১১ ম্যাচ পর হার বার্সেলোনার, পিএসজির কাছে নাস্তানাবুদ হয়ে কাকে দুষছেন কাতালান কোচ?

বার্সেলোনার জয়রথ থামাল পিএসজি। চলতি মরশুমে দুরন্ত ছন্দে থাকা হান্সি ফ্লিকের দল সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১১টি ম্যাচ জিতেছিল। সব মিলিয়ে প্রতিপক্ষের জালে ৪৮ বার বলও জড়িয়েছিল কাতালানরা। কিন্তু প্যারিসে সেই গতিতে দাঁড়ি পড়ল। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রোমাঞ্চে ভরা লড়াইয়ে বার্সেলোনাকে ৪-২ গোলে হারিয়ে দিল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি। ম্যাচের শেষ ১০ মিনিটে ভিতিনিয়া ও ফাবিয়ান রুইজের জোড়া গোলেই জয় নিশ্চিত করে প্যারিসের ক্লাবটি। টানা জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামলেও শেষ পর্যন্ত পিএসজির আক্রমণের সামনে হার মানতে হল ফ্লিকের দলকে।
আক্রমণ আর পালটা আক্রমণে জমে উঠেছিল পিএসজি ও বার্সেলোনার লড়াই। বুধবার রাতে পার্ক দে প্রাঁসে দুই দলই বারবার একে অপরের রক্ষণ ভেঙে গোলের সুযোগ তৈরি করে। ৯০ মিনিটের খেলায় দুই দল মিলিয়ে মোট ৪০টি শট নেয়। শেষ পর্যন্ত হান্সি ফ্লিকের বার্সেলোনাকে ৪-২ গোলে হারিয়ে জয় তুলে নেয় পিএসজি। প্যারিসের এই জয়ের অন্যতম নায়ক দেজিরে দুয়ে।
⏱️ 93’ I Faites de beaux rêves. 🥰 #PSGFCB 4️⃣-2️⃣ I #UCL https://t.co/htMG1WAXjG
— Paris Saint-Germain (@PSG_inside) October 20, 2026
বার্সেলোনা খারাপ খেলেনি। পাসের পর পাসে পিএসজির রক্ষণে ফাটলও ধরিয়েছে। কিন্তু সেই দাপট ধরে রাখতে পারেনি তারা। উলটে নিজেদের ভুলের মাশুল দিতে হয়েছে বারবার। অন্যদিকে, পিএসজি ছিল অনেক বেশি সংঘবদ্ধ। তাদের আক্রমণ ছিল অনেক বেশি বৈচিত্রপূর্ণ। তারাই সুযোগ বেশি কাজে লাগিয়েছে। যার ফলও মিলেছে হাতেনাতে। ক্লাতালান ক্লাবের অশ্বমেধের ঘোড়া তাদের সামনে এসেই থমকে গিয়েছে। গোল উৎসবের এই ম্যাচে ছন্দ কেটেছে চোট-আঘাত। দুই দলের চার ফুটবলারকে মাঠ ছাড়তে হয়েছে। পিএসজির উসমান দেম্বেলে ও মারকিনিয়োস হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটের কবলে পড়েন। বার্সেলোনার দানি ওলমোকে প্রথমার্ধেই তুলে নিতে হয়। দ্বিতীয়ার্ধে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন পিএসজির খভিচা কভারাতসখেলিয়াও।
শুরু থেকেই আক্রমণে ঝাঁপিয়েছিল দু’দল। বার্সেলোনা বলের নিয়ন্ত্রণ রেখে ছোট ছোট পাসে এগোনোর চেষ্টা করেছে। মাঝমাঠে পেদ্রির পাস থেকে তৈরি হয়েছে একাধিক সুযোগ। কিন্তু ফিনিশিংয়ের অভাব এবং গোল করার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তহীনতা বারবার ভুগিয়েছে তাদের। অ্যান্টনি গর্ডন, রাফিনহা ও লামিনে ইয়ামালের বোঝাপড়াতেও কোথাও যেন খামতি ছিল। বিশেষ করে গর্ডনকে বেশ নিষ্প্রভ দেখিয়েছে। বিপক্ষের রক্ষণ ভাঙতে পারেননি তাঁরা। গোলের সুযোগও কাজে লাগাতে পারেননি।
অন্যদিকে, পিএসজি তুলনায় বেশি শট নিয়েছে। বার্সা গোলরক্ষক জোয়ান গার্সিয়া বেশ কয়েকটি সেভ করতে না পারলে প্রথমার্ধে পিএসজি আরও ব্যবধান বাড়াতে পারত। যদি বিরতির ঠিক আগে বক্সের কাছে বল পেয়ে ডান পায়ে শট নেন দুয়ে। দুই ডিফেন্ডারের মাঝখান দিয়ে নিচু শটে বল জালে জড়িয়ে দেন। প্রথমার্ধের শেষ দিকে এগিয়ে যায় পিএসজি। বিরতির পরে অবশ্য ম্যাচে ফেরে বার্সেলোনা। পাসের পর পাসে পিএসজির রক্ষণ ভেঙে ৫৫ মিনিটে সমতা ফেরায় তারা। বক্সে ঢুকে জোরালো শটে গোল করেন তরুণ জাভি এসপার্ট।
Psg after beating Barcelona 😂 https://t.co/8SZ8p3Yqk8
— Fondre (@UTDFondree) October 20, 2026
তবে সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। কর্নার থেকে হেডে গোল করে পিএসজিকে আবার এগিয়ে দেন লুকাস এর্নান্দেস। বার্সাকে সমতায় ফেরান ইয়ামাল। পিএসজির বক্সে ঢুকে ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোল করে ২-২ করেন তিনি। মনে হচ্ছিল, ম্যাচের রাশ এবার বার্সেলোনার হাতে। কিন্তু যে দলে ভিটিনিয়া ও ফাবিয়ান রুইজের মতো ফুটবলার রয়েছে, তাদের আর চিন্তা কীসের? বক্সের বাইরে থেকে দুরন্ত শটে গোল করে পিএসজিকে এগিয়ে দেন ভিটিনিয়া। তার পর দূরের পোস্টে এসে বল জালে ঠেলে দেন রুইজ। পর পর দুই গোলে ৪-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় পিএসজি। শেষ দিকে আর ম্যাচে ফেরার মতো সময় বা সুযোগ কোনওটাই পায়নি বার্সেলোনা।
ম্যাচ শেষে বার্সেলোনা কোচ ফ্লিক স্বীকার করে নেন, তাঁদের ভুলই হার ডেকে এনেছে। তিনি বলেন, “এই ম্যাচে আমরা অনেক বেশি ভুল করেছি। বলের দখল রাখার সময়েও ভুল হয়েছে। পাসিংয়েও ভুল হয়েছে। এই ম্যাচটার পর আমাদের কোথায় উন্নতি করতে হবে, সেটা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে।” ফ্লিক আরও জানিয়েছেন, রবিবার মরশুমের প্রথম এল ক্লাসিকোয় খেলবেন রদ্রি। যিনি এই ম্যাচের শুরুতে বেঞ্চে ছিলেন। উল্লেখ্য, পিএসজি-বার্সেলোনা ম্যাচের পাশাপাশি ইউরোপের অন্য মাঠেও ছিল গোলের রোশনাই। পিএসজির কাছে হারের ধাক্কা সামলে দুরন্ত প্রত্যাবর্তন ম্যাঞ্চেস্টার সিটির। এরিক হালান্ডকে প্রথম একাদশের বাইরে রেখেই এইকে এথেন্সকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিল তারা। ফিল ফোডেন হ্যাটট্রিক করেন। অন্য ম্যাচে ০-২ গোলে পিছিয়ে পড়েও ভিয়ারিয়ালকে ৪-৩ গোলে হারিয়েছে লিভারপুল। ১০ জনে হয়ে গিয়েও স্টুটগার্টের বিরুদ্ধে ১-১ ড্র করে অ্যাটলেতিকো মাদ্রিদ।
শেয়ার
লিংক



