0%

অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন পাকিস্তানের পাশে ছিল চিন! যুদ্ধবিমান মেরামতির কথা স্বীকার বেজিংয়ের

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারত-পাক সংঘাতের আবহে চিন যে ইসলামাবাদের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র, তা বহুদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মহলে প্রতিষ্ঠিত। তবে এবার প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে স্বীকার করা হল, ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor)-এর সময় পাকিস্তানকে সরাসরি সহায়তা করেছিল বেজিং। চিনা সংবাদমাধ্যম ‘সাউথ চিনা মর্নিং পোস্ট’-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সংঘর্ষ চলাকালীন পাকিস্তানে গিয়ে যুদ্ধবিমান মেরামতের কাজ করেছিলেন চিনা ইঞ্জিনিয়াররা। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রেও ইসলামাবাদকে সাহায্য করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

অপারেশন সিঁদুর (Operation Sindoor) চলাকালীন পাকিস্তানকে সাহায্যের কথা স্বীকার করল চিন!

বৃহস্পতিবার চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেন অ্যাভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশন অফ চায়না বা এভিআইসি-র ইঞ্জিনিয়ার ঝাং হেং। বলা বাহুল্য, এভিআইসি হল চিনের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ও ড্রোন নির্মাতা সংস্থা। সাক্ষাৎকারে ঝাং জানান, তিনি এমন একটি বিশেষজ্ঞ দলের সদস্য ছিলেন, যারা ২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তানকে সহায়তা করতে সেখানে গিয়েছিল। তাঁর কথায়, চারদিনের সামরিক সংঘর্ষের সময় পাক বায়ুসেনার একাধিক প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধান করা হয়েছিল। যদিও তিনি বিস্তারিত সামরিক তথ্য প্রকাশ করেননি, তবুও এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন: ব্রিগেডে আজ ইতিহাস! শুভেন্দুর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে মোদী-শাহ-সহ ২০ মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁও-এ জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিরস্ত্র নাগরিক নিহত হন। ভারতের দাবি, ওই হামলার পিছনে ছিল লস্কর-ই-তৈবার ছায়া সংগঠন টিআরএফ। এর জবাবে ৭ মে গভীর রাতে ভারত শুরু করে ‘অপারেশন সিঁদুর’। ভারতীয় সেনা ও বায়ুসেনার যৌথ অভিযানে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের অন্তত ন’টি জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করা হয়। এরপর পাকিস্তান ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকা এবং সেনাঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা চালায়। ভারতীয় সেনা পালটা প্রত্যাঘাতে পাকিস্তানের অন্তত ১১টি বায়ুসেনা ঘাঁটির ক্ষতি করে বলে দাবি করা হয়।

ভারতের সামরিক অভিযানে ১০০-র বেশি জঙ্গি এবং প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ জন পাক সেনা নিহত হয়েছিল বলেও সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছিল। সংঘর্ষ ক্রমশ তীব্র আকার নেওয়ার পর শেষ পর্যন্ত ইসলামাবাদের অনুরোধে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় নয়াদিল্লি। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপও এই সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় বলে মনে করা হয়। তবে সংঘর্ষের সময় চিনের ভূমিকা নিয়ে এতদিন সরাসরি কোনও মন্তব্য করা হয়নি। এবার ঝাং হেং-এর বক্তব্য সেই জল্পনাকেই অনেকাংশে সত্যি বলে প্রতিষ্ঠা করল।

আরও পড়ুন: ‘বুঝেছিলাম একদিন ও…’ মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসতে চলেছে ছেলে, কী বলছেন শুভেন্দুর বাবা ?

কয়েকদিন আগেই ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor)-এর বর্ষপূর্তিতে মার্কিন সামরিক বিশ্লেষক জন স্পেন্সার ভারতের সামরিক সক্ষমতার প্রশংসা করেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পাকিস্তানের আকাশসীমায় কৌশলগত আধিপত্য কায়েম করেছিল ভারতীয় বায়ুসেনা। আন্তর্জাতিক মহলের মতে, এই অভিযান শুধু জঙ্গি দমনের ক্ষেত্রেই নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তিরও স্পষ্ট বার্তা বহন করেছে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker