0%

Valentines Day 2026: জানেন কীভাবে শুরু হল ভ্যালেন্টাইনস ডে?

ঋতুরাজ বসন্তের আগমন আর পলাশ-শিমুলের রঙে যখন প্রকৃতি রাঙা, ঠিক তখনই মন দেওয়া-নেওয়ার এক বিশেষ ক্ষণ নিয়ে হাজির আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি, ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ বা বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। সীমানা পেরিয়ে, ভাষার গণ্ডি টপকে আজ কেবল হৃদয়ে হৃদয়ে মিলনের দিন। লাল গোলাপের পাপড়ি আর চকোলেটের মিষ্টতায় আজ মজেছে গোটা বিশ্ব।

এই দিবসের মূলে রয়েছে এক করুণ অথচ বীরত্বগাথা ইতিহাস। প্রচলিত আছে, খ্রিস্টীয় তৃতীয় শতাব্দীতে রোমান সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াস যুবকদের বিয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন, কারণ তাঁর বিশ্বাস ছিল অবিবাহিত পুরুষরা দক্ষ সৈনিক হয়। সেই সময় সেন্ট ভ্যালেন্টাইন নামক এক ধর্মযাজক সম্রাটের অবাধ্য হয়ে গোপনে প্রেমিক-প্রেমিকাদের বিয়ের আয়োজন করতেন। সম্রাটের রোষানলে পড়ে তাঁকে কারারুদ্ধ করা হয় এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। বলা হয়, মৃত্যুর আগে তিনি তাঁর কারারক্ষীর অন্ধ মেয়েকে একটি চিঠি লিখেছিলেন, যার নিচে লেখা ছিল— ‘ফ্রম ইয়োর ভ্যালেন্টাইন’। সেই থেকে তাঁর আত্মত্যাগের স্মরণে এই দিনটি পালিত হয়ে আসছে।

আধুনিক সময়ে ভালোবাসা কেবল একদিনে সীমাবদ্ধ নেই। ৭ ফেব্রুয়ারি ‘রোজ ডে’ বা গোলাপ দিবস দিয়ে শুরু হয় ভ্যালেন্টাইনস উইক বা ‘ভালোবাসার সপ্তাহ’। এরপর একে একে প্রপোজ ডে, চকোলেট ডে, টেডি ডে, প্রমিজ ডে, হাগ ডে এবং কিস ডে পেরিয়ে আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত উদযাপনের দিন।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভালোবাসা দিবসের সংজ্ঞায় এসেছে বদল। এখন এই দিনটি কেবল প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। অনেকে মা-বাবা, ভাই-বোন কিংবা প্রিয় বন্ধুর সাথেও দিনটি ভাগ করে নিচ্ছেন। ডিজিটাল যুগে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভালোবাসার ছবি আর ভিডিও বার্তার বন্যায় ভাসছে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম।

ভালোবাসার নির্দিষ্ট কোনো দিন হয় না সত্য, তবে বছরের এই একটি দিন যেন মানুষকে শেখায় ঘৃণা ভুলে একে অপরকে ভালোবাসতে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা আর সহমর্মিতাই যেন হয় এবারের ভ্যালেন্টাইনস ডে-র মূল লক্ষ্য।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker