সুন্দরবনে বাড়ছে ডোরাকাটা, শাবকদের দেখা মিলতেই মিলল বড় সুখবর

AK Bangla 24×7 Digital: সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে নীরবেই লেখা হচ্ছে এক সুখবরের গল্প। যে জঙ্গল রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের শেষ বড় আশ্রয়, সেই ম্যানগ্রোভ অরণ্যে বাড়ছে বাঘের সংখ্যা। শুধু তাই নয়, ট্র্যাপ ক্যামেরায় ধরা পড়ছে সুস্থ শাবকের উপস্থিতিও। আর সেটাই এখন বন দফতরের কাছে সবচেয়ে বড় আশার আলো।
আন্তর্জাতিক বাঘ দিবস ২৯ জুলাইয়ের ঠিক আগে বড় ঘোষণা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের বনমন্ত্রী মনোজ ওরাওঁ। তাঁর কথায়, সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বেড়েছে। বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে। তবে শুধু সংখ্যাই নয়, শাবকদের উপস্থিতি প্রমাণ করছে সংরক্ষণের লড়াই সঠিক পথেই এগোচ্ছে। কারণ শাবকদের সরকারি গণনায় ধরা না হলেও, তাদের জন্মই ভবিষ্যতের বাঘ বাড়ার সবচেয়ে বড় ইঙ্গিত।
বন দফতর সূত্রের অনুমান, এই মুহূর্তে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ১০৫ থেকে ১১০-এর মধ্যে। মনে করিয়ে দেওয়া যাক, ২০২২ সালের জাতীয় বাঘগণনার চূড়ান্ত রিপোর্ট ‘স্ট্যাটাস অব টাইগার্স ২০২২’ প্রকাশিত হয়েছিল ২০২৩ সালের আন্তর্জাতিক বাঘ দিবসে। প্রতি ৪ বছর অন্তর হওয়া সেই সমীক্ষায় গোটা ভারতে বাঘের সংখ্যা ধরা হয়েছিল ৩,৬৮২। তার মধ্যে ভারতীয় সুন্দরবনে ছিল ১০১টি বাঘ। অর্থাৎ নতুন হিসাব সেই সংখ্যাকে ছাপিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
২০২৫-২৬ সালের সর্বভারতীয় বাঘ গণনার মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু হয় ২০২৫ সালের শেষ দিকে। ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যে সুন্দরবনের বিভিন্ন প্রান্তে বসানো হয় ১,৪০০টিরও বেশি ট্র্যাপ ক্যামেরা। জাতীয় বাঘ সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ এবং ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার যৌথ উদ্যোগে চলছে এই সমীক্ষা। চূড়ান্ত রিপোর্ট আগামী বছর প্রকাশিত হওয়ার কথা। তবে ২৯ জুলাই কিছু প্রাথমিক প্রবণতা সামনে আসতে পারে বলে সূত্রের খবর।
সবশেষ সরকারি রিপোর্টে ভারতীয় সুন্দরবনে প্রতি ১০০ বর্গকিলোমিটারে বাঘের ঘনত্ব ধরা হয়েছিল ৪.২৭। অথচ এই ম্যানগ্রোভ অরণ্যের সম্ভাব্য ধারণক্ষমতা প্রতি ১০০ বর্গকিলোমিটারে ৪.৬৮টি বাঘ। অর্থাৎ এখনও বৃদ্ধির কিছুটা জায়গা রয়েছে।
ভারত ও বাংলাদেশ মিলিয়ে প্রায় ১০,০০০ বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত সুন্দরবনের মধ্যে প্রায় ৪,০০০ বর্গকিলোমিটার ভারতের অংশ। এর মধ্যে সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভের আয়তন প্রায় ২,৬০০ বর্গকিলোমিটার। রয়েছে সুন্দরবন জাতীয় উদ্যানের পূর্ব ও পশ্চিম অংশ, সজনেখালী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এবং বসিরহাট রেঞ্জ। অন্যদিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা বন বিভাগের মাতলা, রায়দিঘি ও রামগঙ্গা রেঞ্জ মিলিয়ে বাঘের আবাসস্থল প্রায় ১,১০০ বর্গকিলোমিটার।
তবে সুখবরের মধ্যেই রয়েছে সতর্কবার্তা। সম্প্রতি অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত মুখ্য বন সংরক্ষক ও সুন্দরবন বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভের প্রাক্তন পরিচালক নীলঞ্জন মল্লিক বলছেন, বাঘ বাড়া অবশ্যই ইতিবাচক, কিন্তু সংখ্যা বাড়লে সংঘাত এড়াতে তাদের নিরাপদ বিচরণক্ষেত্রও বাড়াতে হবে। কারণ ভারতের অন্য বাঘ সংরক্ষণ এলাকাগুলোর মতো সুন্দরবনে কোনও বাঘ করিডোর নেই।
একই সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইন্টারন্যাশনাল বিগ ক্যাট অ্যালায়েন্সের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর, পশ্চিমবঙ্গ বন দফতরের প্রাক্তন প্রধান এবং সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভের প্রাক্তন ফিল্ড ডিরেক্টর সৌমিত্র দাসগুপ্ত। তাঁর মতে, সুন্দরবনের বাঘ নিয়মিত ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াত করে। তাই বাঘের সংখ্যা যত বাড়বে, দুই দেশের মধ্যে ততই বাড়াতে হবে সমন্বয়। কারণ সুন্দরবনের এই সাফল্য শুধু ভারতের নয়, দুই দেশের যৌথ প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষারও বড় পরীক্ষা।



