তৃণমূল থেকে বিজেপিতে আসছেন কাউন্সিলররা! পুরভোটের টিকিট নিয়ে মুখ খুললেন সুকান্ত

SOBDIK NEWS: পুরভোটের প্রস্তুতির মাঝেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জোরালো হয়েছে দলবদলের আলোচনা। শোনা যাচ্ছে, তৃণমূলের কয়েকজন কাউন্সিলর গেরুয়া শিবিরে নাম লেখাতে পারেন। তাঁদের মধ্যে কারও কারও বিজেপির প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও জল্পনা ছড়িয়েছে। এ প্রসঙ্গে প্রকাশ্যে মুখ খুললেন সাংসদ সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumder)।
কী বললেন সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumder)?
শুক্রবার বঙ্গ বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। পুরভোটের প্রস্তুতি, প্রার্থী বাছাই এবং দলের নির্বাচনী পরিকল্পনা নিয়ে সেখানে আলোচনা হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। বৈঠক শুরুর আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন সুকান্ত। তৃণমূলের কাউন্সিলরদের বিজেপিতে যোগদান এবং তাঁদের টিকিট দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি স্পষ্ট উত্তর দেন।
সুকান্ত মজুমদার বলেন, “টিকিট দেওয়া তো দূর, আমি চাই না ওখান থেকে কেউ দলে আসুক। আর শমীক দা যখন বলেছেন নো এন্ট্রি, তখন সেটাই। এরপর বাকি সিদ্ধান্ত দলের হাতে।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, তৃণমূলের কাউন্সিলরদের বিজেপিতে যোগদান নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তাতে ব্যক্তিগতভাবে উৎসাহ নেই তাঁর। তবে প্রার্থী বাছাইয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যে দলই নেবে, সে কথাও জানিয়ে দিয়েছেন সাংসদ। ফলে এই বিষয়ে রাজ্য বিজেপির অবস্থান শেষ পর্যন্ত কী হয়, তা জানতে দলের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে থাকতে হবে।
পুরভোটে তৃণমূল ও কংগ্রেসের মধ্যে জোট বা আসন সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। সেই প্রসঙ্গে দুই দলের রাজনৈতিক অবস্থানকে কটাক্ষ করে সুকান্ত বলেন, “কানা-খোড়ার গল্প আমরা সকলেই জানি। একজন দেখতে পায় না, একজন হাঁটতে পারে না। দুজন একসঙ্গে হয়। এবার এখানে কে কার ঘাড়ে উঠবে আমি বলতে পারব না।”

আরও পড়ুন : বেতন ১৫ হাজার পেরোলেই কি PF কাটবে! EPFO-র নতুন নিয়মে কী বদলাচ্ছে?
অন্যদিকে, তৃণমূলের তিন নেত্রী অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়, দেবলীনা বিশ্বাস ও জুঁই বিশ্বাসকে ঘিরেও দলবদলের আলোচনা চলছে। তাঁদের বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। তবে এই জল্পনার সত্যতা বা তাঁদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পদক্ষেপ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনও ঘোষণা সামনে আসেনি। এর আগে বৃহস্পতিবারই শমীক ভট্টাচার্য জানিয়ে দিয়েছিলেন, তৃণমূলের কোনও কাউন্সিলরকে বিজেপির টিকিট দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “তৃণমূলের কোনও কাউন্সিলর বিজেপির টিকিট পাবে না। ওঁদের শুভ বিজয়া। মানুষ বিজেপিকে নির্বাচনে জয়ী করে রাজ্যে ক্ষমতায় এনেছে। শুধুমাত্র জামার পরিবর্তন নয়, ভিতরের মানুষটার পরিবর্তনের জন্য।” শেষ পর্যন্ত বিজেপি পুরসভা দখলের লড়াইয়ে পুরনো কর্মীদের উপরই নির্ভর করবে, নাকি অন্য কোনও কৌশল নেবে, তার উত্তর মিলবে দলের পরবর্তী পদক্ষেপে।




