যুদ্ধের ময়দানেও এপস্টেইন! ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নয়, ‘কেচ্ছা’ অস্ত্রে সৌদিকে ঘায়েলের ছক হাউথির

যুদ্ধের ময়দানে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্রে সৌদি আরবকে ছিন্নভিন্ন করছে ইয়েমেনের হাউথি গোষ্ঠী। তবে শুধু মারণাস্ত্র নয়, এই যুদ্ধে আরও এক অস্ত্র সুপরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করছে হাউথিরা। তা হল ‘কেচ্ছা’। মার্কিন আদালতের তরফে প্রকাশিত কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের কুকীর্তি ও তার সঙ্গে সৌদির যোগ প্রকাশ্যে এনে ব্যাপক প্রচার শুরু করেছে হাউথি গোষ্ঠী। সৌদি নেতৃত্বের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে এটাই এখন অস্ত্র হয়ে উঠেছে তাদের। গোটা ঘটনায় যারপরনাই বিপাকে সৌদি আরব।
গতমাসে সৌদি আরবের তরফে অভিযোগ করা হয়েছিল, হাউথিরা পবিত্র মক্কা নগরীতে ড্রোন হামলা করেছে। সৌদির উদ্দেশ্য ছিল, এই হামলায় মুসলিম বিশ্বকে নিজেদের দিকে টেনে আনা। এই ঘটনার পালটা সৌদি নেতৃত্বের কুকীর্তি প্রকাশ্যে এনে প্রচার শুরু করেছে হাউথি। তাঁদের অভিযোগ, সৌদি রাজপরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা ব্যক্তিরা পবিত্র কাবার গিলাফ (কালো রঙের একটি বিশেষ রেশমি বস্ত্রখণ্ড যা দিয়ে পবিত্র কাবা শরিফকে ঢেকে রাখা হয়) কুখ্যাত অপরাধী এপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপে পাঠিয়েছিলেন। হাউথির প্রেসিডেন্ট মাহদি আল-মাশাত বলেন, যাঁরা এপস্টেইনকে কাবার গিলাফ দিয়েছিলেন তাঁরাই মক্কাকে নিশানা করছেন। এই ঘটনায় সৌদির তরফে অবশ্য কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
সৌদি রাজপরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা ব্যক্তিরা পবিত্র কাবার গিলাফ (কালো রঙের একটি বিশেষ রেশমি বস্ত্রখণ্ড যা দিয়ে পবিত্র কাবা শরিফকে ঢেকে রাখা হয়) কুখ্যাত অপরাধী এপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপে পাঠিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, মার্কিন বিচার বিভাগের তরফে সম্প্রতি এপস্টেইন সংক্রান্ত বহু নথি প্রকাশ করা হয়। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই নথিতে এই ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। বলা হয়েছে, সৌদি রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ মহল থেকে পবিত্র কাবার গিলাফ এপস্টেইনের ক্যারিবিয়ান দ্বীপে পাঠানো হয়েছিল। প্রকাশিত একটি ছবিতে এপস্টাইনের বাড়ির মেঝেতে কার্পেট হিসেবে ওই পবিত্র বস্ত্রের ব্যবহার দেখা গেছে বলে দাবি। নিঃসন্দেহে এই ঘটনা মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে তাঁদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত। সেটাই এখন সৌদির কাছে উদ্বেগের হয়ে উঠেছে।
এদিকে সৌদির বিরুদ্ধে হাউথিদের রাজনৈতিক ভাষণে বারবার উঠে আসছে এপস্টেইন প্রসঙ্গ। ভাষণের পাশাপাশি এই বিষয়ে একাধিক ভিডিও বার্তা এমনকী গান বাঁধাও হয়েছে। যা সৌদির জন্য মোটেই সুখকর নয়। অবশ্য অতিতেও বারবার হাউথিদের কাছে অস্ত্র হয়েছে এপস্টেইন ইস্যু। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইজরায়েলে হামাসের হামলার প্রশংসা করে চলতি মাসে এক ভাষণে এপস্টিনের কথা উল্লেখ করেন হাউথি নেতা আবদুল-মালিক আল-হাউথি। গত ফেব্রুয়ারিতে এক বক্তব্যে আল-হাউথি বলেন, ‘এপস্টেইনের ফাইলগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার। এগুলো এমন এক জায়নবাদী আঁতুড়ঘর উন্মোচন করে, যা নেতা ও অভিজাতদের গড়ে তোলে।’
শেয়ার
লিংক



