পুরনো মন্তব্যে বিপাকে ফিরহাদ? ধর্মীয় উস্কানির অভিযোগ, উঠল গ্রেফতারের দাবি

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্যে সরকার বদলের পর তৃণমূলের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে পুরনো অভিযোগ সামনে আসছে। এবার প্রাক্তন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের (Firhad Hakim) বিরুদ্ধে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন এক বিজেপি কর্মী। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালে কয়েকটি সভা ও অনুষ্ঠানে ফিরহাদ হাকিম মহিলাদের নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করেছিলেন এবং ধর্মীয় উস্কানিমূলক বক্তব্যও দিয়েছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁর গ্রেফতারের দাবি উঠেছে।
ফিরহাদ হাকিমকে (Firhad Hakim) ঘিরে নতুন বিতর্ক
বুধবার সকালে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন বিজেপি কর্মী সঞ্জয় পয়রা। অভিযোগকারীর দাবি, ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর সন্দেশখালিতে তৃণমূলের একটি সভায় তৎকালীন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim) মহিলাদের সম্পর্কে অসম্মানজনক মন্তব্য করেছিলেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়েও ব্যঙ্গ ও কটাক্ষ করেছিলেন বলে অভিযোগ।
সঞ্জয় পয়রার কথায়, ওই সভার ভিডিও তাঁদের কাছে রয়েছে। তিনি জানান, সেই সময়ও তাঁরা থানায় অভিযোগ জানাতে এসেছিলেন। কিন্তু তখন অভিযোগ নেওয়া হয়নি। এবার ফের একই অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, অভিযোগকারীর দাবি, ২০২৪ সালের ৩ জুলাই একটি সরকারি অনুষ্ঠানে ফিরহাদ হাকিম ধর্মীয় উস্কানিমূলক মন্তব্যও করেছিলেন। সেই ঘটনার পরও থানায় অভিযোগ জানানো হয়েছিল বলে তাঁর দাবি। তবে তখনও পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করেনি।
অভিযোগ দায়েরের পর সঞ্জয় পয়রা বলেন, ধর্মীয় বিভাজন তৈরি করতে পারে এমন মন্তব্যের জন্য ফিরহাদ হাকিমের (Firhad Hakim) বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তিনি তাঁর গ্রেফতারিরও দাবি জানিয়েছেন। এদিন পুলিশের ভূমিকাও উল্লেখ করেন ওই বিজেপি কর্মী। তাঁর দাবি, আগে তাঁদের অভিযোগ গ্রহণ করা হত না। কিন্তু এখন পুলিশ নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে বলেই তাঁর অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ বড় ঘোষণা! শুভেন্দুর মন্ত্রিসভার ৩৫ মন্ত্রীর দফতর বণ্টন, কে পেল কোন মন্ত্রক?
উল্লেখ্য, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর একাধিক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এসেছে। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন নেতাকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের হয়েছে। সেই আবহেই এবার ফিরহাদ হাকিমের (Firhad Hakim) বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অভিযোগ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন এই ঘটনায় পুলিশ কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।




