আর নয় মৃত্যুমিছিল! হরমুজে বাড়বে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা, বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের

সবদিক নিউজ:হরমুজে ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যুর পর বড় পদক্ষেপ নিল ভারত (India)। পশ্চিম এশিয়ায় ইরান-আমেরিকা সংঘাত (Iran-US War) যত তীব্র হচ্ছে, ততই বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালীকে (Strait of Hormuz) ঘিরে বাড়ছে নিরাপত্তা উদ্বেগ। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং অপরিশোধিত তেল পরিবহণের অন্যতম প্রধান রুট হওয়ায় এই প্রণালীকে বিশ্বের ‘তৈল ধমনী’ বলা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলে একের পর এক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় শুধু বিশ্ববাজার নয়, উদ্বেগ বেড়েছে ভারতেও। বিশেষ করে একাধিক ভারতীয় নাবিক হতাহত হওয়ার পর তাঁদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বড় পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ভারতীয় নাবিকদের অবস্থান ও নিরাপত্তা রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণের জন্য একটি বিশেষ ট্র্যাকিং ব্যবস্থা এবং জাহাজভিত্তিক ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের মতে, সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
হরমুজে বাড়বে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা, বড় পদক্ষেপ ভারতের (India)
সম্প্রতি হরমুজ প্রণালী এবং সংলগ্ন জলসীমায় ভারতীয় নাবিক থাকা দুটি তেলবাহী জাহাজে হামলার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার পর কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ পরিবহণ ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। বৈঠকে ‘ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ শিপিং’-কে পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালী এবং ওমান উপসাগরে চলাচলকারী প্রতিটি জাহাজে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়। সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, জাহাজটি কোন দেশের পতাকাবাহী, তা বিবেচ্য হবে না; সেখানে ভারতীয় নাবিক থাকলেই তাঁদের তথ্য এই ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেখানে জাহাজের অবস্থান, মালিকানা, বহন করা পণ্য, নাবিক ও কর্মীদের সংখ্যা, সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি, যাত্রাপথ, পরবর্তী গন্তব্য এবং নিকটবর্তী বন্দরের সুযোগ-সুবিধার মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যাবে (India)।
কড়া টক্কর পাবে চিন! মোবাইল উৎপাদনে নয়া ইতিহাস গড়বে ভারত, কেন্দ্র দিল ৬২,৫০০ কোটির উপহার
কেন্দ্রের মতে, এই নতুন ট্র্যাকিং ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হল সংকটময় পরিস্থিতিতে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জরুরি অবস্থায় দ্রুত উদ্ধার ও সহায়তার ব্যবস্থা করা। সর্বানন্দ সোনওয়াল স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিশ্বের যে প্রান্তেই ভারতীয় নাবিক কর্মরত থাকুন না কেন, তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও আপস করা হবে না। আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে ক্রমবর্ধমান সংঘাত এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির প্রেক্ষাপটে এই প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা ভারতীয় সামুদ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছে সরকার। একই সঙ্গে বিদেশে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের পরিবারের মধ্যেও এই উদ্যোগ কিছুটা হলেও আস্থা ফিরিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক একাধিক উদ্বেগজনক ঘটনা। সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি অনুযায়ী, ‘মোম্বাসা’ এবং ‘আল বাহিয়া’ নামে দুটি তেলবাহী জাহাজ ওমান উপকূলের কাছে হামলার মুখে পড়ে। ওই ঘটনায় মোট আটজন আহত হন, যার মধ্যে ছয়জনই ভারতীয় নাবিক। ‘মোম্বাসা’ জাহাজে কর্মরত এক ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে। এই ঘটনাগুলি ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। যদিও হামলার দায় নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক রয়েছে, তবুও সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে কর্মরত ভারতীয়দের সুরক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে কেন্দ্র।

১৮ দিনের অনশনে শারীরিক অবস্থার অবনতি সোনমের! হাইকোর্টে জানানো হল ‘জোর করে খাওয়ানোর’ আর্জি
সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম এশিয়ার চলমান অস্থিরতার জেরে হরমুজ অঞ্চলে এখনও পর্যন্ত অন্তত নয়জন ভারতীয় নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী এই সমুদ্রপথে প্রতিদিন অসংখ্য ভারতীয় নাবিক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জাহাজে কর্মরত থাকেন। ফলে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ভারতের কাছে শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, কৌশলগত গুরুত্বের বিষয়ও। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু হলে সংকটপূর্ণ এলাকায় ভারতীয় নাবিকদের অবস্থান সম্পর্কে তাৎক্ষণিক তথ্য পাওয়া সহজ হবে এবং প্রয়োজনে দ্রুত কূটনৈতিক ও উদ্ধার তৎপরতা চালানো সম্ভব হবে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি যতই জটিল হোক না কেন, ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার যে আরও সক্রিয় ও প্রযুক্তিনির্ভর পদক্ষেপের পথে হাঁটছে, এই উদ্যোগ তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত (India)।




