0%

ভুয়ো নথিতে ভিনরাজ্যের ক্রিকেটারদের সুযোগ দেন সিএবি কর্তা! বিতর্কে কী সাফাই অভিযুক্তর?

আবারও সিএবি-র (CAB) বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়ল রাজ্যের নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ-র কাছে। অভিযোগ, ভিন রাজ্যের ছ’জন ক্রিকেটারকে বেআইনি ভাবে বাংলার হয়ে খেলার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগে সিএবি-র ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান দেবীপ্রসন্ন পাড়ির ভূমিকা নিয়ে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। যদিও তিনি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ক্রীড়ামন্ত্রীর কাছে তথ্যপ্রমাণ-সহ যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে, মিথ্যা তথ্য, সন্দেহজনক আবাসিক প্রমাণপত্র, ভুয়ো ঠিকানা এবং জাল নথি তৈরি করে ওই ক্রিকেটারদের সিএবি পরিচালিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় খেলানো হয়েছে। অভিযোগে স্বাগত কুমার ঝা (দেওঘর, ঝাড়খণ্ড), অভিশান্ত বক্সী (জম্মু ও কাশ্মীর), অনিল কুমার ওরফে অনিল তোমার (হরিয়ানা), সুধাংশু সিংহ (উত্তরপ্রদেশ), মাবরুক আহমেদ (উত্তরপ্রদেশ) এবং সানি কুমার পণ্ডিতের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রত্যেকের রেজিস্ট্রেশন নম্বরও উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে, এ অ্যান্ড এস ক্রিকেট অ্যাকাডেমির মাধ্যমে এই দুর্নীতি হয়েছে। অভিযোগকারী শান্তনুর দাবি, দেবীপ্রসন্ন ওই অ্যাকাডেমি পরিচালনা করেন এবং তাঁর অ্যাকাডেমি ও সহযোগী ক্লাবগুলির মাধ্যমে একাধিক ক্রিকেটারকে বেআইনি ভাবে সিএবিতে নথিভুক্ত করা হয়েছে। শান্তনু জানান, গত দু’বছর ধরে তিনি সিএবি, বিসিসিআই সচিব এবং কলকাতা পুলিশের বিভিন্ন আধিকারিকের কাছেও একই অভিযোগ জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, পর্যাপ্ত নথি জমা দেওয়া হলেও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

ক্রীড়ামন্ত্রীকে পাঠানো ইমেলে তিনি লিখেছেন, ‘বিষয়টি এখন আর কেবল খেলাধুলা সংক্রান্ত দুর্নীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। মিথ্যা পরিচয় দেওয়া বা ভুয়ো আবাসিক নথিপত্র তৈরি এবং ব্যবহার করা গুরুতর অপরাধ। এই ধরনের নথিপত্র ব্যবহার করে ক্রিকেটের গণ্ডি ছাড়িয়ে আরও বৃহত্তর অপরাধের সম্ভাবনা থাকে। এর ফলে বিষয়টি বৃহত্তর জনস্বার্থে ক্ষতি করতে পারে।’ অভিযোগপত্রে তিনটি বিষয়ে তদন্তের আবেদন জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারদের জমা দেওয়া বাসস্থান ও বয়স সংক্রান্ত নথির সত্যতা যাচাই, দেবীপ্রসন্ন ও অন্যান্য অভিযুক্তদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা এবং অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও ব্যবস্থা না নেওয়ায় সিএবি কর্তাদের ভূমিকা পর্যালোচনা করার কথা বলা হয়।

অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দেবীপ্রসন্ন পাড়ি। তাঁর মতে, এমন অভিযোগের নেপথ্যে ব্যক্তিগত আক্রোশ রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “ওর ছেলে আমার অ্যাকাডেমিতে প্র্যাকটিস করত। কিন্তু একেবারেই শৃঙ্খলাপরায়ণ ছিল না। তাই ওকে সুযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। টাকা ফেরতও দিয়েছি। সেই রাগ থেকেই এখন উনি এসব করছেন।” এর জবাবে শান্তনুর প্রশ্ন, “ধরে নিলাম আমার ছেলে খুব খারাপ খেলে বা বিশৃঙ্খল। তা হলে ওকে সই করানো হয়েছিল কেন? জার্সিই বা দেওয়া হয়েছিল কেন? দলে রাখা হয়েছিল কেন? রেজিস্ট্রেশন না করিয়ে ভিন রাজ্যের ক্রিকেটারকে টাকার বিনিময়ে রেজিস্ট্রেশন করানো হয়েছিল।”

শান্তনু অভিযোগ করেন, সিএবি-র কমিটির চেয়ারম্যান হয়েও দেবীপ্রসন্ন একটি ক্রিকেট অ্যাকাডেমি পরিচালনা করছেন এবং ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন, যা তাঁর মতে স্বার্থের সংঘাত।
এ প্রসঙ্গে দেবীপ্রসন্ন বলেন, “অ্যাকাডেমি আমার নামে নয়, তবে আমিই চালাই। ক্রিকেটের উন্নতির জন্যই কাজ করি। ক্রিকেট আমার রোজগারের জায়গা নয়। ১০ বছর ধরে ময়দানে আছি। কোনও দিন দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেনি। এখন মনে হচ্ছে, সিএবিতে এসে ভুল করেছি।” নতুন অভিযোগের পর বিষয়টি নিয়ে ক্রীড়ামন্ত্রীর দপ্তর কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন নজর ক্রিকেট মহলের।

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker