0%

Saayoni Ghosh: শাড়ি আউট টিশার্ট ইন, কেন মমতার মতো সাজতেন সেদিন সত্যিটা বলেছিলেন সায়নী

বাম দিকে মমতার মতো সাজগোজে সায়নী। ডানদিকে বর্তমানে ভোলবদলের সায়নী।

সাদা সুতির শাড়ি, এলোমেলো চুলে খোঁপার বদলে একেবারে এখন স্টেপ কাট, পরনে জিনস-টিশার্ট বা কুর্তি । হাওয়াই চপ্পলের বদলে স্নিকার। তৃণমূলের ভরাডুবির পর সায়নী ঘোষের কলকাতা টু দিল্লির এয়ারপোর্ট লুক একেবারেই এতদিনের তৃণমূলের ঘরানা থুরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণা থেকে একেবারে হটকে। তা কেন একসময় তৃণমূল সুপ্রিমোর লুক আ লাইক হয়ে উঠেছিলেন সায়নী? রুপোলি পর্দা থেকে রাজনীতির মঞ্চে আসার পর কেনই বা সাজগোজে ছিল মমতার ছোঁয়া? গত বছর নভেম্বর মাসে tv9bangla-র কাছে পুরোটা খোলসা করেছিলেন সায়নী ঘোষ।

সাজগোজে মমতার অনুপ্রেরণা নিয়ে কী বলেছিলেন সায়নী?

দীর্ঘদিন ধরেই সায়নী ঘোষকে চেনা ছকে দেখা যেত—সুতির সাদামাটা শাড়ি, কপালে ছোট টিপ আর চুলে সাধারণ খোঁপা। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই লুক ছিল আদতে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিরপরিচিত সাদাসিধে সাজের এক সযত্ন অনুকরণ। শীর্ষ নেতৃত্বের ভাবমূর্তির সঙ্গে নিজেকে একাত্ম করে মাটির কাছাকাছি থাকার একটা চেষ্টা ছিল তাঁর এই অবয়বে। তবে বিধানসভা নির্বাচনে দলের ধাক্কা খাওয়ার পর থেকেই যেন এক অন্য সায়নীকে দেখছে রাজ্য রাজনীতি। প্রথাগত ‘রাজনৈতিক ইউনিফর্ম’ ঝেড়ে ফেলে সায়নী এখন ধরা দিচ্ছেন সম্পূর্ণ আধুনিক অবতারে। চুলে এসেছে নতুন ছোট ছাঁট । শাড়ির বদলে কখনও তাঁকে দেখা যাচ্ছে জিনস-টি শার্টে, আবার কখনো ক্যাজুয়াল সালোয়ার-কামিজে।

অথচ মমতার মতো এই সাজপোশাক ধারণ করা নিয়ে সায়নীর নিজের যুক্তি ছিল বেশ জোরালো। গত বছর নভেম্বর মাসে ‘টিভি নাইন বাংলা’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের এই ‘দিদিপন্থী’ লুক নিয়ে মুখ খুলেছিলেন সায়নী ঘোষ। তিনি জানিয়েছিলেন, “আমি যে নেত্রীর দল করি, ওর দল করতে করতে আমাকে নরেন্দ্র মোদীর মতো দেখতে হলে মুশকিল হয়ে যাবে। বা ওর দল করতে করতে আমাকে যদি সিপিএমের নেতার মতো দেখতে লাগে বা সনিয়া গান্ধীর মতো দেখতে লাগে, সেটা তো সমস্যা। আমি যাঁর দল করি, আমাকে তাঁর মতো দেখতে লাগে, আমি তাঁর মতো সাধারণ থাকতে চাই। তাঁর মতোই মাটির কাছাকাছি থাকতে চাই। আমি কোনওদিনই, খুব বাড়াবাড়ি সাজতাম না। অভিনয় যখন করতাম, তখনও খুব সাধারণ সাজতাম। দিদিকে যত দেখছি, ততই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধারণ হওয়াটা আমার উপর ভর করে যাচ্ছে।”

দেখুন গত বছর নভেম্বর মাসের সেই সাক্ষাৎকার-

নভেম্বরের সেই সাক্ষাৎকারে যিনি দাবি করেছিলেন ‘দিদির সাধারণ হওয়াটা তাঁর ওপর ভর করে যাচ্ছে’, সেই সায়নীই নির্বাচনের পর চটজলদি নিজের খোলস বদলে ফেলায় স্বাভাবিকভাবেই উঠছে প্রশ্ন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের ভরাডুবির পর হয়তো সায়নী নিজের রাজনৈতিক ব্র্যান্ডিং নতুন করে সাজাতে চাইছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়া থেকে বেরিয়ে এসে নিজের স্বাধীন ইমেজকে পুনরুদ্ধার করতেই কি তাঁর এই পোশাকী মেকওভার? নাকি এর পেছনে রয়েছে দলীয় সমীকরণের কোনও সূক্ষ্ম দূরত্ব? কারণ যা-ই হোক না কেন, সায়নী ঘোষের এই ‘লুক চেঞ্জ’ যে কেবল ফ্যাশন স্টেটমেন্ট নয়, বরং বাংলার সমসাময়িক রাজনীতিতে এক নতুন আলোচনার খোরাক জোগাল, তা বলাই বাহুল্য।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker