“এবার ডিমের জায়গায় ইট মারা হবে!”, পলাতক ২ হাজার পঞ্চায়েত প্রধানকে হুঁশিয়ারি দিলীপের

সবদিক নিউজ: রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর থেকেই দুর্নীতির অভিযোগে গ্রামীণ স্তরের বহু তৃণমূল নেতা ও পঞ্চায়েত প্রধান আমজনতার ক্ষোভের মুখে পড়েছেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ অনেক জায়গায় নেতাদের লক্ষ্য করে ডিম ছুড়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। আর এই ‘ডিম হামলা’র ভয়েই রাজ্যের প্রায় ২ হাজার পঞ্চায়েত প্রধান বর্তমানে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় হয়ে ঘরে বসে আছেন অথবা এলাকা ছেড়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন। এর ফলে থমকে গিয়েছে গ্রামীণ স্তরের সমস্ত সরকারি কাজ। এই অচলাবস্থা কাটাতে ক্ষোভে ফেটে পড়ে পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে সরকারি বেতন নেবেন, অথচ ভয়ে দফতরে এসে পরিষেবা দেবেন না, এটা বরদাস্ত করা হবে না। কাজ করতে না পারলে অবিলম্বে পদত্যাগ করুন।”
স্তব্ধ আবাস-সড়ক যোজনা, মিলছে না সার্টিফিকেট! চরম ভোগান্তিতে আমজনতা
পঞ্চায়েত মন্ত্রী নিজেই স্বীকার করে নিয়েছেন যে, প্রধানরা অফিসে না আসায় সরকারি প্রকল্পগুলির রূপায়ণে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। গ্রামীণ এলাকার মানুষ জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র (Certificate) পাচ্ছেন না, থমকে গিয়েছে পঞ্চায়েতের জরুরি টেন্ডার প্রক্রিয়া। এর ফলে গ্রামীণ রাস্তাঘাট নির্মাণ এবং নতুন করে শুরু হতে চলা ‘আবাস যোজনা’ ও ‘সড়ক যোজনার’ মতো মেগা কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে পড়েছে। ঠিকাদারদের বকেয়া পেমেন্টও আটকে রয়েছে প্রধানদের সই না মেলায়।
“ভালয় ভালোয় চলে আসুন, নতুবা ঘেরাও হবে বাড়ি”, বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ
এই চরম সংকটের সমাধানে প্রথমে কিছুটা নরম সুরে আবেদন জানিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “যাঁরা জনগণের ভোটে জিতে এসেছেন, তাঁরা দপ্তরে এসে কাজ শুরু করুন। এলে হয়তো দু-চারজন লোক টোন-টিটকিরি করতে পারে, কিন্তু রাজনীতি করতে এলে ওটুকু ভয় পেলে চলবে না।” তবে এর পরেই নিজের চেনা মেজাজে ফিরে হুঙ্কার দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “যদি ভাল কথায় কাজ না হয়, তবে এবার কড়া পদক্ষেপ করবে সরকার। প্রয়োজনে প্রধানদের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হবে। পুলিশ তাঁদের ঘাড় ধরে তুলে এনে অফিসে বসাবে। সাধারণ মানুষকে দিয়ে ওইসব পলাতক প্রধানদের বাড়ি ঘেরাও করানো হবে। তখন কিন্তু আমজনতা ডিমের জায়গায় ইট মারবে! তাই বলছি, ভালয় ভালয় নিজেদের দফতরে ফিরে আসুন।” পঞ্চায়েত মন্ত্রীর এই অল-আউট হুঁশিয়ারির পর এখন গ্রাম বাংলার রাজনৈতিক অলিন্দে রীতিমতো কম্পন শুরু হয়েছে।



