কমবে চিকিৎসার খরচ! ডায়াবেটিস-হৃদরোগ সংক্রান্ত ওষুধ সহ ৩০ টি প্রয়োজনীয় ওষুধের দাম নির্ধারণ কেন্দ্রের

সবদিক নিউজ:ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ বা দুর্বল হাড়ের সমস্যায় ভোগা লক্ষ লক্ষ রোগীর জন্য বড় স্বস্তির খবর দিল ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি। সংস্থাটি দৈনন্দিন চিকিৎসায় ব্যবহৃত ৩৯টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের (Medicine Price) সর্বোচ্চ খুচরো মূল্য (MRP) নির্ধারণ করেছে। ফলে এই ওষুধগুলি আর নির্ধারিত দামের বেশি মূল্যে বিক্রি করা যাবে না। সরকারের দাবি, এই সিদ্ধান্তের ফলে বিভিন্ন ওষুধের দাম প্রায় ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। ২০১৩ সালের ড্রাগস (প্রাইস কন্ট্রোল) অর্ডার বা ডিপিসিও-র আওতায় এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হল জীবনরক্ষাকারী ও অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার খরচ কমানো। বিশেষজ্ঞদের মতে, যেসব রোগীর প্রতিদিন নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়, তাঁদের জন্য এই সিদ্ধান্ত উল্লেখযোগ্য আর্থিক স্বস্তি নিয়ে আসতে পারে।
৩০ টি প্রয়োজনীয় ওষুধের দাম (Medicine Price) নির্ধারণ করে দিল কেন্দ্র
এনপিপিএর নতুন তালিকায় এমন একাধিক ওষুধ রয়েছে, যা উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যালসিয়ামের ঘাটতি, চোখের সংক্রমণ এবং জলাতঙ্কের মতো গুরুতর রোগের চিকিৎসায় নিয়মিত ব্যবহৃত হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের রোগের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হয় বলে প্রতি মাসে ওষুধের পেছনে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হয় অনেক পরিবারকে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা এবং ওষুধের দোকানগুলো নির্ধারিত সর্বোচ্চ মূল্যের বেশি দামে এই ওষুধ বিক্রি করতে পারবে না। পাশাপাশি সংস্থাগুলিকে ওষুধের প্যাকেটে নতুন এমআরপি ছাপাতে হবে, যাতে ক্রেতারা প্রকৃত মূল্য সহজেই জানতে পারেন এবং অতিরিক্ত দাম নেওয়ার সুযোগ না থাকে (Medicine Price)।
ভিয়েতনামে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! নৌকা ডুবে মৃত ১৫ জন ভারতীয় পর্যটক, দূতাবাস জারি করল হেল্পলাইন নম্বর
মূল্য নির্ধারণ করা ওষুধগুলির মধ্যে রয়েছে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে ব্যবহৃত ক্লোপিডোগ্রেল, অ্যাসপিরিন ও অ্যাটোরভাস্ট্যাটিনের সংমিশ্রণ, যার সর্বোচ্চ মূল্য প্রতি ক্যাপসুল ৬.৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত অ্যামলোডিপাইন, বিসোপ্রোলল ও তেলমিসার্টানের যৌথ ওষুধের দাম প্রতি ট্যাবলেট ১৪.৭৪ টাকা রাখা হয়েছে। ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি৩ সাপ্লিমেন্টের সর্বোচ্চ মূল্য প্রতি ট্যাবলেট ৮.৯৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া হার্ট অ্যাটাকের জরুরি চিকিৎসায় ব্যবহৃত টেনেকটেপ্লেস (TNK-TPA) ইনজেকশনের মূল্য, চোখের অস্ত্রোপচারের পর ব্যবহৃত নেপাফেনাক ও মক্সিফ্লক্সাসিন আই ড্রপ এবং জলাতঙ্ক প্রতিরোধে ব্যবহৃত অ্যান্টি-র্যাবিস ইমিউনোগ্লোবুলিনেরও সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
সরকারের মতে, এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় সুফল পাবেন দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা। হৃদরোগ বা উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের অনেক সময় মাসে একাধিক ওষুধ কিনতে হয়, যার জন্য কয়েকশো থেকে হাজার টাকাও খরচ হয়ে যায়। নতুন মূল্যসীমা কার্যকর হলে অনেক ক্ষেত্রেই মাসিক ওষুধের খরচ ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এনপিপিএ স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনো ওষুধ প্রস্তুতকারী বা বিপণনকারী সংস্থা যদি নির্ধারিত মূল্যের বেশি দাম নেয়, তবে ডিপিসিও-২০১৩ এবং অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন, ১৯৫৫ অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অতিরিক্ত আদায় করা অর্থ সুদ-সহ সরকারের কাছে ফেরত জমা দেওয়ারও নির্দেশ রয়েছে।
বাড়বে বাণিজ্য! জোরদার হবে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই, নিউজিল্যান্ড থেকে ‘মোদী গ্যারান্টি’ প্রধানমন্ত্রীর
১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি ভারতের ওষুধের মূল্য (Medicine Price) নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সংস্থাটির প্রধান উদ্দেশ্য হলো জীবনরক্ষাকারী ও অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখা এবং বাজারে অতিরিক্ত মূল্য আদায় রোধ করা। বর্তমানে দেশে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত পরিবারের মাসিক বাজেটের বড় অংশই ওষুধ কেনার পেছনে ব্যয় হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও জানিয়েছে, ভারতে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যব্যয় এখনও বিশ্ব গড়ের তুলনায় বেশি। সেই প্রেক্ষাপটে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণের এই সিদ্ধান্ত লক্ষ লক্ষ রোগী ও তাঁদের পরিবারের জন্য উল্লেখযোগ্য স্বস্তি এনে দিতে পারে এবং সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবার লক্ষ্যে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।



