Kalyan Banerjee Reaction On Abhishek Banerjee

সবদিক নিউজ: একেই হয়তো বলে রাজনীতির অলিন্দে অভিজ্ঞ ‘চাণক্য’ চাল। গত কয়েকদিন ধরে প্রবীণ বনাম নবীন দ্বন্দ্বে তৃণমূলের (TMC) অন্দরে যে চরম বিবাদ ও ভাঙনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি মাত্র রাজনৈতিক চালে তার রাশ টেনে ধরলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) কালীঘাটের বাড়ি থেকে দীর্ঘ রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে বেরিয়ে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ সংবাদমাধ্যমের সামনে সাফ জানিয়ে দেন, ‘কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আমায় ছোট থেকে বড় করেছেন, ওঁর পূর্ণ অধিকার আছে আমায় দুটো কড়া কথা শোনানোর।’ অভিষেকের এই অভাবনীয় এবং পরিণত রাজনৈতিক সৌজন্যের পরেই যেন এক লহমায় গলে জল হয়ে গেল শ্রীরামপুরের বিক্ষুব্ধ প্রবীণ তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Kalyan Banerjee) সমস্ত মান-অভিমান।
“সম্মানটুকু দিয়ে চললে একসঙ্গে কাজ করতে আপত্তি নেই”
অভিষেকের সেই ‘ম্যাজিক’ মন্তব্যের পরিপ্রক্ষিতে এবার পাল্টা মুখ খুললেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সেখানে আগের সেই ঝাঁঝালো সুর বা দলকে দেওয়া চরম আলটিমেটাম পুরোপুরি উধাও। বরং সুর অনেকটাই নরম করে প্রবীণ সাংসদ স্পষ্ট করে দিলেন, সদিচ্ছা ও পারস্পরিক সম্মান পেলে তিনি অভিষেককে বুকে জড়িয়ে ধরে কাজ করতেও প্রস্তুত।
সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আমার সন্তানসম। একজন প্রবীণ ও বয়স্ক মানুষ হিসেবে তো আমার একটা ন্যূনতম সম্মান প্রাপ্য আছে। ও যদি সেই সম্মানটুকু দিয়ে চলে, তাহলে আমি ওকে বুকে জড়িয়ে ধরে একসঙ্গে কাজ করতে পারি। আমার এতে কোনও আপত্তি বা দ্বিধা নেই।”
ভুল স্বীকারকে মান্যতা, লক্ষ্য মোদি-বিরোধী লড়াই
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিনি ক্ষমা করলেন কি না, এই প্রশ্নের জবাবে কল্যাণ অত্যন্ত কূটনৈতিকভাবে জানান, “অভিষেক তো আমার কাছে নতুন করে কোনও ক্ষমা চায়নি। তবে ও যে নিজের ভুলটা বুঝতে পেরেছে এবং সেটা জনসমক্ষে স্বীকার করেছে, আমি ওঁর সেই ইতিবাচক অবস্থানকে মান্যতা দিচ্ছি। কেউ যদি নিজের ভুল বুঝতে পেরে তা মেনে নেয়, আমি সেটাকে আর গলদ বা অপরাধ বলে ভাবব না।”
একইসঙ্গে শ্রীরামপুরের সাংসদ মনে করিয়ে দেন, দলের অন্দরে কোনও পদের লোভ তাঁর নেই। তিনি শুধু যোগ্য সম্মান চান। আগামী দিনে মমতাদির নেতৃত্বে নরেন্দ্র মোদির স্বৈরাচারী নীতির বিরুদ্ধে এবং দেশের গণতন্ত্র ফেরানোর লড়াইয়ে তাঁরা সবাই একসঙ্গে সামিল হবেন। তবে কলকাতা হাইকোর্টে অভিষেকের ব্যক্তিগত আইনি লড়াই থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া প্রসঙ্গে এদিন কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখেন এই প্রবীণ আইনজীবী।
রাজনৈতিক মহলের মতে, চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে সিআইডি-র জোড়া নোটিস এবং দলের অন্দরে কল্যাণের লাগাতার তোপে যখন চরম কোণঠাসা দেখাচ্ছিল অভিষেককে, ঠিক তখনই বড়দের প্রতি ‘শ্রদ্ধা’ জানানোর তাস খেলে কল্যাণের মতো বিক্ষুব্ধ হেভিওয়েটকে ঠান্ডা করে দিলেন তিনি। আর কল্যাণের এই নমনীয় মনোভাবের পর ছাব্বিশের ভাঙনের আবহে অন্তহীন স্বস্তিতে ঘাসফুল শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বও।



