0%

দিল্লিতে অধ্যাপিকার রহস্যমৃত্যু! বন্ধ ফ্ল্যাট থেকে দেহ উদ্ধারে চাঞ্চল্য, তদন্তে পুলিশ

সবদিক নিউজ: পূর্ব দিল্লির বসুন্ধরা এনক্লেভের একটি ফ্ল্যাট থেকে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মহিলা শিক্ষিকার রক্তাক্ত ও রহস্যজনক দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত শিক্ষিকার নাম দেবস্মিতা পাল (৪৯)। তিনি দিল্লির শিবাজী কলেজের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে তাঁর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হলেও, মূল দরজায় বাইরে থেকে তালা লাগানো ছিল। এই অদ্ভুত পরিস্থিতি এবং খুনের ধরন দেখে পুলিশ ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এর পিছনে কোনও পরিচিত ব্যক্তির হাত রয়েছে। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ ও ক্রাইম ব্রাঞ্চ।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দেবস্মিতা পাল বসুন্ধরা এনক্লেভের সত্যম অ্যাপার্টমেন্টের একটি ফ্ল্যাটে একা থাকতেন। বৃহস্পতিবার সকালের পর থেকে তাঁর বোন দেবারতি পাল বারবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও দেবস্মিতাকে পাচ্ছিলেন না। দীর্ঘক্ষণ কোনও সাড়া না পেয়ে উদ্বিগ্ন দেবারতি দিদির ফ্ল্যাটে চলে যান। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন, দরজায় বাইরে থেকে তালা ঝুলছে। দিদি ভেতরে থাকা সত্ত্বেও বাইরে কেন তালা, তা নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় তিনি তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। ঘরে ঢুকেই তিনি দেবস্মিতাকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।

দেবারতি দেবী সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ কন্ট্রোল রুমে ফোন করে বিষয়টি জানান এবং অভিযোগ করেন যে তাঁর দিদিকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ, ক্রাইম ব্রাঞ্চ ও ফরেনসিক দল। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ফ্ল্যাটের দরজার তালা বা জানলা ভেঙে ভেতরে ঢোকার কোনও প্রমাণ মেলেনি। ফলে আততায়ী যে দেবস্মিতার অত্যন্ত পরিচিত এবং তাঁর অনুমতি নিয়েই ফ্ল্যাটে ঢুকেছিল, সেই সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বড় রহস্য হলো, ঘরের ভেতরে দেহ রেখে আততায়ী কীভাবে বাইরে থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে চম্পট দিল, তা নিয়ে ধন্দে পড়েছেন তদন্তকারীরা। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ এবং ক্রাইম সিনের নমুনা খতিয়ে দেখে পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর আগে আততায়ীর সঙ্গে দেবস্মিতার প্রবল ধস্তাধস্তি হয়েছিল। তাঁর মাথায় গভীর আঘাতের ক্ষত রয়েছে, মুখ ও শরীরের বিভিন্ন অংশে কালশিটে ও মারধরের দাগ স্পষ্ট। এছাড়া তাঁর দুটি কব্জিতেই ধারালো অস্ত্রের কাটার চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা পুরো ঘর থেকে নানা নমুনা সংগ্রহ করেছেন এবং অপরাধস্থলের ছবি ও ভিডিওগ্রাফি করা হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক সময় এবং কারণ জানতে পুরো ঘটনার সময়ক্রম পুনর্গঠন করার চেষ্টা চলছে।

তদন্তের মাঝেই দেবস্মিতার পরিবারের সদস্যরা তাঁর শেষ মুহূর্তের কিছু গতিবিধি সম্পর্কে পুলিশকে তথ্য দিয়েছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, মৃত্যুর কিছু সময় আগেও দেবস্মিতা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিলেন এবং তিনি তাঁর মায়ের জন্য ওষুধ পাঠানোর সব রকম ব্যবস্থা করেছিলেন। কর্মজীবনে অত্যন্ত মেধাবী এই শিক্ষিকা ২০২৩ সালে রাজা গার্ডেনের শিবাজী কলেজে স্থায়ী পদে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। এর আগে তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থার অধীনেই দীর্ঘ দিন ‘অ্যাড-হক’ বা চুক্তিভিত্তিক অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker