0%

13 TMC Leader arrested in last 11 days

৯ মে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েই দুর্নীতিমুক্ত বাংলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। যেমন কথা, তেমন কাজ। শুরু থেকেই শক্ত হাতে বাংলার রাশ ধরার চেষ্টা করছেন তিনি। দুর্নীতিকে গোড়া থেকে উপরে ফেলার জন্য যা পদক্ষেপ করা প্রয়োজন, তা-ই করছেন তিনি। রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তল্লাশি। প্রাক্তন মন্ত্রী থেকে শুরু করে ব্লক স্তরের নেতা, অভিযোগ থাকলে কাউকেই রেয়াত করছে না সরকার। পরিসংখ্যান বলছে, সরকার গঠনের ১১ দিনে দুর্নীতি-সহ একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার মোট ১৩ জন।

১. দেবরাজ চক্রবর্তী (১৯.০৫.২০২৬)- উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দা দেবরাজ চক্রবর্তী। তিনি রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির স্বামী। তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এই নেতা। ভোট পরবর্তী হিংসা, খুন, দুর্নীতি-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। শোনা যাচ্ছে, ফলপ্রকাশের পর থেকেই ফেরার ছিলেন তিনি। মঙ্গলবার গোপন ডেরা থেকে তাঁকে আটক করা হয়েছে। যদিও এবিষয়ে এখনও প্রশাসনের তরফে স্পষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি।

দেবরাজ চক্রবর্তী। ফাইল ছবি

২. সোনা পাপ্পু (১৮.০৫.২০২৬)- জমি দুর্নীতি, প্রতারণা-সহ একাধিক মামলা ছিল সোনা পাপ্পু বিরুদ্ধে। গোলপার্কের কাঁকুলিয়া বোমা-গুলি কাণ্ডের পর থেকেই বেপাত্তা ছিলেন তিনি। গত সোমবার সকালে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি দপ্তরে সস্ত্রীক হাজির হয়েছিলেন সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দার। রাতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। একইদিনে গ্রেপ্তার হন আসানসোলের তৃণমূলের ব্লক সভাপতি রাজু অহলুওয়ালিয়া। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগ ছিল।  

বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু। ফাইল ছবি

৩. স্মরজিৎ বিশ্বাস, গৌরীশংকর মাহেশ্বরী, মৌমিতা ভট্টাচার্য (১৭.০৫.২০২৬)- একইদিনে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৫ জন। তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে নদিয়ার কৃষ্ণনগর-১ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ স্মরজিৎ বিশ্বাসকে। অর্থের বিনিময়ে বিল্ডিং প্ল্যান পাশের অভিযোগে গ্রেপ্তার দিনহাটার প্রাক্তন পুরপ্রধান গৌরীশঙ্কর মাহেশ্বরী। একই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয় পুরকর্মী মৌমিতা ভট্টাচার্যকে। এছাড়াও পুলিশের জালে আরও ২ জন।

৪. প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিংহ বিশ্বাস (১৪.০৫.২০২৬)- সোনা পাপ্পু মামলায় নাম জড়িয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বিশেষ আস্থাভাজন’ প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের। তাঁকে একাধিকবার তলব করেছিল ইডি। বাঁচতে হাই কোর্টের দ্বারস্থও হয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে তাঁর নামে জারি হয় লুক আউট নোটিস। দীর্ঘদিন লুকিয়েও লাভ হয়নি। ১৪ মে ইডি দপ্তরে হাজিরা দেন তিনি। ম্যারাথন জেরার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিংহ বিশ্বাস। ফাইল ছবি

৫. কাউন্সিলর শান্তনু মজুমদার (১৩.০৫.২০২৬)- মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের বাসিন্দা শান্তনু মজুমদার। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ উঠছিল। গত ১৩ মে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একইদিনে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আরও ২ জনকে গ্রেপ্তার করে সিবিআই।

৬. সুজিত বসু (১১.০৫.২০২৬)- বাংলার রাজনীতিতে একটা বড় নাম সুজিত বসু। একাধিকবারের বিধায়ক, মন্ত্রী ছিলেন তিনি। নিয়োগ দুর্নীতিতে দীর্ঘদিন আগেই নাম জড়িয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সৈনিকের। অভিযোগ, অর্থের বিনিময়ে ১৫০ জনের নাম সুপারিশ করেছিলেন তিনি। গত ১১ মে ম্যারাথন জেরার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করে ইডি। বর্তমানে ইডি হেফাজতে রয়েছেন তিনি।

সুজিত বসু। ফাইল ছবি

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker