0%

বিরাট কীর্তির আবহে গিল-পাতিদারের যুদ্ধ, আইপিএল ফাইনালে দুই অধিনায়কের মধ্যে এগিয়ে কে?

বিরাট কোহলির শনিবার রাতে ঘুম হল কিনা, জানা নেই। এক অপার্থিব মাইলস্টোনের সম্মুখে যে দাঁড়িয়ে রয়েছেন তিনি। দু’বার, পরপর দু’বার আইপিএল জয়ের সরণিতে দাঁড়িয়ে পড়েছেন কোহলি! যে ট্রফির আশায় চাতক পাখির মতো অপেক্ষা করতে হয়েছে আঠারোটা বছর, যে ট্রফি শেষ পর্যন্ত তিনি প্রথম ছুঁয়ে দেখেছেন গতবার, এবার তা আবার ছোঁয়ার পালা। আবার তা ছুঁয়ে দেখার ব্রাহ্ম-মুহূর্ত। লোককে বুঝিয়ে দেওয়া যে, গত বারের ট্রফি জয় কাকতালীয় ছিল না মোটে। তবে কাজটা সহজ হবে না বিরাটদের। আইপিএল উনিশ ফাইনালে আরসিবির প্রতিপক্ষ যারা, সমান দুর্ধর্ষ ক্রিকেট খেলেছে তারাও। প্রথম কোয়ালিফায়ারে আরসিবির কাছে হেরে গেলেও, দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে রাজস্থান রয়‍্যালসকে গুঁড়িয়ে দিয়ে আইপিএল ফাইনালে উঠেছে তারা। আজ, রবিবার আহমেদাবাদে গুজরাট টাইটান্স জিতলে আরসিবির মতো সেটাও তাদের দু’নম্বর ট্রফি হবে। দেখতে গেলে, সার্বিক একটা বিরাট-মায়া রবিবার ছেয়ে থাকবে আইপিএল ফাইনালের আহমেদাবাদে। কিন্তু মূল যুদ্ধটা চলবে দু’জনের মধ্যে। আরও ভালো করে বললে, দুই টিমের দুই অধিনায়কের মধ্যে। রজত পাতিদার বনাম শুভমান গিল।

প্রথম জন, আরসিবি অধিনায়ক। যিনি ৩৩ বলে অপরাজিত ৯৩ করে প্রথম কোয়ালিফায়ারে একা হারিয়ে দিয়েছিলেন টাইটান্সকে। দ্বিতীয় জন, গুজরাট টাইটান্স অধিনায়ক। যিনি গত রাতে বৈভব সূর্যবংশী নামক এক ঘূর্ণিঝড়কে পাল্টা দিয়ে সেঞ্চুরি করে ফাইনালে তুলে দেন দলকে। আইপিএল ফাইনাল এবার হচ্ছে আহমেদাবাদে। যা কিনা আদতে গুজরাট টাইটান্সের ঘরের মাঠ। কিন্তু শুভমান কিছুতেই নিজেকে প্রত্যাশার চাপে পড়তে দিতে চান না।

শনিবার প্রাক্ ফাইনাল সাংবাদিক সম্মেলনে এসে গিল বলছিলেন, “সত্যি বলতে, নিজেকে প্রত্যাশার চাপে আমি পড়তে দিতে চাই না। আহমেদাবাদে খেললে একটা সুবিধে পাওয়া যায় অবশ্যই। কারণ, মাঠ সম্পর্কে, পরিবেশ-পরিস্থিতি সম্পর্কে আমাদের একটা জ্ঞান রয়েছে। সে দিক থেকে একটা অ্যাডভান্টেজ তো বটেই। যা-ই হোক, জিতি বা হারি, এটুকু বলব যে আমাদের মরশুমটা দারুণ গিয়েছে। কিন্তু আরসিবি ফাইনাল খেলার আগে বাড়তি বিশ্রাম পেয়ে গিয়েছে। প্রথম কোয়ালিফায়ার হেরে যাওয়ার পর টাইটান্সকে ফাইনালে উঠতে হয়েছে, রাজস্থানের বিরুদ্ধে লড়ে। “মানছি যে, আরসিবি কিছুটা হলেও আমাদের চেয়ে বেশি তাজা থাকবে। কিন্তু যে কোনও টুর্নামেন্টের ফাইনাল মাচ পুরোটাই মানসিক যুদ্ধ হয়। তাই ফাইনালের চাপটা যে টিম তুলনায় ভালো ভাবে নিতে পারবে, তারাই জিতবে।”

শুভমানের সামনে আরও একটা বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে রবিবাসরীয় ফাইনালের। তা হল, আইপিএল জিতে ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলে পুনরায় নিজের জায়গা ফেরত নেওয়া। এখানে স্মরণ করিয়ে দেওয়া যাক, মাঝে ভারতের টি-টোয়েন্টি দলের সহ-অধিনায়ক হিসেবে ফিরেছিলেন শুভমান। কিন্তু লাগাতার ব্যর্থতায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে দল থেকে বাদ পড়ে যান তিনি। বিশ্বকাপও খেলা হয়নি আর। এবারের আইপিএলে এখনও ৭২২ রান করেছেন গিল। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান-তালিকায় এই মুহূর্তে দু’নম্বরে রয়েছেন তিনি। শুভমান জানেন, রবিবারের ফাইনালে তাঁর একট বড় রান জাতীয় নির্বাচকদের কাজ বাড়িয়ে দিতে পারে। “দেশের হয়ে খেলতে কে না চায়? আমাকে যদি আবার ভাবা হয় টি-টোয়েন্টি টিমে ভালোই লাগবে,” বলে দিয়েছেন তিনি।

আরসিবি অধিনায়ক রজত পাতিদার তিনিও এক অনন্য নজিরের সামনে দাঁড়িয়ে। মহেন্দ্র সিং ধোনি এবং রোহিত শর্মা বাদে আজ পর্যন্ত কোনও অধিনায়ক আজ পর্যন্ত পরপর দু’টো আইপিএল জেতেননি। রবিবার জিতলে, সে নজির স্পর্শ করবেন রজত। শনিবার পাতিদার বলছিলেন, “ট্রফি জিততে সব অধিনায়কই চায়। কিন্তু একই সঙ্গে নিজের মতো থাকাটা জরুরি। আমি কখনও ভাবতেই যাইনি, কোন অধিনায়ক কী করেছে। আমি কারও সঙ্গে তুলনাতেও নামতে চাই না। জীবনে উত্থানের মতো পতনও দেখেছি আমি। তাই আমি যা-ই করি, চেষ্টা করি নিজের সেরাটা দিতে।” পাতিদারের বড় শক্তি, দলের বোলিং। ভুবনেশ্বর কুমার, জশ হাজেলউড, জেকব ডাফি সম্মিলিত পেস আক্রমণ সম্ভবত এবারের আইপিএলের সেরা। সঙ্গে আবার তরুণ পেসার রশিক সালাম। পাতিদার বলছিলেন, “যে কোনও টুর্নামেন্ট জেতায় বোলাররা। আর আমার ভাগ্য ভালো যে, আমাদের বোলিংটা দারুণ। কী বোলিংটাই না করছে ভুবনেশ্বর কুমার। ১৫ ম্যাচে ২৬০ টা উইকেট নিয়েছে ও। আমাদের দলের জয়ে বড় ভূমিকা নিচ্ছে ভুবনেশ্বর।”দেখার, ফাইনালেও আরসিবিকে তাদের বোলিংই জেতায় কি না?

আজ আইপিএলে
আরসিবি বনাম গুজরাট টাইটান্স
ফাইনাল, সন্ধে ৭.৩০
আহমেদাবাদ, স্টার স্পোর্টস

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker