‘প্রচারে যাচ্ছি’ অজুহাতে ট্রাফিক আইনের ছাড়, শহরজুড়ে চলছে তৃণমূলের বাইক বাহিনীর দাপট

বাংলা হান্ট ডেস্ক : ভোটের আবহে (Assembly Election) রাজনৈতিক উত্তাপ যত বাড়ছে, ততই চোখে পড়ছে কিছু বেপরোয়া ছবি। রাস্তাজুড়ে হুঙ্কার তুলে ছুটছে মোটরবাইক, বাতাসে উড়ছে তৃণমূলের (Trinamool Congress) দলীয় পতাকা, আর তার মাঝেই উধাও ট্রাফিক আইনের বালাই। উত্তরবঙ্গের ধূপগুড়িতে এখন এমনই ছবি সকলের চেনা। ভোটের প্রাক্কালে এই বেপরোয়া বাইক বাহিনীর দাপট ঘিরে উঠছে নানান প্রশ্ন, তৈরি হচ্ছে বিতর্ক।
তৃণমূলের (Trinamool Congress) বাইক বাহিনীর দাপট
স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, এই মোটর বাইক চালকরা অধিকাংশই তরুণ-কিশোর বয়সের। ফাঁকা রাস্তা পেলে এঁকেবেঁকে স্টান্ট দেখাচ্ছে তারা। মাথায় নেই হেলমেট, ট্রাফিক আইন মানার কোন প্রশ্নই নেই। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণত ট্রাফিক পুলিশের কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও অভিযোগ উঠছে এই ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে ব্যতিক্রম ছবি। কারণ হিসেবে সামনে আসছে রাজনৈতিক পতাকার বিষয়টি। তৃণমূলের পতাকা লাগানো থাকায় অনেক সময় পুলিশ ব্যবস্থা নিতে পিছিয়ে যাচ্ছে।
ঘটনাটি সামনে এসেছে ধূপগুড়ির বিভিন্ন এলাকায়। ভোট প্রচারকে হাতিয়ার করে ঘুরে বেড়াচ্ছে এই বাইক বাহিনী। ট্রাফিক পুলিশ ধরলেও অজুহাত একটাই ‘প্রচারে যাচ্ছি’। ট্রাফিক আইন নিয়ে বিশেষ কড়াকড়ি করলে তারা আবার হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। যদিও অন্য সময় ধূপগিড়ি শহরে ট্রাফিক আইন যথেষ্ট কড়া। কিন্তু ভোটের আবহে এই ট্রাফিক আইনেই এই শিথিলতা নিয়ে সরব রয়েছেন বিরোধী শিবির।
বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা সাধারণ সম্পাদক চন্দন দত্ত বলেন, “তৃণমূল করলে সাত খুন মাফ। তাই তৃণমূলের পতাকা লাগিয়ে যুবকরা হেলমেট ছাড়াই মোটরবাইকে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।” সিপিএমের ধূপগুড়ি এরিয়া কমিটির সম্পাদক জয়ন্ত মজুমদার বলেন,”এটা নতুন কিছু নয়।” কংগ্রেস প্রার্থী হরিশচন্দ্র রায়ের মন্তব্য, “তৃণমূলের জন্য আলাদা আইন চলে।”
সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে জলপাইগুড়ি জেলা সাধারণ সম্পাদক রাজেশকুমার সিং বলেন, “নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে আমাদের মিছিল-মিটিং হচ্ছে। এখন কেউ যদি অতি উৎসাহ নিয়ে তৃণমূলের পতাকা লাগিয়ে হেলমেট ছাড়া মোটরবাইকে চেপে ঘুরে বেড়ায়, সেটা দেখার দায়িত্ব পুলিশ-প্রশাসনের। পুলিশ কড়া পদক্ষেপ করুক।”
আরও পড়ুন : শহরে বেড়েছে হকারদের জবরদখল, ভোটের পরেই পদক্ষেপ নেবে পুরসভা
তৃণমূলের দলীয় পতাকা দেখে যে পুলিশরা ছাড় দিচ্ছে এই অভিযোগ মানতে চাননি ধূপগুড়ি থানার আইসি প্রশান্ত চামলিং। তিনি বলেন, “কেউ যদি দলীয় পতাকা লাগিয়ে বাইক র্যালি করে, তাহলে সেটা দেখার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের এমসিসি টিমের। তবে আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি নজরে এলেই ট্র্যাফিক পুলিশ কড়া পদক্ষেপ করবে।” ভোট আবহে রাস্তায় নিরাপত্তা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি যে কোনওভাবেই অবহেলা করা যায় না, সেই বার্তাই আরও একবার সামনে এল।



