টানা ৫ ঘণ্টা কাজ করলেই দিতে হবে আধ ঘণ্টার বিশ্রাম! নির্দেশ দিল কেন্দ্র

সবদিক নিউজ: দেশের কোটি কোটি চাকরিজীবী এবং শ্রমিকদের স্বস্তি দিয়ে কাজের সময়সীমা ও বিশ্রাম নিয়ে এক ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন বিজ্ঞপ্তি জারি করল কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রক। দেশের সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার মালিকপক্ষ এবং কর্মচারীদের উদ্দেশ্য করে জারি করা এই বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, কোনো সংস্থায় কোনো কর্মী কমপক্ষে ৩০ মিনিটের বাধ্যতামূলক বিশ্রামের বিরতি না নিয়ে একটানা ৫ ঘণ্টার বেশি কাজ করতে পারবেন না। কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ এবং কর্মীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের মানোন্নয়নে আগের বিধিমালাকে আরও কঠোর ও শক্তিশালী করেই মোদি সরকারের শ্রমমন্ত্রক এই কড়া গাইডলাইন সামনে এনেছে। নতুন শ্রম আইন বাস্তবায়ন এবং দেশজুড়ে কর্মচারীদের কল্যাণ ও সুরক্ষা নিয়ে চলমান আলোচনার মাঝেই কেন্দ্র সরকারের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
বিশেষ করে কর্পোরেট সেক্টর ও বিভিন্ন কারখানায় একটানা দীর্ঘক্ষণ কাজ করানোর যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তার জেরে কর্মীদের ক্লান্তি, মানসিক অবসাদ এবং কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছিল। পূর্ববর্তী শ্রম বিধিমালা এবং কারখানা-সংক্রান্ত আইনে কাজের শিফটের মাঝে নির্দিষ্ট বিরতির প্রয়োজনীয়তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকলেও, সম্প্রতি প্রবর্তিত নতুন শ্রম কোড বা আইনগুলিতে বাধ্যতামূলক বিশ্রামের এই বিশদ পরিকাঠামোটির কিছুটা অভাব ছিল। এর ফলে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন এবং কর্মচারী প্রতিনিধিদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল যে, সরকার যদি পৃথকভাবে কোনো কড়া নিয়ম জারি না করে, তবে বেসরকারি সংস্থাগুলির ওপর এই বাধ্যতামূলক বিরতি এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষার নিয়মগুলি প্রয়োগ করা কঠিন হয়ে পড়বে। নতুন শ্রমিকাভিমুখী ব্যবস্থার দিকে রূপান্তরের এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে কর্মীদের সেই আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই শ্রমমন্ত্রকের এই সর্বশেষ পদক্ষেপ।
একই সঙ্গে এই বিজ্ঞপ্তিতে ভূগর্ভস্থ খনিতে কর্মরত খনি শ্রমিকদের জন্য কাজের নিয়মাবলি আরও স্পষ্ট ও নিশ্ছিদ্র করেছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রক। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, খনি শ্রমিকদের দৈনিক কাজের শিফট কোনোভাবেই ৮ ঘণ্টার বেশি হতে পারবে না। খনি শিল্প যেহেতু সবচেয়ে বেশি শারীরিক পরিশ্রমের এবং ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম, তাই ঐতিহ্যগতভাবেই ভূগর্ভস্থ শ্রমিকদের কাজের সময়কাল ও বিশ্রামের ওপর কঠোর আইনি নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। একটানা দীর্ঘক্ষণ কাজ করার ফলে তৈরি হওয়া স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো এবং শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এই যুগান্তকারী বিজ্ঞপ্তি দেশের শ্রমক্ষেত্রে এক নতুন ও ইতিবাচক অধ্যায়ের সূচনা করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।



