0%

সপ্তম পে কমিশনে ন্যূনতম বেতন ৬৫,২০০ টাকা? বড় দাবি বাংলার সরকারি কর্মীদের | Salary Hike Under 7th Pay Commission Bengal

সহেলি মিত্র, কলকাতা: সপ্তম বেতন কমিশনকে (7th Pay Commission) ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে প্রত্যাশা ও সংশয়—দুই-ই বাড়ছে। রাজ্য সরকারের তরফে একের পর এক বিজ্ঞপ্তি জারি হলেও নতুন বেতন কাঠামো কেমন হবে, ন্যূনতম বেতন (Salary) কতটা বাড়তে পারে এবং কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবিগুলি কতটা গুরুত্ব পাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য কো-অর্ডিনেশন কমিটির পক্ষ থেকে বেতন কমিশনের প্রক্রিয়া ও কর্মচারীদের অধিকার নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরা হয়েছে। সংগঠনের নেতা বিশ্বজিৎ গুপ্তচৌধুরী এই বিষয়গুলির বিভিন্ন দিক নিয়ে নিজের মতামত ও প্রস্তাব ব্যাখ্যা করেছেন।

সপ্তম পে কমিশনে ন্যূনতম বেতন ৬৫, ০০০ টাকা করার দাবি!

সপ্তম বেতন কমিশনের জন্য অনলাইনে মতামত ও প্রস্তাব জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় ইংরেজি ভাষার ব্যবহার নিয়ে আপত্তি উঠেছে। কর্মচারীদের একাংশের বক্তব্য, শুধুমাত্র ইংরেজিতে প্রশ্নমালা থাকলে অনেকের পক্ষে নিজেদের দাবি ও সমস্যার কথা যথাযথভাবে তুলে ধরা কঠিন হতে পারে। তাই বাংলা-সহ একাধিক ভাষায় প্রশ্নমালা চালু করা এবং প্রয়োজনে প্রস্তাব জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানোর দাবি উঠেছে। কর্মীদের বক্তব্য, বেতন কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রত্যেক কর্মচারী যাতে সহজে নিজের মতামত জানাতে পারেন, সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বেতন কাঠামো ও বাড়িভাড়া ভাতা নিয়ে উদ্বেগ

আগের বেতন কমিশনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে কর্মচারী সংগঠন। বিশেষ করে ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সময় বাড়িভাড়া ভাতা সংক্রান্ত পরিবর্তনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে সংগঠনের বক্তব্য, নতুন বেতন কাঠামো তৈরির ক্ষেত্রে কর্মীদের প্রকৃত আর্থিক চাহিদা, মূল্যবৃদ্ধি এবং বর্তমান বাজারদর বিবেচনা করা উচিত। শুধু মূল বেতন বৃদ্ধি নয়, বাড়িভাড়া ভাতা-সহ অন্যান্য ভাতার ক্ষেত্রেও কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখার দাবি জানানো হয়েছে।

দীর্ঘ ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে বিভিন্ন সরকারি দফতরে কাজ করা চুক্তিভিত্তিক ও অস্থায়ী কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংগঠনের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেও যাঁরা স্থায়ী কর্মীদের তুলনায় কম বেতন ও সীমিত সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁদের সমস্যা বেতন কমিশনের আলোচনায় গুরুত্ব পাওয়া উচিত। চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের স্থায়ীকরণ, বেতন বৈষম্য দূর করা এবং তাঁদের কাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে স্পষ্ট সুপারিশের দাবি তোলা হয়েছে।

স্বচ্ছ নিয়োগ ও পিএসসির স্বায়ত্তশাসন

সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে কো-অর্ডিনেশন কমিটি। সংগঠনের বক্তব্য, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (PSC) স্বায়ত্তশাসন বজায় রেখে যোগ্যতার ভিত্তিতে স্থায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া জোরদার করা প্রয়োজন। বিভিন্ন দফতরে শূন্যপদ পূরণ এবং দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগের অপেক্ষায় থাকা চাকরিপ্রার্থীদের ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। সংগঠনের মতে, নিয়মিত ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রশাসনিক কাজের মান উন্নত করার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে পারে।

৩.৮৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরে ন্যূনতম বেতন ৬৫,২০০ টাকা?

সপ্তম বেতন কমিশন নিয়ে আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ন্যূনতম মূল বেতন কত হওয়া উচিত। রাজ্য কো-অর্ডিনেশন কমিটির পক্ষ থেকে ৩.৮৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর প্রয়োগ করে ন্যূনতম মূল বেতন ৬৫,২০০ টাকা নির্ধারণের দাবি তোলা হয়েছে। এই প্রস্তাবের পক্ষে পাঁচ সদস্যের পরিবার কাঠামো এবং পরিবারের ন্যূনতম আর্থিক চাহিদাকে ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

তবে ৬৫,২০০ টাকা ন্যূনতম বেতন এখনও ঘোষিত বা চূড়ান্ত বেতন কাঠামো নয়; এটি সংগঠনের দাবি ও প্রস্তাব হিসেবে বিবেচ্য। রাজ্য সরকার সপ্তম বেতন কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশ গ্রহণ করার পরই নতুন বেতন কাঠামো, ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর এবং ন্যূনতম বেতন সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যাবে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker