লাঠিচার্জ মামলায় ভিডিও দেখতে নারাজ সুপ্রিম কোর্ট! CJI-এর মন্তব্যে তোলপাড়

বাংলা হান্ট ডেস্ক : দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশি লাঠিচার্জের অভিযোগ ঘিরে দায়ের হওয়া মামলায় অবিলম্বে শুনানির আবেদন গ্রহণ করল না সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। জরুরি ভিত্তিতে মামলাটি তালিকাভুক্ত করার আবেদন জানানো হলেও দেশের সুপ্রিমকোর্ট তা নাকচ করে দেয়। শুনানির সময় প্রধান বিচারপতির একাধিক মন্তব্যও বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।
ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)
বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে এক আইনজীবী আবেদন করেন, আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশের বলপ্রয়োগের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তাই মামলাটির দ্রুত শুনানি প্রয়োজন। সেই সময় আদালতের সামনে কয়েকটি ভিডিওর উল্লেখ করে ঘটনার প্রমাণ তুলে ধরারও চেষ্টা করা হয়। কিন্তু শুরুতেই প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘ভিডিও নিয়ে আমাদের কোনও মাথাব্যথা নেই। ও সব দেখার সময় নেই।’
আবেদনকারী আইনজীবী এরপর আদালতে দাবি করেন, নিটের প্রশ্নফাঁস, এনটিএ-এর ভূমিকা এবং শিক্ষাব্যবস্থার নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের স্বার্থে আন্দোলন চলছে। তাঁর বক্তব্য ছিল, এই পরিস্থিতিতে আদালতের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তবে সেই যুক্তি শেষ হওয়ার আগেই প্রধান বিচারপতি বলেন, “আমাদের সময় নষ্ট করবেন না। নিজের সময়ও নষ্ট করবেন না।” কিছুক্ষণের মধ্যেই থামিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন,’থ্যাঙ্ক ইউ ভেরি মাচ।’
এতেই থেমে যাননি আবেদনকারী। তিনি ভিডিও ফুটেজ দেখিয়ে পুলিশি অত্যাচারের অভিযোগের পক্ষে আদালতকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেই আবেদনও গ্রহণ করা হয়নি। প্রধান বিচারপতির সাফ জবাব, “আমাদের সময় নেই। আমরা কোনও ভিডিও দেখতে পারব না।” এরপরই জরুরি শুনানির আবেদন খারিজ হয়ে যায়। একই ইস্যুতে মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্টেও জরুরি শুনানির আবেদন করা হয়েছিল। সেখানেও আদালত মামলাটি তৎক্ষণাৎ শুনতে রাজি হয়নি। হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ ছিল, “এ সবের মধ্যে আদালতকে টেনে আনবেন না।”
প্রসঙ্গত, বর্তমানে শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার, NEET-UG বিতর্কের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থান-বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টি ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলি। এই সংগঠনের নাম নিয়েও রয়েছে আলাদা বিতর্ক। একসময় কর্মহীন যুবকদের প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের ‘আরশোলা’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

আরও পড়ুন : শুরু হতে চলেছে ২০২৬-এর কমনওয়েলথ গেমস! ভারতীয় দলে কমল মহিলা অ্যাথলিটের সংখ্যা
উল্লেখ্য, পরে তিনি স্পষ্ট করেন, সমস্ত বেকার যুবককে নয়, ভুয়ো ডিগ্রিধারীদের উদ্দেশ্যেই ওই মন্তব্য করেছিলেন। সেই বিতর্কিত মন্তব্যকেই প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করে নিজেদের নাম রাখে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বার্তাই দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি সংগঠনটি। ফলে এই ইস্যু ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক আগামী দিনেও অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।




