রাকিবুলের পর আরও এক ‘লক্ষ্মী ছেলে’ জালে! গ্রেফতার চন্দ্রকোণার তৃণমূল নেতা উত্তম সাউ

সবদিক নিউজ: বাংলায় ক্ষমতা বদলের পর পূর্বতন তৃণমূল সরকারের একাধিক জনমুখী প্রকল্পের অন্দরে লুকিয়ে থাকা পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতির পর্দাফাঁস হতে শুরু করেছে। গত বুধবারই নতুন সরকারের ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র অফিশিয়াল ফর্ম প্রকাশ করার সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এক বিস্ফোরক দাবি করেন। তথ্য-পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি দেখান যে, বিগত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের আমলে প্রায় ৩০ লক্ষ ‘ভুয়ো’ প্রাপক অবৈধভাবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করছিলেন। যার মধ্যে বহু পুরুষও জালিয়াতি করে মহিলাদের এই প্রকল্পের টাকা পকেটে পুরেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের পরই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে পুলিশের ব্যাপক ধরপাকড়। বুধবার রাতে বহরমপুরের রাকিবুল শেখের পর, বৃহস্পতিবার মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা থেকে পুলিশ গ্রেফতার করল তৃণমূল নেতা উত্তমকুমার সাউকে।
বিজেপি কর্মীদের চোখেই ধরা পড়ল তৃণমূলের ‘লক্ষ্মী ছেলে’
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা ১ নম্বর ব্লকের মনোহরপুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের মনোহরপুর এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, গত সোমবার এলাকার বিজেপি কর্মীরা নথিপত্র ঘেঁটে প্রথম জানতে পারেন যে, স্থানীয় তৃণমূল নেতা তথা পেশায় ঠিকাকর্মী উত্তমকুমার সাউয়ের নাম মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রাপকদের তালিকায় জ্বলজ্বল করছে!
ধরা পড়ার পর অবশ্য অদ্ভুত এক সাফাই গাইতে দেখা যায় ধৃত তৃণমূল নেতাকে। লকআপে ঢোকার আগে উত্তমবাবু দাবি করেন, “আমি তো আমার স্ত্রীর জন্য আবেদন করেছিলাম। তালিকায় নাম আমার এলেও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আর মোবাইল নম্বর কিন্তু স্ত্রীরই দেওয়া ছিল। টাকাও তাঁর অ্যাকাউন্টেই ঢুকত। নামটা আমার কীভাবে চলে এল, তা আমি নিজেও জানি না। নিশ্চয়ই কোনও বড়সড় টেকনিক্যাল বা প্রযুক্তিগত গোলমাল হয়েছে।”
২০২২ থেকে চলছিল জালিয়াতি, পুলিশের জালে ধৃত নেতা
উত্তম সাউ প্রযুক্তিগত ত্রুটির দোহাই দিলেও আইন যে কড়া পথে চলবে, তা আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত প্রকল্পে একজন পুরুষের নাম থাকাটা সম্পূর্ণ বেআইনি। এই বিষয়ে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিক পাপিয়া সুলতানা জানিয়েছেন, “সামাজিক মাধ্যমে আমরা চন্দ্রকোনা থানা এলাকার একজন পুরুষের নামে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা নেওয়ার একটি গুরুতর অভিযোগ পেয়েছিলাম। তদন্তে নেমে দেখা যায়, ২০২২ সাল থেকে অবৈধভাবে উত্তম সাউয়ের নামে ওই প্রকল্পের টাকা রিলিজ হয়েছে। যদিও ব্যাংক অ্যাকাউন্টটি তাঁর স্ত্রীর ছিল, কিন্তু সরকারি নথিতে বেনিফিসিয়ারি বা সুবিধাভোগী হিসেবে এক পুরুষের নাম ব্যবহার করা হয়েছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, জালিয়াতি এবং সরকারি কোষাগার থেকে প্রতারণা করে টাকা তোলার মতো মোট ৩টি আলাদা আলাদা গুরুতর ধারায় মামলা দায়ের করে বৃহস্পতিবারই অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই চক্রের পেছনে আর কোনও বড় সরকারি আধিকারিক বা ব্লক স্তরের নেতার হাত রয়েছে কি না, তা জানতে তদন্ত আরও জোরদার করছে পুলিশ।



