0%

চার বছরের বিরতি! কৃষকের অবজ্ঞা দৃষ্টিতে বদলে গেল মাধবনের জীবন

আজকের আর মাধবন (R Madhavan) মানেই পরিণত অভিনয়, চরিত্রের গভীরতা আর শিল্পীসত্তা। ‘বিক্রম বেধা’, ‘শয়তান’, ‘সালা খাড়োস’-এর মতো ছবিতে যাঁকে দর্শক নতুন করে চিনেছে, সেই বদলে যাওয়ার গল্পের শুরুটা কিন্তু হয়েছিল এক অপ্রত্যাশিত অপমান থেকে! 

সম্প্রতি আন ফিল্টারড এন্টারটেন্টমেন্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাধবন জানান , ২০১১ সালে তিনি হঠাৎ করেই অভিনয় থেকে চার বছরের বিরতি নেন। কারণ? নিজের কাজ নিয়েই গভীর হতাশা। সেই সময় একটি তামিল ছবির গানের শুটিং চলছিল সুইৎজারল্যান্ডে। পরনে রঙিন পোশাক, রাস্তার মাঝে নাচ, আর ঠিক তখনই তাঁর চোখে পড়ে এক সুইস কৃষককে। চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে সম্পূর্ণ অবজ্ঞার চোখে শুটিং দেখছিলেন তিনি।

মাধবনের কথায়, ‘প্রথমে খুব রেগে গিয়েছিলাম। মনে হয়েছিল, তুমি চেন্নাইয়ে এলে বুঝবে আমি কে। কিন্তু পরমুহূর্তেই বুঝলাম আমি তো আসলে অন্যের সুরে নাচছি।’ সেই মুহূর্তেই নিজেকে প্রশ্ন করতে শুরু করেন অভিনেতা। জীবনের এত অভিজ্ঞতা, এত দক্ষতা কিন্তু পর্দায় সবটাই সীমাবদ্ধ কেবল ‘লভার বয়’ ইমেজে।

তিনি বুঝতে পারেন, স্টার হওয়ার দৌড়ে নিজের সত্তাকেই হারিয়ে ফেলছেন। সেই উপলব্ধিই তাঁকে অভিনয় থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। চার বছর দেশজুড়ে ঘুরেছেন, কথা বলেছেন সাধারণ মানুষের সঙ্গে, জীবনকে কাছ থেকে দেখেছেন।

আর সেই বিরতির পরই জন্ম নেয় নতুন মাধবন। যিনি আর শুধু তারকা নন, এক পরিণত অভিনেতা। এক সুইস কৃষকের নিঃশব্দ অবজ্ঞাই যে তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেবে, তা হয়তো সেদিন নিজেও ভাবেননি তিনি।

আরও পড়ুন: অরিজিতের বাড়িতে আমিরের সফর ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে, কত দিন বাংলায় থাকছেন ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’?

মাধবন আরও বলেন, কীভাবে তাঁর স্ত্রী সারিতা বির্জে তাঁর মধ্যে বাড়তে থাকা এক ধরনের বিচ্ছিন্নতা টের পেয়েছিলেন। তিনি জানান, যে সব চরিত্রে তিনি অভিনয় করছিলেন, সেগুলো নিয়েই তাঁর অস্বস্তি তৈরি হচ্ছিল। মাধবনের কথায়, “আমি যে চরিত্রগুলো করছিলাম… যেমন, গ্রামের এক অনশিক্ষিত, অভুক্ত ছেলে, যে ক্রিকেটে নিজের কেরিয়ার গড়তে মরিয়া। কিন্তু কোনও দিক থেকেই অরবিন্দ স্বামী বা আমি দেখতে না তো অনশিক্ষিত লাগে, না এমন কেউ, যে খিদের জ্বালায় কাতর। এগুলো আসলে একেবারেই ভুল সিদ্ধান্ত ছিল।”

আরও পড়ুন: ‘আমি জানি কেন আরিজিৎ সিং প্লেব্যাক ছাড়ছেন’, পলাশ সেনের বিস্ফোরক দাবি!

মাধবন বলেন, “একদিন আমার স্ত্রী আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল, ‘তোমার কী হয়েছে?’ সে বলেছিল, তুমি কাজে যাচ্ছ এমনভাবে, যেন কাজটা শেষ করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ফিরে আসতে চাও। কথাটা শুনে আমার কাছে সত্যিই খুব অর্থবহ লেগেছিল।” এই প্রসঙ্গে তিনি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন ‘থানি ওরুভান’-এর তেলুগু রিমেকের কথা—যে ধরনের চরিত্র তাঁর কাছে যুক্তিহীন মনে হচ্ছিল।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker