Singur may be flourished with industries, hope ‘Mastermoshai’ Rabindranath Bhattacharya

২০১১ সালে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষমতায় আসার পথ দেখিয়েছিল সিঙ্গুর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলনের জেরে সেখানে শিল্প না করেই চলে যেতে হয়েছিল টাটা গোষ্ঠীকে। সেই সিঙ্গুরেই ছাব্বিশের ভোটে পরাজিত হয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী তথা রাজ্যের মন্ত্রী বেচারাম মান্না। সেইসঙ্গে রাজ্যে সরকার গঠন করতে চলেছে বিজেপি। ফলে সিঙ্গুর-সহ রাজ্যে নতুন করে শিল্পের সম্ভাবনা দেখছেন ‘মাস্টারমশাই’ রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। তবে একইসঙ্গে বিজেপিকে সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি। সিপিএমের মতো অত্যাচার এবং তৃণমূল কংগ্রেসের মতো দুর্নীতির পথে হাঁটলে জনগণ আগামী দিনে বিজেপিকেও শিক্ষা দেবে বলে মনে করছেন ‘মাস্টারমশাই’।
২০০৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক পরেই টাটাদের ন্যানো কারখানা গড়ে তোলার ঘোষণা এবং কাজ শুরু করেছিল তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সিঙ্গুরে শিল্প তৈরির মাধ্যমে রাজ্যে নতুন করে শিল্পের নবজাগরণ আনতে চেয়েছিলেন। তবে সেখানে কৃষকদের কাছ থেকে জোর করে জমি নেওয়া হচ্ছে এই অভিযোগ তুলে আন্দোলন শুরু হয়েছিল। সেই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। সিঙ্গুর থেকে তৃণমূলের টিকিটে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। ২০১১ সালে রাজ্যে পরিবর্তনের পরে, তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে মন্ত্রীও হয়েছিলেন সিঙ্গুরের ‘মাস্টারমশাই’।
২০১৬ সালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কৃষকদের জমি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে কৃষি কাজের পাশপাশি শিল্প স্থাপন করার কথাও বলেছিলেন তিনি। সেই জমি এখন বন্ধ্যা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সেখানে না হয়েছে কৃষি, না হয়েছে শিল্প। ২০২১ সালে রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যকে টিকিট দেয়নি তৃণমূল। সেই অভিমানে বিজেপিতে যোগ দিয়ে সিঙ্গুর আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। তবে তাঁকে হারতে হয়েছিল বেচারাম মান্নার কাছে। চলতি বছরের নির্বাচনে ওই আসনে হেরেছেন বেচারাম। সিঙ্গুরে জিতেছেন বিজেপির অরূপ কুমার দাস। তবে শুধু সিঙ্গুরেই নয়, রাজ্যে জুড়েই ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের। এই হারের অন্যতম প্রধান কারণ দুর্নীতি বলে মনে করেন রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য।
এখন বয়সজনিত কারণে বাড়ি থেকে আর বেরতে পারেন না তিনি। তবে বিজেপির জয়ে খুশি রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। তিনি মনে করছেন, বিজেপি জেতার ফলে সিঙ্গুরে আবার নতুন করে শিল্পের সম্ভাবনা দেখা দেবে। সেই সঙ্গে গোটা রাজ্যে শিল্প এবং কৃষির সহাবস্থান হবে। বিজেপি সরকারের কাছে তাঁর দাবি, নতুন করে শিল্প গড়ে উঠুক সিঙ্গুরে। রাজ্যেও বিভিন্ন শিল্পপতিরা শিল্প স্থাপন করুক। তবে নতুন যে সরকার শপথ নেবে তাদের জন্য সতর্কবার্তাও দিয়েছেন সিঙ্গুরের ‘মাস্টারমশাই’। তাঁর মতে, অহংকারই তৃণমূলের পতনের কারণ। তাই বিজেপিকে দুর্নীতিগ্রস্ত হলে হবে না। তাদের স্বচ্ছ থাকতে হবে। অন্যথায় সিপিএম এবং তৃণমূলের মতোই করুণ অবস্থা হবে বিজেপির।
শেয়ার
লিংক



