0%

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের রক্তাক্ত অধ্যায়ের সাক্ষী, পুড়ে ছাই হিটলারের কুখ্যাত আস্তানা ‘ঈগলস নেস্ট’!

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের রক্তাক্ত ইতিহাসের সাক্ষী। জার্মানির নাৎসি বাহিনীর সর্বাধিনায়ক অ্যাডলফ হিটলারের সেই কুখ্যাত আস্তানা ‘কেলস্টাইনহাউস’ বা ‘ঈগলস নেস্ট’-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। কিন্তু কীভাবে আগুন লাগল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যেই এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সূত্রের খবর, অগ্নিকাণ্ডের জেরে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঐতিহাসিক বাড়িটি।

একাধিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, শনিবার রাত ৯টা নাগাদ (স্থানীয় সময়) বাভারিয়া অঞ্চলের বের্চটেসগাডেনের কাছে অবস্থিত ‘কেলস্টাইনহাউস’-এ আচমকা আগুন লেগে যায়। কালো ধোঁয়ায় ঢাকে আকাশ। খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ এবং দমকল। কিন্তু তারা সেখানে পৌঁছনোর আগেই আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল। শুধু তাই নয়, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বাড়িটি অবস্থিত হওয়ায় আগুন নেভানোর কাজেও প্রাথমিকভাবে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় দমকলকর্মীদের। জানা গিয়েছে, আগুন নেভানোর কাজে মোতায়েন করা হয় প্রায় ২০০ জনকে। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় জরুরি পরিষেবার কর্মীরাও। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি আগুন। তবে ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর মেলেনি। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, বাড়িটিতে  ইচ্ছাকৃতভাবে অগ্নিসংযোগ করে দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতের নাম আরসন। 

‘ঈগলস নেস্ট’-এ ভয়ংকর আগুন। ছবি: সংগৃহীত।

জার্মানির বাভারিয়া অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১ হাজার ৮৩৪ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই ‘কেলস্টাইনহাউস’। ১৯৩৭-৩৮ সালে অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য এবং আমোদপ্রমোদের জন্য হিটলার এটি নির্মাণ করেছিলেন। তবে নাৎসি নেতা খুব কমই এখানে আসতেন। কিন্তু ‘ঈগলস নেস্ট’ এমন নকশাতেই তৈরি করা হয়েছিল, যাতে লোকচক্ষুর আড়ালে এখানে বসে বিভিন্ন গোপন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা যায়। ১৯৫২ সাল থেকে এটি একটি সরাইখানা হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এই ঐতিহাসিক বাড়িটি বর্তমানে একটি জনপ্রিয় পর্যটনস্থল। শুধু তাই নয়, নাৎসি জার্মানির ইতিহাস নিয়ে এখানে প্রদর্শনীও হয়।

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker