ভোটের আগে বাংলায় হামলা-ভয়ভীতি-র অভিযোগে সরব বিজেপি, কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়ে কমিশনে চিঠি সৌমিত্র খাঁ-র

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা শুরু হয়েছে। ভোটের আগে রাজ্যে বিরোধী কর্মীদের উপর হামলা ও ভয়ভীতির অভিযোগ তুলে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হলেন বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ (Soumitra Khan)। ভারতের নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে চিঠি দিয়েছেন তিনি। চিঠিটি পাঠানো হয়েছে নয়াদিল্লির নির্বাচন সদনে।
চিঠি তে কী দাবি বিষ্ণুপুরের সাংসদের (Soumitra Khan)?
চিঠিতে সৌমিত্র খাঁ (Soumitra Khan) দাবি করেছেন, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মী ও সমর্থকদের উপর ধারাবাহিক হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানোর ঘটনা ঘটছে। পাশাপাশি জনসভা ও সংগঠনিক কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া এবং প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও তোলা হয়েছে।
সৌমিত্র খাঁ (Soumitra Khan) তাঁর আবেদনে উল্লেখ করেছেন, এই পরিস্থিতি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছে। তাঁর দাবি, গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হল ভোটাধিকার প্রয়োগের স্বাধীনতা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ ভোটার এবং রাজনৈতিক কর্মীরা নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।
এই প্রেক্ষিতে তিনি নির্বাচন কমিশনের জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। তাঁর আবেদনে চারটি নির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়েছে। দাবি গুলি হল –
- প্রথমত, অবিলম্বে রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে টহল জোরদার করার আবেদন জানানো হয়েছে।
- দ্বিতীয়ত, নির্বাচন প্রক্রিয়া চলাকালীন প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগের দাবি তোলা হয়েছে।
- তৃতীয়ত, নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং আইন-শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
- চতুর্থত, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় নির্দেশ জারির অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ‘আনম্যাপড’ ভোটারদের ঠিকানায় এবার সরাসরি পৌঁছবে কমিশন, শুরু হচ্ছে কড়া ‘ফিল্ড ইনকোয়ারি’
চিঠির শেষাংশে সৌমিত্র খাঁ (Soumitra Khan) জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের সময়োপযোগী ও কঠোর পদক্ষেপই রাজ্যে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারে। দ্রুত হস্তক্ষেপ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়ে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেছেন।



