চোরবাগানে কীভাবে তৈরি হল ‘মৃত্যুফাঁদ’? ফরেনসিক রিপোর্টে উঠে এল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

SOBDIK NEWS: চোরবাগানের দুর্ঘটনার (Chorbagan Incident)তদন্তে ফরেন্সিক রিপোর্টে উঠে এল মণ্ডপের ভিতরের পরিবেশ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। ১৩৪ টন ক্ষমতার ২৪টি এসি থাকা সত্ত্বেও কেন পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গেল না? ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণে সামনে এসেছে ভিড়ের চাপ এবং বাতাস চলাচলের ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কথা। ফলে শুধু ভিড় নিয়ন্ত্রণ নয়, মণ্ডপের নকশা ও নিরাপত্তা পরিকল্পনাও এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
চোরবাগানের দুর্ঘটনার (Chorbagan Incident) ফরেন্সিক রিপোর্ট
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অনুযায়ী, মণ্ডপে লোকসংখ্যা স্বাভাবিক থাকলে কিংবা দর্শনার্থীদের প্রবেশ ও বেরনোর ব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হলে ওই ক্ষমতার শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যথেষ্ট হতে পারত। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক মানুষ জমায়েত হওয়ায় এসির ক্ষমতা এবং ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত হয়ে পড়ে বলে তাঁদের দাবি।
এই পরিস্থিতির মধ্যে মণ্ডপ ছেড়ে দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বহু দর্শনার্থী। একসঙ্গে এত মানুষের বেরনোর চাপে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে এবং পদপিষ্ট হওয়ার মতো বিপর্যয় ঘটে। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টেও শ্বাসরোধের কারণে মৃত্যুর বিষয়টি উঠে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। তাই মণ্ডপে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা ছিল কি না, সেই প্রশ্ন এখন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে ফরেনসিক পর্যবেক্ষণ ও প্রাথমিক ময়নাতদন্তের তথ্যের ভিত্তিতেই দুর্ঘটনার সম্পূর্ণ কারণ চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা যায় না; তদন্তের বাকি তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রসঙ্গত, ঘটনাটি ঘটে গত ১৭ অক্টোবর, শনিবার, দুর্গাপুজোর সপ্তমীতে। চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপে ঠাকুর দেখতে গিয়ে ভয়াবহ ভিড়ের মধ্যে পড়েন দর্শনার্থীরা। প্রাণ হারান ১৯ জন, আহত হন অন্তত ২৫ জন। উৎসবের দিনে এমন মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে আসে। এরপর থেকেই দুর্ঘটনার পিছনে কী কী কারণ কাজ করেছে এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনও ঘাটতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জোরালো হয়।
তদন্তের পরিধি নির্ধারণেও দ্রুত পদক্ষেপ করা হয়। ঘটনার রাতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হাই কোর্টের কোনও বিচারপতিকে মাথায় রেখে তদন্তকারী দল গঠনের ঘোষণা করেন। পরবর্তী সময়ে মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি লেখেন। আদালত অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত কমিশন গঠনের নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশ অনুযায়ী রাজ্য সরকার বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট তৈরি করেছে।

আরও পড়ুন : ১ কোটি ৫৮ লক্ষের সঙ্গে জুড়ল আরও ৮ লক্ষ নাম! পুজো মিটতেই অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে স্বস্তির খবর
অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীর নেতৃত্বে গঠিত এই দলে প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের প্রতিনিধিদের রাখা হয়েছে। সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন বিপর্যয় মোকাবিলা ও নাগরিক সুরক্ষা দপ্তরের সচিব, স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের ডিজি ও আইজি। এছাড়াও জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্য, স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিনিধি এবং রাজ্য পুলিশের ডিজির একজন প্রতিনিধি এই তদন্তের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন। ফরেনসিক রিপোর্টে উঠে আসা তথ্য তদন্তকে নতুন দিশা দিতে পারে।




