0%

নিয়োগ দুর্নীতির নেপথ্যে কে? অভিষেকের নাম করে বিস্ফোরক অভিযোগ তাপস মণ্ডলের

বাংলা হান্ট ডেস্ক : শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি (Recruitment Scam) মামলায় একসময় গ্রেফতার হয়ে পরে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন তাপস মণ্ডল (Tapas Mondal)। এবার সম্প্রতি টিভি নাইন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আর্থিক লেনদেন ও প্রভাবশালীদের ভূমিকা নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ করেন। তাপস মন্ডলের দাবি, কোটি কোটি টাকার আদান-প্রদানের পুরো প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে পরিচালিত হত। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, এই চক্রের শীর্ষে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

নিয়োগ দুর্নীতি (Recruitment Scam) মামলায় মুখ খুললেন তাপস মণ্ডল

এমনকি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হয়নি। সাক্ষাৎকারে তাপস মণ্ডলের কাছে প্রথমেই জানতে চাওয়া হয়, কুন্তল ঘোষের কাছে তাঁর মাধ্যমে মোট কত টাকা পৌঁছেছিল। তিনি জানান মোট ১৯ কোটি ৪৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা তার কাছে পৌঁছেছিল। এই বিপুল অঙ্কের অর্থ একসঙ্গে নয়, কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

অর্থ লেনদেনের প্রতিটি হিসাব সংরক্ষণের জন্য একটি ডায়েরি ব্যবহার করা হত বলেও জানান তাপস মণ্ডল। তিনি বলেন, “আমি একটা ডায়রি মেনটেইন করতাম। ওকে বলেছিলাম যত টাকা নিয়ে যাবে ওই লিখে রাখবে। আবার যখন কেউ টাকা দিতে যেত ওই ডায়রি সঙ্গে করে নিয়ে যেত। কুন্তল সই করে টাকা নিত। ১৯ কোটি ৪৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা কুন্তল রিসিভ করত।”

এরপর প্রশ্ন ওঠে, কুন্তল ঘোষের হাতে পৌঁছনোর পর সেই অর্থ কোথায় যেত। জবাবে তাপস মণ্ডল দাবি করেন, “এই টাকা কাকুর কাছে যেত। আর কাকু যেহেতু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোক, আর উনি অভিষেকের নাম করেই যেহেতু টাকা নিচ্ছে আমি কনফার্ম ছিলাম যে তাহলে অভিষেকের কাছেই টাকা যাচ্ছে। সুজয় ভদ্রের সঙ্গে কুন্তলের যে কথা হত সেটা শুনেছি। টাকার চাপ আসত আমি বুঝতাম।”

‘কালীঘাটের কাকু’ নামে পরিচিত ব্যক্তি কখনও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম সরাসরি উচ্চারণ করতেন কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে তাপস মণ্ডল জানান, “উনি (কালীঘাটের কাকু) অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম বলতেন না। বলতেন সাহেব। অনেক সময় বলতেন, সাহেব চাপ দিচ্ছেন টাকা না দিলে ভেরিফিকেশন বন্ধ। টাকা পাঠাও।”

নিয়োগ দুর্নীতির মূল পরিকল্পনাকারী কে-এর উত্তরে তাপস মণ্ডল সরাসরি বলেন,”অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ ছাড়া নিয়োগ দুর্নীতি হচ্ছে এটা মেনে নিতে পারছি না। উনিই মাথা। আমি কুন্তলের নামে অভিষেককে চিঠি দিই। বলেছিলাম আপনার নাম করে কোটি কোটি টাকা তুলছে। কোনও উত্তর পেলাম না।” মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয়ে অবগত ছিলেন বলেই সাক্ষাৎকারে জানান তিনি।

Tapas Mondal opens up about recruitment scam

আরও পড়ুন :গাড়ি দেখেই চেনা যাবে পদমর্যাদা! আমলাদের জন্য বড় নিয়ম আনল নবান্ন

তদন্তের অগ্রগতি এবং এখনও পর্যন্ত কিছু অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার প্রসঙ্গেও নিজের মত প্রকাশ করেন তাপস মণ্ডল। তাঁর বক্তব্য, “আমি তদন্তকারী সংস্থাকে অনেক সাহায্য় করেছি। ওরা খুবই অ্যাক্টিভ। আমার মনে হয়েছে তদন্তে ঘাটতি আছে। আর অভিষেককে গ্রেফতার করতে তথ্য প্রমাণ দরকার। এই গোটা রাজ্যে হাজার কুন্তল পাওয়া যাবে।” তাপস মণ্ডলের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর নিয়োগ দুর্নীতি মামলা ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তাঁর এই অভিযোগগুলির বিচার ও সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব তদন্তকারী সংস্থা এবং আদালতের। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই দাবিগুলিকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা হবে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker