‘সরকারি হেলিকপ্টার পাঠিয়ে দেব’, মমতাকে বললেন শুভেন্দু, কেন?

বাংলা হান্ট ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়নের নতুন বার্তা দিতে গিয়ে রাজনৈতিক আক্রমণও শানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বাঁকুড়ার মেজিয়ায় শ্যাম স্টিলের সম্প্রসারণ প্রকল্পের উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে একদিকে যেমন ১৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ ও সম্ভাব্য ২০ হাজার কর্মসংস্থানের কথা তুলে ধরলেন, অন্যদিকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে একের পর এক কটাক্ষও করেন।
কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) ?
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গে শিল্প নিয়ে যে ধারণা তৈরি হয়েছিল, এখন তা বদলাচ্ছে। সেই প্রসঙ্গ টেনেই তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শ্যাম স্টিল কারখানা ঘুরে দেখার আমন্ত্রণ জানান।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনার হাতে অনেক সময় আছে। প্ল্যান্টের ভিতর এসে দেখে যাবেন। এতদিন কথায় কথায় বিশেষ করে মাড়োয়াড়ি, গুজরাতিদের বহিরাগত বলতেন। বলতেন উত্তর প্রদেশ করতে দেব না। আমি অভিভূত, প্ল্যান্টে মন্দির তো আছেই, নন্দী মহারাজ তো আছেই, গো শালা তো আছেই, সঙ্গে নেতাজি, রবীন্দ্রনাথের মূর্তিও রয়েছে। আপনি এসে দেখে যাবেন। সরকারি হেলিকপ্টার পাঠিয়ে দেব।”
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, প্রশাসনিক পরিবর্তনের পর থেকেই শিল্পপতিরা পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগে নতুন করে আগ্রহ দেখাতে শুরু করেছেন।
তিনি বলেন, “এবার বিজেপি সরকার না এলে শ্যাম স্টিল ওড়িশায় চলে যেত। বাংলার মানুষ বেঁচে গিয়েছে। তৃণমূল গিয়েছে বাংলা-বাঙালি বেঁচে গিয়েছে। বাংলায় বন্ধ হয়েছে গুন্ডা ট্যাক্স। বাংলায় ফিরছেন বিমুখ শিল্পপতিরা।”
শুভেন্দু অধিকারী জানান, নতুন শিল্প গড়ে তুলতে রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় জমি সংগ্রহ থেকে শুরু করে পরিকাঠামো তৈরির দায়িত্বও নেবে। বড় বিনিয়োগকারীদের অনুমোদনের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর আশ্বাসও দেন তিনি।

আরও পড়ুন : মৃতদের নথির অপব্যবহার ঠেকাতে কড়া পদক্ষেপ! জন্ম-মৃত্যুর রেজিস্ট্রেশন আইনে বড় সংশোধন আনছে কেন্দ্র
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “৩৪ বছর বামেদের আমলে গুলি করে জমি নিয়েছে। তৃণমূল গত ১৫ বছরে বলেছে আমরা জমি দিতে পারব না, শিল্পপতিরা নিজেরা জমি কিনে নিক। আমরা জমি কিনে শিল্পপতিদের দেব। রাজ্য সরকারের একটা দায়িত্ব আছে। পঞ্চায়েত পুরসভায় অনুমতি নিতে হলে আগে শুনতে হত আমাদের একটু দেখুন। ১০০ কোটির বেশি বিনিয়োগ করলে কোনও পঞ্চায়েত, পুরসভায় আপনাদের যেতে হবে না। এবং প্রথম ২ বছর জল, বিদ্যুৎ সব দেব। ব্যবসা বান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে না পারলে কেউ আসবে না। সরকার আপনাদের সঙ্গে আছে। এই সরকার পরিকাঠামোর জন্য এয়ারপোর্ট, রেল, সি-পোর্ট সব করে দেবে।” মেজিয়ার এই অনুষ্ঠান থেকে শিল্প, কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগকে সামনে রেখে একাধিক প্রতিশ্রুতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একইসঙ্গে রাজনৈতিক আক্রমণের সুরও ছিল তীব্র।




