‘মানুষ চিনতে পারল না দিদি!’ ঋতব্রতর তৃণমূলে যোগ দিয়েই বিস্ফোরক অনুব্রত মন্ডল

বাংলা হান্ট ডেস্ক: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর আদি তৃণমূল (TMC) শিবিরে ভাগাভাগি শুরু হয়েছে আগেই। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের পর এবার ‘প্রিয় দিদি’র হাত ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নব তৃনমূল শিবিরে যোগ দিলেন বীরভূমের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal) ওরফে কেষ্ট।
ঋতব্রতর তৃণমূলে যোগ দিলেন অনুব্রত মন্ডল
নব তৃণমূলে যোগ দিয়েই এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একের পর এক প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন তাঁর এককালের স্নেহধন্য কেষ্ট ওরফে অনুব্রত। প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যেই সর্বসম্মতিক্রমে বীরভূম জেলা সভাপতি হিসাবে নাম ঘোষণা করা হয়েছে অনুব্রত মণ্ডলের। আর তারপর থেকেই তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেওয়া একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করে চলেছেন তিনি।
নব তৃণমূলে বীরভূম জেলা সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন অনুব্রত। সেখানেই এদিন অন্যান্যদের মতো তিনিও আইপ্যাকের দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘ কোনোদিন নিজের জীবনের পরোয়া করিনি। বীরভূম-বর্ধমান থেকে ৩৪ বছরের সিপিএম’কে আমি তাড়িয়েছি। একটা চোর ডাকাত আইপ্যাক এসে দলটাকে শেষ করে দিয়ে চলে গেল।’
আরও পড়ুনঃ শিল্পায়নের রুক্ষতা কাটিয়ে বিনিয়োগে ভারত সেরা হবে বাংলা, ডানকুনির মঞ্চ থেকে বার্তা শুভেন্দুর
সরাসরি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে আক্ষেপের সুরে তাঁর সংযোজন, ‘মানুষ চিনতে পারল না দিদি। ভুল করল। যেহেতু উনি দল চালাতেন তাই দিদিকেই এটা বলব। যাকে খুশী, তাকে টিকিট দিয়ে দিল। এভাবে কি দল চালানো যায়? যাঁরা এত পরিশ্রম করে দলটা তৈরি করল, তাঁদেরকেই ভুলে গেল।’
কথা প্রসঙ্গে এদিন উঠে এল রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দলত্যাগের প্রসঙ্গও। অনুব্রতের দাবী শুভেন্দু অধিকারীও নাকি আইপ্যাকের জন্য দল ছেড়েছিল। তাই তৃণমূল সুপ্রিমোর উদ্দেশ্যে এদিন কেষ্ট’র সোজাসাপ্টা অভিযোগ, ‘দলের সুপ্রিম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলব। আবোল তাবোল লোকের নাম নেব না।’ একইসাথে ‘প্রিয় দিদি’কে তাঁর পরামর্শ ‘দলটা যেহেতু ওনার তৈরী তাই ওনার বোঝা উচিত ছিল, উনি অভিভাবক’।
আরও পড়ুনঃ চালু হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা! কীভাবে আবেদন করতে হবে, কারা পাবেন জানুন
নতুন তৃণমূল শিবিরে যোগ দেওয়ার বিষয়েও নেত্রীকে কোনো কৈফিয়ত দিতে নারাজ কেষ্ট। উল্টে উঠে আসে তাঁর একের পর এক প্রশ্নবাণ। অনুব্রতর কথায়, ‘আমি দিদিকে আমার শিবির বদল কেন জানাব? আমি যখন জেলে ছিলাম, আমার নাম করে ভোট করেছিল দিদি। আমার কি অন্যায় ছিল যে আমাকে জেলা সভাপতি থেকে সরানো হল?’
অন্যদিকে অনুব্রত এর এই সিদ্ধান্তে প্রশ্ন উঠছে ঋতব্রত অনুগামী কাজল শেখের সাথে তার চিরকালীন সম্পর্কের তিক্ততা নিয়েও। ইতিপূর্বে একাধিকবার খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চেষ্টা করেও কাজল-কেষ্ট সম্পর্কের বরফ গলাতে পারেননি। তাই এবার প্রশ্ন উঠছে এই কাজে কি সফল হবেন ঋতব্রত? প্রসঙ্গত এদিন বীরভূমের রাজ্য সভাপতি হিসাবে অনুব্রতের প্রস্তাবিত নামে সমর্থন জানিয়েছিলেন কাজল শেখ ৷ এবিষয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে অনুব্রত জানিয়েছেন, ‘আমি কারও নাম নিতে চাই না। দু’জনকে একসাথে কাজ করতে হবে তার কোনও মানে নেই। আমি জেলা সভাপতি তাই আমি নিজের মতো কাজ করব। ওর কাছে আমাকে সংগঠন শিখতে হবে নাকি?’



