শুভেন্দু-যোগীকে খুনের হুমকির দাবি ঘিরে চাঞ্চল্য! কে এই নাজিয়া ইলাহি খান, কেন বিতর্কে?

SOBDIK NEWS: সংবাদমাধ্যমের আলোচনায় উঠে এসেছেন বিজেপি নেত্রী নাজিয়া ইলাহি খান (Nazia Elahi Khan)। এবার তাঁর দাবি, পাকিস্তানের একটি ফোন নম্বর থেকে তাঁকে লাগাতার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, এই ঘটনায় জড়িত পাকিস্তানি গ্যাংস্টার শেহজাদ ভাট্টি ও তাঁর সহযোগীরা। শুধু নিজের নিরাপত্তা নিয়েই আশঙ্কা প্রকাশ করেননি নাজিয়া, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকেও নিশানা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। এই অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। নাজিয়ার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।
কে এই বিজেপি নেত্রী নাজিয়া (Nazia Elahi Khan)?
পেশায় আইনজীবী নাজিয়া ইলাহি খান ‘নাজিয়া সনাতনী’ নামেও পরিচিত। প্রায় এক দশক আগে তাৎক্ষণিক তিন তালাকের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের সূত্রে তাঁর পরিচিতি বাড়ে। এই মামলায় আবেদনকারী ইশরাত জাহানের হয়ে আইনি লড়াই করেছিলেন তিনি। ২০১৭ সালে সুপ্রিম কোর্ট তাৎক্ষণিক তিন তালাকের প্রথাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে। এই প্রথার বিরোধিতা করার কারণে নাজিয়া ও ইশরাত জাহানকে মুসলিম সম্প্রদায়ের একাংশের বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়েছিল বলে জানা যায়।
এর পরের বছর, অর্থাৎ ২০১৮ সালে, নাজিয়া ও ইশরাত জাহান বিজেপিতে যোগ দেন। পরে দলের সংখ্যালঘু মোর্চার সঙ্গেও যুক্ত হন নাজিয়া। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মুসলিম সমাজের বিভিন্ন প্রথা, মাদ্রাসা, ওয়াকফ এবং তিন তালাক নিয়ে তাঁর বক্তব্য সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ‘লাভ জিহাদ’-সহ একাধিক বিষয়েও মন্তব্য করেছেন তিনি। তাঁর কিছু বক্তব্যকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষমূলক বলে সমালোচনা করেছেন বিভিন্ন মহলের প্রতিনিধিরা।
নাজিয়াকে ঘিরে বিতর্ক নতুন নয়। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে উত্তরপ্রদেশে তাঁর কয়েকটি বক্তৃতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। গাজিয়াবাদ ও কানপুরে দেওয়া তাঁর বক্তব্যের কিছু ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিয়োগুলিতে মুসলিম সম্প্রদায় সম্পর্কে তাঁর মন্তব্য নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।

আরও পড়ুন : ক্রমাগত কমছে সোনার দাম! জানুন আজকের লেটেস্ট রেট
এবার নাজিয়ার দাবি, পাকিস্তানের একটি নম্বর থেকে একের পর এক ফোন ও হুমকির বার্তা আসছে তাঁর কাছে। শেহজাদ ভাট্টির সহযোগীদের সঙ্গে যুক্ত একটি নম্বর থেকে তাঁকে ভয় দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। নাজিয়ার বক্তব্য অনুযায়ী, হুমকির ভিডিয়ো এবং মেসেজ পশ্চিমবঙ্গের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) ও উত্তরপ্রদেশের অ্যান্টি টেররিজম স্কোয়াডের (এটিএস) কাছে পাঠানো হয়েছে। গাজিয়াবাদ পুলিশের আধিকারিকদেরও বিষয়টি জানিয়েছেন বলে দাবি তাঁর। এখন তদন্তের পর কোন তথ্য উঠে আসে, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।




