‘ওয়াং ওয়াং-এর বিচার চাই’, বিক্ষোভে উত্তাল চিন, ৪ কুকুরে গদি টলমল জিনপিংয়ের!

চারটি অবলা প্রাণীর মৃত্যু। কিন্তু তাদের নিথর দেহ যেন জাগিয়ে তুলেছে লক্ষ লক্ষ মানুষের বিবেক। যে ‘ওয়াং ওয়াং’ ছিল নিছকই এক সারমেয়র নাম, আজ সেটাই চিনজুড়ে প্রতিবাদের প্রতীক। ‘ওয়াং ওয়াং-এর বিচার চাই’ – স্লোগানে পথে নেমেছেন অসংখ্য মানুষ। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে ক্ষোভের ঢেউ। আর সেই জনরোষের মুখে পড়ে এবার অস্বস্তিতে শি জিনপিং প্রশাসন।
ঠিক কী ঘটেছে? গত মাসে চিনের চার নাবালক নিষ্ঠুরভাবে একটি পথ কুকুর এবং তার তিন ছানাকে হত্যা করে। জানা যায়, মা সারমেয়টির নাম ওয়াং ওয়াং। যে নাবালকরা এই নৃশংস কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে তাদের কারও বয়সই ১৪ পেরোয়নি। তারা গোটা ঘটনাটি ক্যামেরাবন্দি করে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে। গত ২৮ জুন পাশবিক এই ঘটনার ভিডিওটি ভাইরাল হয় (যদিও ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল)। সেখানে দেখা যায়, ওয়াং ওয়াংয়ের গলায় তার পেঁচিয়ে তাকে মাটিতে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে চার নাবালক। এরপর ওয়াং ওয়াংকে তারা তার ছানাদের কাছে ফেলে দেয়। তারপর দাহ্য পদার্থ ঢেলে ওয়াং ওয়াং ও তার ছানাগুলিকে জ্যান্ত পুড়িয়ে হত্যা করে নাবালকরা। ভিডিওটি ভাইরাল হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন চিনবাসী। শুধু তাই নয়, চিন পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে প্রতিবাদের আগুন। ওয়াং ওয়াংয়ের বিচারের দাবিতে সোচ্চার হন প্রত্যেকে। নৃশংস এই ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৮ জুন চিনের জিয়েয়াং জেলার শিনহেং শহরের পিংপু গ্রামে।
আরও পড়ুন:
ওয়াং ওয়াংয়ের বিচার চেয়ে চিনের বিভিন্ন প্রান্তে পড়েছে পোস্টার। যেখানে লেখা – ‘জাস্টিস ফর ওয়াং ওয়াং’। শুধু তাই নয়, স্টিকার, ব্যাচ প্রভৃতি বিক্রি হওয়াও শুরু হয়েছে। বহু মানুষ সেগুলি কিনে দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার করতেও শুরু করেছেন। তাৎপর্যপূর্ণভাবে পশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে চিনে কোনও আইন নেই। সেই বিষয়টি উথ্থাপন করে দেশে অবিলম্বে পশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে আইন আনার দাবি জানিয়েছেন চিনের পশুপ্রেমীরা। এদিকে বিক্ষোভ দমাতে সমস্ত পোস্টার খুলে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে জিনপিংয়ের সরকার। শুধু তাই নয়, সমাজমাধ্যমেও এধরনের কোনও পোস্ট করা যাবে না বলে জানানো হয়েছে, যার জেরে ক্ষুব্ধ চিনবাসীর একাংশ। এছাড়া ওয়াং ওয়াংয়ের বিচারের দাবিতে করা সমাজমাধ্যমে পোস্টগুলি মুছে ফেলারও নির্দেশ দিয়েছে জিনপিং প্রশাসন।
কিন্তু এটা কি শুধুই ওয়াং ওয়াংয়ের বিচার চেয়ে আন্দোলন? তেমনটা নয়। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চিনা সরকারের নানা নীতি, কড়া নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের অসন্তোষ চাপা আগুনের মতো জমে ছিল। ওয়াং ওয়াংয়ের ঘটনাটি সেই জমে থাকা ক্ষোভেরই বিস্ফোরণ মাত্র। অর্থাৎ, ওয়াং ওয়াং যেন কেবল একটি প্রতীক -যার হাত ধরে রাস্তায় নেমে এসেছে বহুদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ।
পশুহত্যা ছাড়াও চিনে শ্রমিকদের উপর অত্যাচার, হংকং-এ চিনা আগ্রাসনে ক্ষিপ্ত সে দেশের সাধারণ মানুষ। ওয়াং ওয়াংকে ঘিরে ক্ষোভ যত বাড়ছে, ততই যেন কপালে ভাঁজ পড়ছে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের। চার কুকুরের মৃত্যুর বিচার চেয়ে শুরু হওয়া প্রতিবাদ এখন চিনা সরকারের বিরুদ্ধে জমে থাকা অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশে পরিণত হয়েছে। ফলে একটি আপাত বিচ্ছিন্ন ঘটনা যেভাবে বৃহত্তর রাজনৈতিক ক্ষোভের প্রতীকে পরিণত হচ্ছে, তা নিয়ে বেজিংয়ের অস্বস্তি ক্রমেই বাড়ছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
শেয়ার
লিংক



