0%

ফের মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা? মার্কিন সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের হামলা, ধ্বংস অত্যাধুনিক রিপার ড্রোন

বাংলাহান্ট ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে সংঘর্ষবিরতি কার্যকর থাকলেও বাস্তবে যে পরিস্থিতি ক্রমশ অস্থির হয়ে উঠছে, তারই নতুন প্রমাণ মিলল কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন সেনাঘাঁটিতে ইরানের (Iran-US War) ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায়। শনিবার প্রকাশ্যে আসা তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। এই ঘটনায় একাধিক মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমেরিকার অত্যাধুনিক নজরদারি ও আক্রমণক্ষম এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন। যদিও ক্ষেপণাস্ত্রটি লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি বলে দাবি করেছে মার্কিন প্রশাসন, তবুও ঘটনাটি নতুন করে পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

মার্কিন সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের (Iran-US) হামলা, ধ্বংস অত্যাধুনিক রিপার ড্রোন

ইরানের ইসলামিক রিভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তাদের দাবি, সম্প্রতি ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে বন্দর আব্বাস অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর হামলার জবাব হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, আমেরিকার সামরিক উপস্থিতি এবং আক্রমণাত্মক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিতেই এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরও হামলার ঘটনা নিশ্চিত করেছে। তাদের বক্তব্য, ইরান ফতেহ-১১০ শ্রেণির একটি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছিল। তবে কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটিকে মাঝ আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়। যদিও ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ বিমানঘাঁটির একটি অংশে আছড়ে পড়ে এবং তার ফলেই কয়েকজন সেনা আহত হন।

আরও পড়ুন: উড়ান চলাচল ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত বড় পদক্ষেপ! এই বিমানবন্দরে শুরু ভারতের প্রথম Skycast সিস্টেম

সামরিক সূত্রে জানা গিয়েছে, হামলার ফলে দুটি ড্রোন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। অত্যাধুনিক এই ড্রোনগুলি মার্কিন সামরিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। দীর্ঘ সময় ধরে আকাশে অবস্থান করে নজরদারি চালানো, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা এবং প্রয়োজন হলে নির্ভুল হামলা চালানোর ক্ষমতা রয়েছে এই ড্রোনের। প্রতিটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনের মূল্য প্রায় ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ফলে একটি ড্রোন ধ্বংস হওয়াকে শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, সামরিক সক্ষমতার ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা প্রমাণ করছে যে সংঘর্ষবিরতি থাকলেও অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা এখনও অত্যন্ত স্পর্শকাতর অবস্থায় রয়েছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ইরান ও আমেরিকার মধ্যে পারমাণবিক চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছিল। উভয় পক্ষের বক্তব্যে কিছুটা আশাবাদও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাবলি সেই সম্ভাবনাকে বড় ধাক্কা দিয়েছে। শুক্রবার হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি কিংবা হরমুজ প্রণালী পুনরায় সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত করার বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ইরানের তরফেও জানানো হয়েছে, আলোচনা চললেও কোনও সমঝোতা এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। ফলে কূটনৈতিক উদ্যোগের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

Iran-US War took a new turn again

আরও পড়ুন: কলকাতা ছাড়িয়ে জেলার শহরেও ছুটবে মেট্রো, কেন্দ্রের উদ্যোগে বড় সিদ্ধান্ত রাজ্যের

বিশ্লেষকদের মতে, কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুধু একটি সামরিক ঘটনা নয়, বরং তা বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক সংকটের ইঙ্গিত বহন করছে। হরমুজ প্রণালী, লোহিত সাগর এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। তার উপর নতুন করে মার্কিন ও ইরানি (Iran-US War) বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের আবহ তৈরি হলে জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা আরও চাপে পড়তে পারে। ফলে সংঘর্ষবিরতি কাগজে-কলমে বহাল থাকলেও বাস্তবে পরিস্থিতি যে ক্রমশ আরও জটিল ও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker