Widespread irregularities in issuing SC-ST certificates in Duare sarkar

কেঁচো খুঁড়তে কেউটে। তদন্ত করতে গিয়ে চক্ষু চড়কগাছ খোদ মন্ত্রী মশাইয়ের। পশ্চিমবঙ্গে শুধু ভোটে জেতাই নয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পরিবর্তনের যে বার্তা দেওয়া হয়েছিল, তা প্রমাণ করছে বিজেপি সরকার। এবার ফাঁস শংসাপত্র কেলেঙ্কারি। প্রভাব খাটিয়ে ব্রাহ্মণ স্বেচ্ছায় হয়ে গিয়েছেন দলিত! এসসি কোটায় চাকরি করছেন বন্দ্যোপাধ্যায় পদবিধারী। আর সেটা সংখ্যায় নেহাত কম নয়। বিজেপির নতুন সরকার জাতিগত শংসাপত্রের ‘ভেরিফিকেশন’ অর্থাৎ তথ্য-যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করতেই উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। আসলে গলদ একেবারে ‘দুয়ারে’।
দুয়ারে সরকার কর্মসূচিতেই যে সব জাতিগত শংসাপত্র ইস্যু করা হয়েছে, তাতেই অনিয়মের লাগামছাড়া অভিযোগ। সব দেখেশুনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রীর আশঙ্কা, রাজ্যজুড়ে লক্ষাধিক এমন শংসাপত্র নিয়মের বাইরে গিয়ে দেওয়া হয়েছে। গোটাটাই যে তদন্তের স্ক্যানারে
পড়বে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। এবং সবগুলিই বাতিলের মুখে। শুরু হয়েছে জাতিগত শংসাপত্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত যাবতীয় নথিপত্র যাচাইয়ের কাজ। অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ ও গ্রন্থাগার মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষের বক্তব্য, “গত ১৫ বছরে বা তারও আগে যত ভুয়া সার্টিফিকেট ইস্যু হয়েছে তা দ্রুততার সঙ্গে বাতিল করতে ভেরিফিকেশন প্রসেস চালু হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ৭০০ কাস্ট সার্টিফিকেট বাতিল হয়েছে। সংখ্যাটা লক্ষাধিক হয়ে যাবে।” এসসি, এসটি, ওবিসি-সব ক্ষেত্রেই বেনিয়মের অভিযোগ। প্রভাব খাটিয়ে বহু ব্রাহ্মণ তফসিলি জাতির অন্তর্ভুক্ত হয়ে গিয়েছেন!
মন্ত্রীর অভিযোগ, “ব্রাহ্মণ। টাইটেল বন্দ্যোপাধ্যায়। এসসি সার্টিফিকেট নিয়ে চাকরি করছে।” এদের কি শুধু কাস্ট সার্টিফিকেট বাতিল হবে, না কি মিথ্যে তথ্য দিয়ে এতদিন সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার জন্য শাস্তি হবে? মন্ত্রী বলেন, “শাস্তি তো অবশ্যই হওয়া উচিত। অনেকেই শাস্তির ভয়ে চাকরি ছেড়ে পালাচ্ছে। চাইছি যত বেশি সম্ভব এসসি, এসটি, ওবিসি সার্টিফিকেট দিতে। যোগ্য লোক যাতে আবেদনের পর দ্রুততার সঙ্গে সার্টিফিকেট পান তার জন্য এসডিও অফিস পর্যন্ত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
দপ্তর সূত্রে খবর, এক দশকেরও বেশি সময়ে ইস্যু হওয়া প্রায় ১.৬৯ কোটি জাতিগত শংসাপত্র ফের যাচাই করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের আশঙ্কা, দ্রুত পরিষেবা দেওয়ার তাগিদে অতীতে বহু ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই ছাড়াই সার্টিফিকেট অনুমোদিত হয়েছে। ১৪ মে সমস্ত জেলার জেলাশাসকদের নির্দেশ পাঠিয়ে বলা হয়, ২০১১ সাল থেকে যে প্রায় ১ কোটি তফসিলি জাতি, ২১ লক্ষ তফসিলি উপজাতি এবং প্রায় ৪৮ লক্ষ ওবিসি সার্টিফিকেট ইস্যু হয়েছে, তা যাচই করতে হবে।
শেয়ার
লিংক



