বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে জালে উঠল ৫০০ বছরের প্রাচীন বিষ্ণুমূর্তি, চাঞ্চল্য পুদুচেরিতে – সবদিক

মাছ ধরেই দিনযাপন তাঁদের। আর পাঁচটা দিনের মতো ট্রলারে চেপে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন পুদুচেরির ১৬ জন মৎস্যজীবী। মাছ ধরার সময় তাঁদের জালে আটকায় ভারী কোনো বস্তু। জল থেকে জাল টেনে তুলে ধরতেই সকলের চক্ষুচড়কগাছ। কারণ, পুদুচেরির কারাইকালের ওই ১৬ জন মৎস্যজীবীর জালে উঠে এসেছে পাথরের তৈরি বিরল প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মূর্তিটি কমপক্ষে ৫০০ বছরের পুরোনো বলে অনুমান। দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রের জলে থাকায় মূর্তির গায়ে শ্যাওলা জমে গেছে। কিন্তু তাতেও গায়ের সূক্ষ্ম কারুকাজ ঢাকা পড়েনি।
গত ২ জুলাই পুদুচেরির কারাইকাল মৎস্যবন্দর থেকে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যায় ১৬ জন মৎস্যজীবীর ওই দল। ১০ জুলাই তাঁরা তামিলনাড়ুর মহাবলীপুরম উপকূলে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরছিলেন। সে সময় তাঁদের জালে ভারী কোনো বস্তু আটকে যায়। জাল টানার সময় মৎস্যজীবীরা বুঝতে পারেন। তাঁরা প্রথমে ভেবেছিলেন হয়ত জালটা সমুদ্রে কোনো পাথর বা ধ্বংসাবশেষে আটকে গেছে। পরে জাল টানতেই প্রাচীন মূর্তি উঠে আসে। নিরাপদে উপকূলে ফিরে আসার পর মৎস্যজীবীরা কারাইকালের ডেপুটি কালেক্টর পূজার হাতে মূর্তি তুলে দেন।
প্রাচীন পাথরের মূর্তি কীভাবে সমুদ্রে গিয়ে পৌঁছোল তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
– বিজ্ঞাপন –
মনে করা হচ্ছে, শ্রীলঙ্কার সক্রিয় পাচার চক্রর সদস্যরা ভারত থেকে মূর্তি চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় কোনো ভাবে তা সমুদ্রে পড়ে গিয়ে থাকতে পারে। পুরাতাত্ত্বিকদের মতে, মূর্তিটি ক্লোরিটিক সিস্ট পাথরের তৈরি। এটি একটি বিষ্ণু মূর্তি। মধ্যযুগের দক্ষিণ ভারতীয় মন্দির শিল্পকলার এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ।



