0%

ভারতে বাড়ছে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি, সমীক্ষায় চাঞ্চল্যকর তথ্য; স্থুলতায় আক্রান্ত নাবালকের সংখ্যাও উদ্বেগজনক – সবদিক

মেটাবলিক ডিসফাংশন অ্যাসোসিয়েটেড স্টিটিওটিক লিভার ডিজিজ হল ফ্যাটি লিভার অসুখের পোশাকি নাম। ভারতীয়দের মধ্যে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা। Lancet for Southeast Asia বৈজ্ঞানিক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা রিপোর্টে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষণায় প্রাথমিক ভাবে ভারতের ২৭টি শহরে কাউন্সিল অফ দ্য সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ (সিএসআইআর) এর ৩৭টি ল্যাবরেটরির মাধ্যমে ১০ হাজারের বেশি মানুষকে বেছে নেওয়া হয়েছিল। ঝাড়াই বাছাই করে শেষ পর্যন্ত ৭৭৬৪ জনকে বেছে নেওয়া হয়। ভারতীয়দের মধ্যে ফ্যাটি লিভার অসুখে আক্রান্ত কত জন, এটা দেখতে কমিউনিটি স্তরে নিবিড় সমীক্ষা চালানো হয়। সমীক্ষায় দেখা যায়, ৪৭.৮% মানুষের মধ্যে ফ্যাটি লিভার অসুখ হয়েছে। ফ্যাটি লিভার অসুখে আক্রান্তদের মধ্যে গবেষকরা বেশি পরিমাণে লিভার ফাইব্রোসিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে বলে দেখেছেন। ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে বয়সিদের মধ্যে লিভার ফাইব্রোসিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।

অন্যদিকে, স্থুলতার সমস্যা ক্রমশ ভারতে স্বাস্থ্যজনিত গুরুতর অসুখ ডেকে আনছে। ওয়ার্ল্ড ওবিসিটি ফেডারেশনের সাম্প্রতিক গবেষণা রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ২০৪০ সালের মধ্যে ভারতের লাখ লাখ নাবালক স্থুলতা জনিত গুরুতর অসুখে ভুগবে। ওয়ার্ল্ড ওবিসিটি ফেডারেশনের ওই গবেষণা রিপোর্টে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছে, কৃত্রিম শর্করা দেওয়া খাবার ও ভাজাভুজি খাবারের ওপর নিয়ন্ত্রণ, বিশেষ করে বিজ্ঞাপন দেওয়া বন্ধ না করলে ভারতের ২ কোটি নাবালক স্থুলতার সমস্যায় ভুগবে। ১২ কোটি স্কুল পড়ুয়া নাবালক আগামী ১৫ বছরের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ ও কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজে আক্রান্ত হবে। ৪ মার্চ ওয়ার্ল্ড ওবিসিটি ফেডারেশনের সাম্প্রতিক গবেষণা রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে।

সাম্প্রতিক গবেষণা রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ২০২৫ সালে ভারতে ৫-৯ বছর বয়সি ১ কোটি ৯০ লাখ শিশু আর ১০-১৯ বছর বয়সি ২ কোটি ৬৪ লাখ কিশোর-কিশোরী স্থুলকায়। গোটা বিশ্বে স্থুলকায় নাবালকদের নিরিখে ভারতের স্থান শীর্ষে। চিন ও আমেরিকায় স্থুলকায় ১ কোটি নাবালক রয়েছে। ভারতে স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে ৪ কোটি ১০ লাখের বডি মাস ইনডেক্স বেশি। ১ কোটি ৪০ লাখ নাবালক স্থুলকায়। ২০৪০ সালের মধ্যে সংখ্যাটা বাড়তে চলেছে। কমবয়সিদের মধ্যে স্থুলতার কারণে হওয়া উচ্চ রক্তচাপ জনিত রোগীর সংখ্যা ২ কোটি ৯৯ লাখ থেকে বেড়ে হবে ৪ কোটি ২১ লাখ। হাইপার গ্লাইসেমিয়ায় আক্রান্তর সংখ্যা ১ কোটি ৩৯ লাখ থেকে বেড়ে হবে ১ কোটি ৯১ লাখ। রক্তে বেশি পরিমাণে ট্রাইগ্লিসারাইড থাকা রোগীর সংখ্যা ৪ কোটি ৩৯ লাখের থেকে বেড়ে হবে ৬ কোটি ৭ লাখ। শিশুদের মধ্যে নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার অসুখে আক্রান্তর সংখ্যা ৮ কোটি ৩৯ লাখ থেকে বেড়ে হবে ১১ কোটি ৮৮ লাখ।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker