India-China: ৬ বছর পর খুলে গেল নাথু-লা, শিপকি-লা! ভারত-চিন বাণিজ্যে নয়া দিগন্ত

নয়া দিল্লি: ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য (India-China Trade) নিয়ে বড় পদক্ষেপ। প্রায় ছয় বছর পর খুলে গেল দুই দেশে বাণিজ্য রুট ঐতিহাসিক শিপকি লা (Shipki La) ও নাথু-লা (Nathu La)। শনিবার থেকে হিমাচল প্রদেশের কিন্নর জেলার প্রাচীন সিল্ক রুট করিডরে ফের শুরু হয়েছে দুই দেশের সীমান্ত বাণিজ্য। অন্যদিকে, পূর্ব সিকিমের নাথু-লা পাস দিয়েও দুই দেশের বাণিজ্য শুরু হয়েছে। ২০২০ সালে কোভিড (Covid-19) অতিমারি এবং সীমান্তে উত্তেজনার জেরে এই বাণিজ্য বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩ হাজার ৯৩০ মিটার উচ্চতায় শতদ্রু উপত্যকায় অবস্থিত শিপকি লা হিমাচলের কিন্নর জেলা এবং চিনের তিব্বত স্বশাসিত অঞ্চলের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সংযোগস্থল। চলতি মরশুমে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বাণিজ্য চলবে। এর ফলে কর্মসংস্থান, পরিবহন এবং সীমান্ত পর্যটনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেই আশা করা হচ্ছে।
শতাব্দী প্রাচীন পণ্য বিনিময় প্রথা
শিপকি লা-তে বাণিজ্যের বিশেষত্ব হল, এখানে এখনও অর্থের বদলে পণ্য বিনিময় (Barter System) পদ্ধতিতে বাণিজ্য হয়। ভারতীয় ব্যবসায়ীরা সড়কপথে সীমান্ত পর্যন্ত পণ্য নিয়ে যান। এরপর খচ্চর বা অন্য মালবাহী পশুর মাধ্যমে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে তিব্বতের নির্দিষ্ট বিনিময় কেন্দ্রে পণ্য আদান-প্রদান করা হয়।
এই বাণিজ্যকে আরও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য নতুন ছুপ্পান ট্রেড মার্ট (Chhuppan Trade Mart)-এর উদ্বোধন করা হয়েছে। সেখানে শুল্ক সংক্রান্ত কাজ ও ব্যবসায়ীদের নথিভুক্তিকরণের ব্যবস্থা থাকবে। ইন্দো-তিব্বত বর্ডার পুলিশ (ITBP) এবং স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে অনুমোদিত ব্যবসায়ীরা বিশেষ পারমিট পাবেন। সেই পারমিট অনুযায়ী তাঁদের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বাণিজ্যিক লেনদেন শেষ করে ভারতে ফিরে আসতে হবে।
কী কী পণ্যের বাণিজ্য হবে?
ভারত থেকে রফতানি করা যাবে
- শুকনো ফল
- মশলা
- চা ও কফি
- শস্য
- হ্যান্ডলুম পোশাক
- তামার বাসন
- প্রক্রিয়াজাত খাদ্য
- ভেষজ ওষধি
তিব্বত থেকে আমদানি
- পশমিনা
- কাঁচা পশম
- ইয়াকের লোম
- ভেড়ার চামড়া
- কার্পেট
- চায়না ক্লে
- ঐতিহ্যবাহী ভেষজ পণ্য
কূটনৈতিক সম্পর্কেও ইতিবাচক বার্তা
সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও চিনের মধ্যে সীমান্ত বাণিজ্য স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে একাধিক কূটনৈতিক আলোচনা হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে শিপকি লার পাশাপাশি উত্তরাখণ্ডের লিপুলেখ এবং সিকিমের নাথু লা সীমান্ত বাণিজ্যপথ নিয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভারত-চিন সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু হওয়ায় সীমান্তবর্তী এলাকার অর্থনীতি চাঙ্গা হবে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাম্প্রতিক বৈঠকের পর দুই দেশের সম্পর্কে যে বরফ গলতে শুরু করেছে, এই পদক্ষেপ সেই ইতিবাচক দিককেই আরও শক্তিশালী করল।



