বার্থ ও ডেথ সার্টিফিকেট নিয়ে কড়াকড়ি রাজ্যের! আনা হল একাধিক নতুন নিয়ম

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বার্থ সার্টিফিকেট ও ডেথ সার্টিফিকেট (Birth Certificate-Death Certificate) নিয়ে কড়াকড়ি শুরু করল রাজ্য সরকার (Government of West Bengal)। রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর স্বাস্থ্য দফতরের তরফে গেজেট নোটিফিকেশন জারি করা হয়েছে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ভুয়ো বার্থ ও ডেথ সার্টিফিকেট যাতে এড়ানো যায় সেই কারণে একাধিক নিয়মে বদল এসেছে।
বার্থ ও ডেথ সার্টিফিকেট নিয়ে কড়াকড়ি | (Birth Certificate-Death Certificate)
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন তথা এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন বার্থ সার্টিফিকেট ইস্যু করার ক্ষেত্রে রাজ্যের নানা প্রান্তে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। এরপরেই কড়া পদক্ষেপ নিল নতুন রাজ্য সরকার। রেজিস্ট্রেশন অফ বার্থস অ্যান্ড ডেথস (অ্যামেডমেন্ট) রুলস, ২০২৬ গেজেট নোটিফিকেশন জারি করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ তৃণমূল জমানায় বইমেলায় কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ! বিরাট নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর
জানা গিয়েছে, এবার থেকে দেরি করে জন্ম ও মৃত্যু নথিভুক্তিকরণের ক্ষেত্রে বেশ কিছু নিয়ম মানতে হবে। এছাড়া সূত্রের খবর, নাম লেখার নিয়মেও বদল এসেছে। এবার থেকে শুধু ফার্স্ট নেম, মিডল নেম ও লাস্ট নেম ফরম্যাটে নাম লিখতে হবে। কোনও সংক্ষিপ্ত রূপ লেখা যাবে না।
ঠিকানা ও জন্ম/ মৃত্যুর তথ্যও আরও বিস্তারিতভাবে দিতে বলা হয়েছে। জেলা, ব্লক বা সাব ডিভিশন, গ্রামের নাম বা ওয়ার্ড, পিন কোড, বাড়ির নম্বর সহ নির্দিষ্ট কিছু তথ্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর পাশাপাশি জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র সংগ্রহের ক্ষেত্রে অনলাইন ও অফলাইন দুই ব্যবস্থাই থাকবে। কেউ চাইলে ইলেকট্রনিকভাবেও সার্টিফিকেট কালেক্ট করতে পারবেন।
এছাড়া দেরি করে বার্থ সার্টিফিকেট ও ডেথ সার্টিফিকেট ইস্যু করার নিয়মেও বদল আনা হয়েছে। ৩০ দিন পর যদি আবেদন করা হয়, তাহলে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের অনুমতি, স্ব-ঘোষণাপত্র তথা সেলফ ডিক্লেরেশন ও যথাযথ নথি জমা করতে হবে।
যদি ১ বছরের বেশি দেরি হয়ে যায়, তাহলে এসডিও/ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা অনুমোদিত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ দরকার হবে। ২ বছরের বেশি দেরি হয়ে গেলে বাধ্যতামূলকভাবে বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি দরকার হবে।

জানা গিয়েছে, নানা ফি-ও বাড়ানো হয়েছে। বার্থ ও ডেথ সার্টিফিকেটের কপি, দেরি করে নথিভুক্তিকরণ ও আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা আগের তুলনায় বৃদ্ধি করা হয়েছে। অ-প্রাতিষ্ঠানিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এমবিবিএস কিংবা স্বীকৃত আয়ুষ চিকিৎসক প্রদত্ত মেডিক্যাল সার্টিফিকেট। এর পাশাপাশি Form 1, 1A, 2-13 সহ নানা আবেদন, সার্টিফিকেট ও রিপোর্টের ফর্ম নতুন করে সংশোধন করা হয়েছে।
অতীতে বিভিন্ন সময় ভুয়ো বার্থ সার্টিফিকেট, ডেথ সার্টিফিকেট সংক্রান্ত নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। এসআইআরের সময়ও এই সংক্রান্ত অনিয়মের খবর সামনে এসেছিল। সেই কারণে এবার কড়াকড়ি শুরু করল রাজ্য সরকার।




