মোদির অ্যাকাউন্টের সুরক্ষায় বিশেষ নজর মেটার, পোস্ট মুছে ফেলায় কড়া অবস্থান কেন্দ্রের

AK Bangla News Desk: খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অফিশিয়াল ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিও বার্তা আচমকা ‘মুছে ফেলা’ কেন্দ্র-মেটা সংঘাতকে চরম রূপ দিয়েছিল। মেটা (Meta) কর্তৃপক্ষ ভুল স্বীকার করে দুঃখপ্রকাশ করলেও তাদের দেওয়া ‘যান্ত্রিক গোলযোগের’ যুক্তিতে আদতে একেবারেই সন্তুষ্ট হতে পারেনি কেন্দ্রীয় সরকার। অবশেষে সেই বিতর্ক সামাল দিতে ও কেন্দ্রের ক্ষোভ প্রশমিত করতে খোদ প্রধানমন্ত্রীর ফেসবুক অ্যাকাউন্টের সুরক্ষায় বিশেষ নজরদারি ও বাড়তি নিরাপত্তার আশ্বাস দিল মেটা। সূত্র মারফত জানা গেছে, টেক-দৈত্য মেটার পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
বাস চালক থেকে ৫০ কোটির ‘সেফ হাউস’, অনুব্রত ঘনিষ্ঠের ‘পাথর সম্রাট’ হয়ে ওঠার নেপথ্য কাহিনি কী?
মেটার দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-সহ দেশের অতীব গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের (VIP Account) সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট দেখভাল ও পর্যবেক্ষণের জন্য এবার থেকে আরও বেশি যত্নশীল হওয়া হবে। এই সমস্ত হেভিওয়েট প্রোফাইলের যেকোনো পোস্ট পর্যালোচনা বা কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিষয়টি সাধারণ কর্মী নয়, বরং মেটার উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা নিজেরাই কয়েক দফায় খতিয়ে দেখবেন। জলঘোলা কমাতে চলতি সপ্তাহের শেষেই মেটার একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ভারত সরকারের প্রতিনিধি ও ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করতে চলেছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার রাতে। দেশজুড়ে চলতে থাকা ছাত্রবিক্ষোভ ও নিট বিতর্ক প্রসঙ্গে সোশাল মিডিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রশ্নফাঁস রুখতে সরকার অত্যন্ত কঠোর আইন আনছে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে সেই ভিডিওবার্তাটি ফেসবুক থেকে কিছু সময়ের জন্য হঠাৎ গায়েব হয়ে যায়। ওই ভিডিও পোস্টের জায়গায় লেখা ওঠে, “আইনি অনুরোধের কারণে এই পোস্টটি ভারতে পাওয়া যাচ্ছে না।” বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হতেই ক্ষমা চেয়ে মেটার মুখপাত্র জানান, প্রযুক্তিগত ভুলের কারণেই সাময়িকভাবে পোস্টটি উধাও হয়েছিল এবং পরে তা পুনরায় ফিরিয়ে আনা হয়।
তবে মেটার এই সাফাইকে যুক্তিযুক্ত মনে করেনি মোদী সরকার। তড়িঘড়ি মেটার জননীতি সংক্রান্ত শীর্ষ আধিকারিককে তলব করে কড়া বার্তা দেয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক। উল্লেখ্য, সিজেপি (CJP)-র নেতৃত্বাধীন সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের সময় সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বেশ কিছু ‘আপত্তিকর’ ছবি ও ভিডিও সরানোর নির্দেশ দিয়েছিল কেন্দ্র। সেই উত্তপ্ত আবহের মাঝেই খোদ প্রধানমন্ত্রীর পোস্ট মুছে যাওয়ার ঘটনা নতুন করে কেন্দ্র-মেটা সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়িয়ে দিয়েছিল, যা সামাল দিতে এখন দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে জাকারবার্গের সংস্থা।



