0%

বিজেপির বুকস্টলে ২ কোটির বই বিক্রি, ক্ষমতায় এসে পুজোর বাজারে বড় সাফল্য গেরুয়া শিবিরের | Bhartiya Janata Party Book Stall Rs 2 Crore Book Sales During Durga Puja

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: দীর্ঘদিন বিরোধী দলের ভূমিকায় লড়াই করার পর প্রথমবার বাংলার ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। বিধানসভায় রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার দুর্গাপুজোকে ঘিরেও নিজেদের উপস্থিতি আরও জোরদার করার চেষ্টা করেছে গেরুয়া শিবির। পুজোর মণ্ডপে মানুষের ঢলকে কাজে লাগিয়ে জনসংযোগের পাশাপাশি নিজেদের রাজনৈতিক মতাদর্শ ও সরকারের কাজকর্ম তুলে ধরতে রাজ্যজুড়ে বুক স্টল সাজিয়েছিল বিজেপি। আর সেই বই বিক্রিকে ঘিরেই সামনে এসেছে চমকে দেওয়া তথ্য। এবারের দুর্গাপুজোয় (Durga Puja) বিজেপির (Bhartiya Janata Party) বুক স্টলগুলি (Book Stall) থেকে প্রায় ২ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

বুক স্টল নিয়ে বাধার সম্মুখীন CPIM

অন্যদিকে, পুজোর বুক স্টল ঘিরে সিপিএমকে যথেষ্ট বাধা ও বিতর্কের মুখে পড়তে হয়েছে। যাদবপুরের ৮বি বাসস্ট্যান্ডের কাছে সিপিএমের বুক স্টল সরানোকে কেন্দ্র করে পুলিশ, পুরসভা ও দলের কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। বিষয়টি কলকাতা হাই কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। আদালত জানায়, প্রয়োজনীয় অনুমতি না থাকায় ওই স্টল চালানোর ক্ষেত্রে সিপিএম আইনি সুরক্ষা পাবে না। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বামেদের বুক স্টল ভাঙচুর ও বাধা দেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতির বিপরীতে বিজেপির বুক স্টল ঘিরে বিক্রির বড় অঙ্ক রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে বাধার মুখে পড়লেও সিপিএমের বই বিক্রিও কম হয়নি। বিভিন্ন প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিপিএমের দাবি, রাজ্যজুড়ে তাদের স্টল থেকে প্রায় ১ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ, রাজনৈতিক সংঘাতের আবহেও বইয়ের বাজারে বামেদের পাঠক-সমর্থন যে পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি, তা স্পষ্ট।

বিজেপির বুক স্টল ঘিরে এবারের পরিকল্পনাও ছিল বড়সড়। সূত্র অনুযায়ী, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দেড় হাজারেরও বেশি বুক স্টল তৈরির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল দল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক জীবন ও প্রশাসনিক কাজকর্ম, জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও আদর্শ, বিজেপির উত্থানের ইতিহাস, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের কার্যকলাপ এবং হিন্দুত্ব ও জাতীয়তাবাদ সংক্রান্ত বই রাখা হয়েছিল এই বুক স্টলগুলিতে। পাশাপাশি কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প এবং সাফল্যের কথা তুলে ধরার জন্য বিশেষ পুস্তিকা বিলির পরিকল্পনাও ছিল। মূলত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের জীবনী, মতাদর্শভিত্তিক বই এবং সরকারের কাজের বিবরণ এই উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। পুজোর অবসরে দর্শনার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দিয়ে রাজনৈতিক প্রচারকে আরও বিস্তৃত করার কৌশল নিয়েছিল বিজেপি।

‘মিনি পাকিস্তান’ বিতর্কে ফের সরব ফিরহাদ হাকিম, কী সাফাই দিলেন তিনি?

সব মিলিয়ে, বাংলার রাজনীতিতে বিজেপির উত্থানের পর এবারের দুর্গাপুজো তাদের কাছে শুধু উৎসবের মরশুম নয়, বরং নিজেদের প্রভাব বিস্তারেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠেছে। একদিকে রাজ্যের ক্ষমতা দখল, অন্যদিকে পুজোর বুক স্টল ঘিরে প্রায় ২ কোটি টাকার বই বিক্রির খবর, দুই ক্ষেত্রেই গেরুয়া শিবিরের সাফল্যের ছবি তুলে ধরছে এই পরিসংখ্যান। তবে বই বিক্রির অঙ্ক রাজনৈতিক জনপ্রিয়তার সরাসরি মাপকাঠি নয়। তারই প্রমাণ দিয়েছে সিপিএমের বুক স্টল। বামেদের স্টলগুলিতে প্রায় ১ কোটি টাকার বই বিক্রির দাবি প্রমাণ করেছে আমাদের সমাজে একাধিক রাজনৈতিক মতাদর্শেরই পাঠক রয়েছে, আর মানুষের হাতেই রয়েছে আসল ক্ষমতা। তাই এই ক্ষমতার পালাবদলের পর বিজেপি কতটা স্থায়ী জনসমর্থন গড়ে তুলতে পারে, তা সময়ই বলবে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker