0%

‘শহীদদের আত্মা তৃপ্ত হয়নি’, ২১শে জুলাইয়ের প্রস্তুতি পর্বে মমতাকে নিয়ে বিস্ফোরক শুভঙ্কর সরকার

বাংলা হান্ট ডেস্ক: সামনেই আসছে ২১শে জুলাই। বিগত ১৫ বছর ধরে এই বিশেষ দিনে শহীদ স্মরণে এলাহী আয়োজন করত তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। যদিও এবছর পালা বদলের ছবিটা একেবারে অন্যরকম। রাজ্যে পালাবদলের পর এবছর একাধিক দল একুশে জুলাই (21st July) পালন করতে চলেছে। একদিকে রয়েছে নব ও আদি তৃণমূল অন্যদিকে এবার বড় করে শহীদ দিবস পালন করতে চলেছে প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব ।

শহীদ মিনারে শহীদ দিবস পালন করবে কংগ্রেস

সরকারি অনুমতি নিয়েই এবছর কলকাতার শহীদ মিনারে শহীদ দিবস পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কংগ্রেস নেতৃত্ব । তাই এদিন সরজমিনে সভাস্থল পরিদর্শন করতে গিয়েছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার (Subhankar Sarkar)। সেখানেই এদিন বাংলা হান্ট-এর মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি।

আগামী ২১জুলাই শহীদ স্মরণে ‘শহীদ দিবস’ পালন করার কথা জানিয়ে কংগ্রেস সভাপতি এদিন বলেন, ‘আমরা সেই শহীদদের স্মরণ করবো, যে শহীদদের বুকের রক্তে ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের পতাকা রক্তাক্ত হয়েছিল। সেই পতাকাকে নিয়ে যাঁরা মৃত্যুবরণ করেছিলেন, যাঁদের নির্বিচারে গুলি করা হয়েছিল তাঁরা সুবিচার পাননি।’

আরও পড়ুনঃ আগে দেশের নিরাপত্তা, এয়ারপোর্টের ভেতরে মসজিদ বিতর্কে সাফ জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

‘শহীদদের আত্মা তৃপ্ত হয়নি’ বলে কটাক্ষ শুভঙ্কর সরকারের

রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে বললেন ‘আলাদা দল তৈরি করে তিনি যে শহীদ দিবস পালন করতেন সেখানে এই শহীদদের আত্মা তৃপ্ত হয়নি। তার কারণ তারা সেদিন এসেছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস তথা যুব কংগ্রসের নেতা জেনে এবং কংগ্রেসের পতাকা যুব কংগ্রেসের পতাকা তাঁদের কাঁধে ছিল ।কিন্তু তাদের তর্পণ হলো অন্য পতাকার নীচে। তাঁদের আত্মা সেকারণে আকাশ বাতাস বিদীর্ণ করে বলছেন আমার রক্তে যে পতাকা রঞ্জিত হল, যে পতাকা রক্তাক্ত হল সেই পতাকার মানুষরা আসুন । শহীদ স্মরণে, শহীদ দিবস, শহীদ মিনারের নীচে।’

প্রসঙ্গত তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন কংগ্রেসের তরফে একাধিকবার অভিযোগ উঠেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি কংগ্রেসের কাছ থেকে ২১শে জুলাই হাইজ্যাক করে নিয়েছিলেন। তাই প্রশ্ন ওঠে রাজ্যে বিজেপি সরকার আসার পরেই তাঁরা প্রথমবার যে এই সুযোগ পাচ্ছেন না নিয়ে। তখন অবশ্য দাবী উড়িয়ে দিয়ে তিনি সাফ জানান, ‘একদম ভুল বার্তা। আমরা রেজাল্ট বেরোবার আগে থেকেই, তখন তো জানি না কে সরকারে আসবে, কে আসবে না। এত বড় গণতকার তো আমরা কেউ ছিলাম না, আপনারাও কেউ ছিলেন না।’

আরও পড়ুনঃ সপ্তাহে ৯৬ ঘন্টা ডিউটি মাস্ট! ‘না পোষালে ছেড়ে দিন’, সরকারি ডাক্তারদের নিয়ে বিস্ফোরক স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রসঙ্গত এবছর আরও অনেক দল ২১ জুলাই পালন করছে। একথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হলে ভালো তৃণমূল খারাপ তৃণমূলের কথাও ওঠে। তখন কংগ্রেস সভাপতি বলেন, ‘আমি ভালো তৃণমূল খারাপ তৃণমূল বুঝি না,  আমি এটুকুই বলেছি যাহা বিজেপি তাহাই তৃণমূল, যাহা তৃণমূল তাহাই বিজেপি।

শহীদ মিনারের সামনে দাঁড়িয়েই এদিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও বিঁধলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। তাঁর অভিযোগ, ‘বর্তমানে যিনি মুখ্যমন্ত্রী তিনিই তো মঞ্চে এই শহীদদের অন্য পতাকার নীচে শহীদ দিবস পালন করেছেন। তিনি যখন কংগ্রেসে ছিলেন আজ থেকে তেত্রিশ বছর আগে তখনই তো এই শহীদরা তাঁরা আমার ভাই, তাঁরা আমার দলের কর্মী, সদস্য তাঁরা মৃত্যুবরণ করেছিলেন।  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন পতাকা পরিবর্তন করলেন তখন তাঁর সঙ্গে তিনিও তো সেই পতাকার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন ।’

এখানেই শেষ নয় মমতা-শুভেন্দু উভয়কে একযোগে কটাক্ষ করে এদিন কংগ্রেস সভাপতি বলেন, ‘কথা বলার সময় উনি ভালো ভালো কথা বলেন এটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বলতেন ওই একই স্কুলের ছাত্র তো।’

আরও পড়ুনঃ জলযাত্রীদের উপর পুষ্পবৃষ্টি থেকে মন্দির সংরক্ষণে ১০০ কোটি, ফের একাধিক বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

বিজেপি সরকারের আমলে রাজ্যে তাঁরা আগের চেয়ে বেশী সুযোগ পাচ্ছেন কিনা জানতে চাওয়া হলে আচমকা মেজাজ হারান কংগ্রেস সভাপতি। বাংলা হান্ট-এর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনি বিজেপির চ্যানেলের লোক কিনা আমি জানিনা। আমি যতই বলতে যাচ্ছি আপনি ততই অন্য কথা বলে যাচ্ছেন। উনি তো একসময় বিরোধী দলনেতা হিসাবে হকার তোলার বিরোধিতা করেছিলেন। তাহলে মুখ্যমন্ত্রী হয়ে হকার তুলে দিচ্ছেন কেন?’

 

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker