0%

পুলিশের উদ্যোগে চোরবাগানের প্রতিমা নিরঞ্জন, শোকের আবহে বিদায় জানালেন পাড়াবাসী

কলকাতার চোরবাগানের দুর্গাপ্রতিমা শেষ পর্যন্ত নিরঞ্জন হল নিমতলা ঘাটে। শনিবার বিকেলে পুলিশের উদ্যোগেই সম্পন্ন হয় গোটা প্রক্রিয়া। পুজো কমিটির কোনও সদস্যকে দেখা না গেলেও প্রতিমাকে মণ্ডপ থেকে বার করে গঙ্গার ঘাটে নিয়ে যাওয়া এবং নিরঞ্জনের ব্যবস্থা করে পুলিশ। অন্য দিকে, প্রতিমাকে বিদায় জানাতে গিয়ে আবেগে ভেঙে পড়েন এলাকার বহু বাসিন্দা।

প্রতিমা বার করে আনার জন্য শুক্রবারই মণ্ডপের গেটের একাংশ কাটা হয়েছিল। শনিবার দুপুরে শুরু হয় প্রতিমা বার করার তোড়জোড়। গোটা প্রক্রিয়া যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, তার জন্য এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়। গেটের কাটা অংশ দিয়ে প্রতিমা বার করে এনে নামিয়ে রাখা হয়। সেখানে মালা পরিয়ে প্রতিমাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান স্থানীয়রা।

– বিজ্ঞাপন –

প্রায় ৩৬ জন মিলে প্রতিমাকে রাস্তা দিয়ে বার করে আনেন। এলাকার বহু মহিলা রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রতিমাকে প্রণাম করে বিদায় জানান। কিন্তু মণ্ডপ থেকে গঙ্গার ঘাটে প্রতিমাকে কী ভাবে নিয়ে যাওয়া হবে, তা ঠিক করার মতো পুজো উদ্যোক্তা বা কমিটির কোনও সদস্য সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।

শেষ পর্যন্ত পুলিশই নিরঞ্জনের ব্যবস্থা করে। সিমলা ব্যায়াম সমিতির এক পুজো কর্মকর্তাকেও নিয়ে আসা হয়। প্রতিমা নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি লরি আনা হলেও দড়ি ও বাঁশের সাহায্যে সেটিতে প্রতিমা তোলা সম্ভব হয়নি। পরে পুলিশের উদ্যোগে একটি লোহার কার্টের ব্যবস্থা করা হয়। তাতেই প্রতিমাকে চাপিয়ে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ দিয়ে পুলিশি পাহারায় নিয়ে যাওয়া হয় নিমতলা ঘাটে। সেখানেই সম্পন্ন হয় নিরঞ্জন।

প্রতিমাকে বিদায় জানাতে গিয়ে চোখে জল

নিরঞ্জনের সময় এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ছিল গভীর বিষণ্ণতা। এক বয়স্ক মহিলা হাতজোড় করে প্রতিমাকে প্রণাম করেন। তাঁর চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ছিল জল। তিনি জানান, এ বছর যা ঘটে গিয়েছে, এমন ঘটনা যেন আর কখনও না ঘটে। কত মানুষের মৃত্যু দেখতে হয়েছে, কত পরিবারের আলো নিভে গিয়েছে—সেই যন্ত্রণা যেন আর ফিরে না আসে।

বিজ্ঞাপন

এলাকার অন্য বাসিন্দারাও প্রতিমাকে বিদায় জানানোর সময় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। এক স্থানীয় বাসিন্দার কথায়, এখনও সেই চিৎকার ও মৃত্যুর দৃশ্য চোখের সামনে ভেসে উঠছে। ঈশ্বরের কাছে তাঁদের প্রার্থনা, এমন দিন যেন আর দেখতে না হয়।

পুজো কমিটির সদস্যদের দেখা না মিললেও পাড়ার বেশ কয়েক জন বাসিন্দা নিরঞ্জনের সময় উপস্থিত ছিলেন। কয়েক জন মোমবাতি হাতে প্রতিমার আগে আগে হাঁটেন। একটি ট্রাকের সামনে কালো ব্যানারে মৃত ও আহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়।

পুলিশের উদ্যোগে শেষ পর্যন্ত নিরঞ্জন সম্পন্ন হলেও চোরবাগানের বাসিন্দাদের মনে এ বছরের ঘটনার শোক ও স্মৃতি রয়ে গেল। প্রতিমাকে বিদায় জানানোর মুহূর্তে তাঁদের প্রার্থনা—এমন মর্মান্তিক পরিস্থিতি যেন আর কখনও ফিরে না আসে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker