: ২৬/১১-এর গল্পে নিয়ে ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’ কেমন হল?

প্রথমে শুনেই মনে হয়েছিল আবারও ২৬/১১-র কামা হাসপাতালের গল্প? একই ঘটনার এতবার পুনরাবৃত্তির পর নতুন কিছু কি আদৌ পাওয়ার আছে? কিন্তু ছবিটি দেখার পর সেই সন্দেহ একেবারেই উবে যায়।
রিতেশ শাহের দৃঢ় চিত্রনাট্য ও মনোজ তাপাডিয়ার নিখুঁত পরিচালনায় ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’ শুধু আরেকটি পুনর্কথন নয়, বরং এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি। এই ছবির আসল শক্তি তার ফোকাস, কামা হাসপাতালের সাহসী নার্সদের ওপর, যারা ভয়ংকর পরিস্থিতিতেও মানবতার আলো জ্বালিয়ে রেখেছিলেন।
ছবিটি নির্মম সন্ত্রাসের চিত্র তুলে ধরে, কিন্তু কোনও বিদ্বেষ ছড়ায় না। বরং, জীবনের প্রতি দায়বদ্ধতা আর মানবিকতার জয়গানই এখানে মুখ্য হয়ে ওঠে। কঙ্গনা রানাউত (Kangana Ranaut) নার্স গীতা চরিত্রে দুর্দান্ত। দীর্ঘদিন পর তাঁকে এমন শক্তিশালী ও নিয়ন্ত্রিত অভিনয়ে দেখা গেল। তবে ছবির সবচেয়ে বড় সাফল্য তিনি একাই সবটা দখল করে নেন না, বরং গোটা দলটাই সমান উজ্জ্বল। গিরিজা ওক গডবোল বিশেষভাবে নজর কাড়েন, কয়েকটি দৃশ্যে প্রায় চুরি করে নেন দর্শকের মন।
ছবির গতি অসাধারণ, এক মুহূর্তের জন্যও ঢিলে পড়ে না। আপনি জানেন কী ঘটেছিল, তবুও প্রতিটি দৃশ্যে বুক ধড়ফড় করবে। নার্সদের বুদ্ধি, সাহস আর একতা এই তিনের মেলবন্ধনই ছবিটিকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।
আরও পড়ুন: তেলুগু ডায়লগে নার্ভাস থেকে সাফল্য জানভির
হাসপাতালের ভেতরের ছোটখাটো রাজনীতি, সহকর্মীদের সম্পর্ক সবকিছুই বাস্তবের ছোঁয়ায় আঁকা। তবে কোনও কিছুই মূল গল্পকে ছাপিয়ে যায় না। সব মিলিয়ে, ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’ শুধু একটি ঘটনার পুনরাবৃত্তি নয়, এটি মানবিক সাহসের এক আবেগঘন উদযাপন। যারা জীবন বাঁচান, সেই নীরব যোদ্ধাদের প্রতি এক আন্তরিক শ্রদ্ধাঞ্জলি।
কাস্ট: কঙ্গনা রানাউত, গিরিজা ওক গডবোল, স্মিতা তাম্বে, ঈশা দে, সুহিতা ঠাট্টে, আশা শেলার, আদিত্য মিশ্র, জাহিদ খান, সায়াজি শিন্ডে
পরিচালক: মনোজ তাপাডিয়া
রেটিং: ★★★☆☆ (৩/৫)
আরও পড়ুন: অক্ষয়-প্রিয়দর্শনের জুটি আবার হিট! OTT-তে আসছে ‘ভূত বাংলো’



