Japan: ডাচদের হাত থেকে জয় ছিনিয়ে নিলো দুরন্ত জাপান! বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবার ঘটলো এমন ঘটনা

বাংলা হান্ট নিউজ ডেস্কঃ এই বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) গ্ৰুপপর্বের যে ম্যাচগুলি নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহের অন্ত ছিল না, তার মধ্যে একটি ম্যাচ ছিল জাপান বনাম নেদারল্যান্ডস (Japan vs Netherlands) ম্যাচ। দুইবার পিছিয়ে পরেও ডাচদের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে আবারও জাপান (Japan) প্রমাণ করলো কেন তারা এশিয়া বিশ্বের গর্ব। ২০২২ বিশ্বকাপে তারা জার্মানিকে হারিয়ে গ্রুপ স্টেজ থেকে তাদের বাড়ি ফেরত পাঠিয়েছিল এশিয়ান জায়ান্টসরা। সেই একই মেজাজে এবার এই বিশ্বকাপের ফেভারিট নেদারল্যান্ডসকে (Netherlands) রুখে দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করলো ব্লু সামুরাইরা। চোটের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার দলে জায়গা না পেলেও দুর্দান্তভাবে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করলো তারা।
ম্যাচের প্রথমার্ধতে দুই দলই কিছু সুযোগ তৈরি করলেও শেষপর্যন্ত তা গোলশূন্যভাবে শেষ হয়। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের ছবি পুরোপুরি বদলে যায় যখন ৫১তম মিনিটে রোনাল্ড কোম্যানের দল গোলের দেখা পায়। রায়ান গ্রাভেনবার্খের বাড়ানো বল থেকে ক্লোজ রেঞ্জে লক্ষ্যভেদ করেন ডাচ অধিনায়ক ভার্জিল ভ্যান ডাইক। এটিই ছিল ম্যাচে ডাচ ডিফেন্ডারের একমাত্র শট এবং তা লক্ষ্যভেদও করে ফেলে। কিন্তু গোল খেয়ে দমে যায়নি জাপান। ৫৭তম মিনিটে তাকেফুসা কুবোর পাস থেকে কেইতো নাকামুরা চমৎকার গোল জাপানকে সমতায় ফেরত আনে।
কিন্তু জাপানের সেই আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ম্যাচের ৬৪তম মিনিটে গ্রাভেনবার্খের আরেকটি ঠিকানা লেখা পাস থেকে বল জালে জড়িয়ে ডাচদের আবারও এগিয়ে দেন সমারভিল। এটি ছিল ম্যাচে গ্রাভেনবার্খের দ্বিতীয় অ্যাসিস্ট। জাপানের পেনাল্টি বক্সে বার বার হানা দিয়ে তাদের চিন্তা বাড়ায় নেদারল্যান্ডস। বাধ্য হয়ে এরপর হাজিমে জাপান কোচ মোরিয়াসু বেঞ্চ থেকে জুনিয়া ইতো, ইউকিনারি সুগাওয়াড়া ও কোকি ওগাওয়াকে মাঠে এনে গতি দিয়ে ডাচদের চাপে ফেলার চেষ্টা করেন। ফলস্বরূপ ৮৯তম মিনিটে ওগাওয়ার পাস থেকে দাইচি কামাদার গোল স্কোরলাইন ২-২ করে দেয়। এরপর ছয় মিনিটের অতিরিক্ত সময় ডাচ খেলোয়াড়রা বেশ কয়েকবার মাথা গরম করে হলুদ কার্ড দেখলেও ম্যাচের ফলাফল আর বদলাতে পারেনি।
এই প্রথম বিশ্বকাপের কোনও ম্যাচে দুইবার এগিয়ে গিয়েও জিততে ব্যর্থ হলো নেদারল্যান্ডস। কিন্তু স্পষ্ঠতই দীর্ঘ সময় অবধি খেলা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল তারা। বলের দখল, এরিয়াল ডুয়েল, গোল লক্ষ্য করে শট, সব জায়গায় এগিয়ে ছিলেন ডাচরা। মাঝমাঠেও ফ্র্যাঙ্কি ডি জং-রা নিজেদের জাদু দেখিয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত জয় আসেনি। ম্যাচের স্কোরলাইন হতাশই করবে ডাচ কোচ রোনাল্ড কোম্যানকে।
এদিন দীর্ঘ সময় জাপান দলটি নিখুঁত ডিফেন্ডিং করে নিজেদের খেলায় ধরে রাখে। ধারে ভারে পিছিয়ে থাকলেও পরিকল্পনা মাফিক ফুটবল খেলে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এক পয়েন্ট অর্জন করে জাপান। এশিয়ার দেশটির গোলরক্ষক জিয়ন সুজুকি চারটি সেভ করেন। তার মধ্যে দুটি ক্ষেত্রে অসাধারণ রিফেলক্স প্রদর্শন করতে হয় তাকে। গ্রূপের পরবর্তী দুটি ম্যাচে সুইডেন ও তিউনিশিয়ার মুখোমুখি হওয়ার আগে বেশ কিছুটা স্বস্তিতেই থাকবে জাপান। তবে ২৫ বছর বয়সী প্রাক্তন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ও ‘জাপানি মেসি’ বলে পরিচিত কুবোর চোট চিন্তায় রাখবে তাদের।




