অফিসের পর এবার সরকারি কর্মীদের বাড়িতে বাধ্যতামূলক স্মার্ট মিটার! নির্দেশিকা জারি নবান্নের

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ আপনি কি রাজ্য সরকারের কর্মী? তাহলে আপনার জন্য বড় খবর! বিগত কিছুদিন ধরে স্মার্ট মিটার (Smart Meter) নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্মার্ট মিটার বসানোর জন্য কোমর কষেছে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থাগুলি। এবার জানা যাচ্ছে রাজ্য সরকারের কর্মী বা বলা ভালো সমস্ত শিক্ষক, অধ্যাপক, শিক্ষাকর্মী থেকে শুরু করে পুলিশদের বাড়িতে বা আবাসনে বসতে হবে স্মার্ট মিটার। এমনটাই নির্দেশিকা জারি হয়েছে নবান্ন (Nabanna) থেকে।
সরকারি কর্মীদের বাড়িতে বসছে Smart Meter
মে মাসে পালাবদলের পর জুনের শুরুতেই সরকারি অফিসে স্মার্ট মিটার বসানো হবে বলে জানানো হয়েছিল। এর জন্য আগামী ১লা আগস্টের ডেডলাইনও দেওয়া হয়। এবার অফিসের পাশাপাশি বাড়িতেও স্মার্ট মিটার বসানো হবে বলে জানা যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলতে শুরু রয়েছে শিক্ষক থেকে শুরু করে সরকারি কর্মীরা। তবে কি কতটা বিদ্যুৎ ব্যবহার হবে বা কী ধরনের মিটার বসবে সবটাই এবার থেকে সরকার ঠিক করে দেবে? তাছাড়া এসব মিটে যাওয়ার পরেই কি সাধারণ মানুষকেও বাধ্য করা হবে স্মার্ট মিটার বসানোর জন্য?
নবান্নের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী থেকে সমস্ত বিভাগের প্রধান যেমন পুলিশের ডিজি, পুলিশ কমিশনার থেকে জেলাশাসক সবাইকেই এই বার্তা দেওয়া হবে। যারা সরকারি বেতন পান বা সাম্মানিক বা পারিশ্রমিক পান তাদের কেন্দ্রীয় সরকারের ‘Revamped Distribution Sector Scheme’ অনুযায়ী বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে হবে।

আরও পড়ুনঃ পশ্চিমবঙ্গ দিবসেই তৈরী হবে নতুন ইতিহাস! ৫০০ নৌকায় যোগায় ওয়ার্ল্ড রেকর্ড করবে বাংলা
WBSEDCL ৫৫৪ কাস্টমার কেয়ার সেন্টারের মধ্যে ১০৩টি কেন্দ্রকে প্রাথমিকভাবে বেছে নিয়েছে। কারণ এই এলাকাগুলিতে বিদ্যুতের চাহিদা অনেকটাই বেশি। যেটা আদতে রাজকোষের উপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। তবে এর পর বাকি এলাকাতেও ধীরে ধীরে একইভাবে স্মার্ট মিটার বসানো হবে। শুরুতে এই মিটারগুলি পোস্ট পেড সিস্টেমেই কাজ করবে। তবে পরবর্তীতে গ্রাহকেরা চাইলেই সেটাকে প্রি-পেড সিস্টেমে কনভার্ট করতে পারবেন।
আরও পড়ুনঃ লক্ষ লক্ষ কর্মসংস্থানের গ্যারেন্টি! ইন্টার্নশিপ প্রকল্পে যুক্ত কলকাতা বিস্ময়বিদ্যালয়
স্মার্ট মিটার বাধ্যতামূলক হওয়াটাও ঠিক নয় দাবি শিক্ষকমহলের
এক প্রধানশিক্ষকের মতে, স্মার্ট মিটার নিয়ে আমাদের অভিজ্ঞতা শূন্য। বাড়ি তো আমাদের ব্যক্তিগত জায়গা, সেখানে সরকারের হস্তক্ষেপের কোনো অবকাশই নেই। আমারা আমাদের বাড়িতে কি বসাবো বা বসাবো না সেটা কি সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী চলতে হবে? একইভাবে সরকারের এই নির্দেশিকার সমালোচনা করেছেন বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মন্ডল। তাঁর মতে, ডাবল ইঞ্জিন সরকারের ‘আচ্ছে দিন’ শুরু হয়ে গেল। নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি সাহ্ল প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম কমবে। কিন্তু এবার সেসব না করে উল্টো চাপ সৃষ্টি করছে সরকার। অফিসের পর এবার বাড়িতেও স্মার্ট মিটার লাগানোর জন্য বাধ্য করা হচ্ছে।
এছাড়া কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাগরময় ঘোষও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অখুশি। তাঁর মতে, স্মার্ট মিটারের তাঁর সুবিধা কিন্তু টেবিল কাউকে বাধ্য করা যায় না। স্মার্ট মিটার কিভাবে কাজ করবে সেটা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে উল্লেখ নেই। WBSEDCL ও বেসরকারি বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্তাহার বিদ্যুতের মাশুল সম্পূর্ণ আলাদা। এর আগেও এমনটা করার জন্য উদ্যোগী হয়েছিল সরকার কিন্তু বিদ্যুতের হিসাব পাওয়া যেমন মুশকিল হয়ে যায় তেমনি দামও বেশি হয়ে যায়। তাই স্মার্ট মিটার বাধ্যতামূলক হওয়াটা সঠিক নয় বলেই জানান তিনি।




