অনুব্রত মণ্ডলসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের ইটভাটা মালিকের

সবদিক নিউজ: ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী হিংসার একটি পুরনো ও চাঞ্চল্যকর মামলায় এবার বীরভূমের দাপুটে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল ওরফে কেষ্টর বিরুদ্ধে শান্তিনিকেতন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হলো। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর অনুব্রতের নির্দেশেই বোমা ও বন্দুকের মুখে এক ব্যবসায়ীর ইটভাটা থেকে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার ইট লুটপাট করা হয় বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীর দাবি, সেই সময় কঙ্কালীতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান মহম্মদ ওহিউদ্দিন ওরফে মামন শেখের নেতৃত্বে শতাধিক ট্রাক্টর নিয়ে একদল সশস্ত্র লোক ওই ভাটায় চড়াও হয়েছিল। প্রাণভয়ে ও জীবন বাঁচাতে ব্যবসায়ীকে তখন নিজের সাজানো ব্যবসা ফেলে এলাকা ছেড়ে পালাতে হয়েছিল। তৎকালীন সময়ে পুলিশ, জেলাশাসক (ডিএম) এবং পুলিশ সুপারকে (এসপি) লিখিতভাবে জানিয়েও কোনও সুরাহা মেলেনি। তবে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর খোদ মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে আশ্বাস পেয়েই অবশেষে অনুব্রত মণ্ডলসহ মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে শান্তিনিকেতন থানায় এফআইআর (FIR) দায়ের করলেন ওই ইটভাটা মালিক।
ঘটনার বিবরণে জানা গিয়েছে, শান্তিনিকেতন থানার আদিত্যপুরের পাথরঘাটা গ্রামে ‘লায়ন ব্রিক ফিল্ড’ নামে একটি ইটভাটা রয়েছে, যার মালিক শুভেন্দু বিকাশ মণ্ডল এবং তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার হলেন দেবপ্রসাদ রায়। ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে পুনরায় ক্ষমতায় আসার পরই বীরভূমজুড়ে ব্যাপক ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, সেই ঝড়ের রেশ এসে পড়েছিল শুভেন্দুবাবুর ইটভাটাতেও। তৎকালীন উপ-প্রধান মামন শেখের নেতৃত্বে একদল তৃণমূল কর্মী হাতে বোম-বন্দুক নিয়ে ভাটায় তাণ্ডব শুরু করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কোনও রকমে কোপাই নদীর তীর ধরে পালিয়ে প্রাণ রক্ষা করেন শুভেন্দুবাবু। এরপর ভাটা থেকে প্রায় ৩ লক্ষ পিস ইট (যার বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা) ট্রাকে করে লুটে নিয়ে যাওয়া হয়। এই দীর্ঘ সময় পর শান্তিনিকেতন থানায় লিখিত অভিযোগ জমা পড়তেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। পুলিশ ইতিমধ্যেই অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, চুরি, জোরপূর্বক ভয় দেখানো, সম্পত্তির ক্ষতিসাধন এবং জনসমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিসহ একাধিক জামিনঅযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
এই চরম হেনস্থা ও আর্থিক ক্ষতির বিষয়ে ইটভাটার মালিক শুভেন্দু বিকাশ মণ্ডল অত্যন্ত ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “বোলপুরে যখন তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় তৈরি হচ্ছিল, তখন ওরা ইট চেয়েছিল এবং আমি তা দিয়েওছিলাম। কিন্তু তাতেও ওদের পেট ভরেনি। প্রায়ই মোটা অঙ্কের টাকা তোলা চাওয়া হতো। সেই তোলা দিতে না পারার কারণেই আমাকে ভোট-পরবর্তী হিংসার নির্মম শিকার হতে হয়। সেদিনের কথা মনে পড়লে আজও গা শিউরে ওঠে। অনুব্রত মণ্ডলের সরাসরি নির্দেশেই উপ-প্রধান মামন ও তার অনুগামীরা বন্দুক উঁচিয়ে, বোমা মারতে মারতে ১০০টি ট্রাক্টর নিয়ে এসে আমার ৩০ লক্ষ টাকার ইট লুট করে নেয়। আমি যদি কোপাই নদী দিয়ে না পালাতাম, তবে ওরা আমাকে মেরেই ফেলত। ওরা আমার ব্যবসাটা পুরোপুরি শেষ করে দিয়েছে, যার শোকে আমার পার্টনার দেবপ্রসাদ রায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।” তিনি আরও জানান, নতুন সরকারের জমানায় তিনি শুধু নিজের লুটের টাকা ফেরত চান না, বরং দোষী অনুব্রত মণ্ডল ও তার গুন্ডাবাহিনীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।



