0%

রাস্তার কুকুর-বিড়ালকে যেখানে-সেখানে খাওয়ানো যাবে না, নতুন নির্দেশিকা রাজ্য সরকারের

কলকাতা: রাস্তার কুকুর, বিড়াল-সহ অন্যান্য পথপ্রাণীকে যেখানে-সেখানে খাবার খাওয়ানো যাবে না। নির্দিষ্ট করে দেওয়া জায়গাতেই তাদের খাবার দিতে হবে। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুরসভার আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। বুধবার, ১৪ অক্টোবর, রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর এই সংক্রান্ত নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে।

নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি ওয়ার্ডে পথকুকুরদের খাবার দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত করতে হবে সংশ্লিষ্ট পুরসভা ও নগর স্থানীয় প্রশাসনকে। এমন জায়গা বেছে নিতে হবে, যা পার্ক, শিশুদের খেলার জায়গা, হাঁটার রাস্তা, ব্যস্ত জনবহুল এলাকা এবং ভিড়ভাট্টা থেকে দূরে। রাস্তা, ফুটপাত কিংবা বাড়ি, দোকান ও অন্যান্য ভবনের প্রবেশপথে বাধা সৃষ্টি হয়, এমন জায়গায় খাবার দেওয়া যাবে না।

– বিজ্ঞাপন –

পরিচয়পত্র পাবেন নিয়মিত খাবারদাতারা

পথকুকুরদের নিয়মিত খাবার দেন, এমন ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করতে হবে পুরসভাগুলিকে। তাঁদের পরিচয়পত্র দেওয়ার ব্যবস্থাও করতে হবে। নির্দিষ্ট স্থানে খাবার ও পানীয় জল রাখার জন্য ছোট সিমেন্টের মঞ্চ তৈরি করার সুযোগও থাকছে।

নির্দেশিকায় খাবার দেওয়ার সময়ও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। দিনে দু’বার—সকাল ৭টার আগে এবং সন্ধ্যা ৭টার পরে—খাবার দেওয়া যাবে। প্রতিটি পর্বের জন্য দু’ঘণ্টার সময়সীমা থাকবে। তবে সংশ্লিষ্ট পুরসভা যে সময়সূচি নির্ধারণ করবে, তা মেনেই খাবার দিতে হবে।

খাবার দেওয়ার পর পরিষ্কার করতে হবে এলাকা

নির্দিষ্ট খাবার দেওয়ার জায়গায় আবর্জনা ফেলা বা এলাকা নোংরা করা চলবে না। পশুরা খাওয়া শেষ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জায়গাটি পরিষ্কার করতে হবে। খাবার দেওয়ার জন্য ডিসপোজেবল প্লেট ব্যবহার করে তা কাছাকাছি ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। খাবার পরিবেশনে কাগজ বা খবরের কাগজের টুকরোও ব্যবহার করা যেতে পারে।

অনুমোদিত স্থানে এবং নির্ধারিত সময়ে কোনও ব্যক্তি পথকুকুরকে খাবার খাওয়ালে তাঁকে বাধা দেওয়া, হেনস্থা করা বা তাঁর কাজে বিঘ্ন ঘটানো যাবে না। তবে খাবারদাতাদেরও নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং অনুমোদিত এলাকার বাইরে খাবার দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

বিজ্ঞাপন

নিয়ম ভাঙলে পুরসভার আইনে ব্যবস্থা

অনুমোদনহীন জায়গায় পথপ্রাণীদের খাবার দেওয়াকে কঠিন বর্জ্য ফেলা বা ছড়ানোর ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকার আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

কলকাতার ক্ষেত্রে কলকাতা পুরসভা আইন, পশ্চিমবঙ্গ পুর আইন, হাওড়া পুরনিগম আইন অথবা পশ্চিমবঙ্গের পুরনিগম আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন নির্দেশিকার মূল লক্ষ্য, পথপ্রাণীদের খাবার দেওয়ার ব্যবস্থা বজায় রেখেও শহরের পরিচ্ছন্নতা, জননিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের চলাচল সুনিশ্চিত করা।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker