়ের বাসিন্দা শিবরাম রেড্ডিয়ারের। তিনি গত পাঁচ বছরে ভিক্ষা করে জমানো ১৭ লক্ষ টাকা ত্রিপুরান্তকম গ্রামের বালা ত্রিপুরাসুন্দরী দেবী মন্দিরের উন্নয়নে বিনিয়োগ করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি অসামান্য উদারতার এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

ভিক্ষা করে জমানো অর্থ মন্দিরের উন্নয়নে বিনিয়োগ করার এই ঘটনার কথা ছড়িয়ে পড়তেই শিবরাম রেড্ডিয়ারকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় মানুষ ও দর্শনার্থীরা। তিনি ত্রিপুরাসুন্দরী দেবী মন্দিরে উৎসবের সময় ভিড়ের কারণে ভক্তদের দুর্ভোগ প্রত্যক্ষ করেছিলেন। মন্দিরে প্রবেশের জন্য ভক্তদের ধাক্কাধাক্কি দেখে তিনি মর্মাহত হন। এরপর তিনি এর একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করার সিদ্ধান্ত নেন।

আরও পড়ুন: বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিয়ে পুজো পরিক্রমা, বড় উদ্যোগ পর্যটন দফতরের

শিবরাম রেড্ডিয়ার ভক্তদের সুবিধার জন্য লোহার রেলিং নির্মাণ করার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু এর জন্য যত টাকার প্রয়োজন, তার কানাকড়িও ছিল না শিবরাম রেড্ডিয়ারের কাছে। কিন্তু তিনি দমে যাননি, পাঁচ বছর ধরে ভিক্ষা করে অর্থ সঞ্চয় করেন। দিনে মাত্র একবার মাত্র খাবার খেতেন, আর খাওয়ার খরচটুকু ছাড়া নিজের জন্য কোনও অর্থ ব্যয় করতেন না শিবরাম রেড্ডিয়ার। পাঁচ বছরের কঠোর পরিশ্রম ও নিঃস্বার্থ ত্যাগের ফলস্বরূপ, তিনি ১৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে মন্দির চত্বরে স্থায়ী লোহার রেলিং স্থাপন করতে সমর্থ হয়েছেন। এই রেলিংগুলি উৎসবের সময় ভক্তদের ভিড় নিয়ন্ত্রণে খুবই সহায়ক বলে ইতিমধ্যেই প্রমাণিত হয়েছে। শিবরাম রেড্ডিয়ার কথায়, তাঁর সমস্ত সেবা কেবল মা ত্রিপুরাসুন্দরী দেবীর আশীর্বাদেই সম্ভব হয়েছে। বিনীতভাবে তিনি বলেন, ‘মা-ই আমাকে এই সেবা করার আদেশ দিয়েছেন।’

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker