0%

FD, মিউচুয়াল ফান্ড নাকি ETF? বিনিয়োগের আগেই জানুন কোথায়, কী সুবিধা?

শমিতা সাহা, SEBI নিবন্ধিত বিনিয়োগ পরামর্শদাতা

 গত দুই দশকে বিনিয়োগ অনেক বদলেছে। শুধু ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিট (FD), ইন্সুরেন্স বা মিউচুয়াল ফান্ডেই বিনিয়োগ সীমাবদ্ধ নেই। এখন আর্থিক বাজারে একাধিক আধুনিক বিনিয়োগের সুযোগ এসেছে। তবে এগুলির বেশিরভাগই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই বিনিয়োগের আগে এই স্কিমগুলি সম্পর্কে জেনে নেওয়া জরুরি।

১. মিউচুয়াল ফান্ড

ভারতে মিউচুয়াল ফান্ড ১৯৭০-এর দশক থেকেই রয়েছে। তবে গত ১০ বছরে এই বিনিয়োগের প্রতি মানুষের আস্থা ও আগ্রহ অনেক বেড়েছে। মাত্র ৫০০ বা ১,০০০ টাকা দিয়েও মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ শুরু করা যায়। অনেকেই সম্পদ বৃদ্ধির জন্য এই মাধ্যমকে বেছে নিচ্ছেন। বর্তমানে ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিটের বিকল্প হিসাবেও মিউচুয়াল ফান্ড জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

২. এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ETF)

ইটিএফ (ETF)-এ বিনিয়োগকারীদের টাকা কোনও নির্দিষ্ট বেঞ্চমার্ক, যেমন নিফটি ৫০ ইনডেক্সের ভিত্তিতে বিনিয়োগ করা হয় এবং এটি স্টক এক্সচেঞ্জে কেনাবেচা করা যায়। উদাহরণ হিসাবে, গোল্ড ইটিএফ (Gold ETF) স্টক এক্সচেঞ্জে কেনাবেচা হয় এবং এর ভিত্তিতে আসল সোনা (Physical Gold) থাকে। বিশ্বের সোনার দামের সঙ্গে এর মূল্য ওঠানামা করে। ইটিএফ সরাসরি শেয়ার বাজারে কেনাবেচা করা গেলেও, এতে লিকুইডিটি (Liquidity) ঝুঁকির সম্ভাবনা বেশি।

৩. ইনডেক্স ফান্ড

ইনডেক্স ফান্ড হল এমন একটি মিউচুয়াল ফান্ড, যা কোনও নির্দিষ্ট ইনডেক্স, যেমন নিফটি ৫০ বা নিফটি ৫০০-কে অনুসরণ করে পরিচালিত হয়। এই ধরনের ফান্ডে ঝুঁকি তুলনামূলক কম এবং ফান্ড পরিচালনার খরচ বা এক্সপেন্স রেশিও-ও কম। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য এই ধরনের ফান্ড উপযুক্ত।

৪. পোর্টফোলিও ম্যানেজমেন্ট স্কিম (PMS)

এই ধরনের স্কিমে অন্তত ৫০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করা বাধ্যতামূলক। ফান্ড পরিচালনার খরচ বেশি, ঝুঁকিও বেশি। তবে লাভের সম্ভাবনাও বেশি। যাঁরা বেশি ঝুঁকি নিতে সক্ষম, তাঁরা ভালো PMS স্কিমে বিনিয়োগ করে লাভবান হতে পারেন।

৫. অল্টারনেট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (AIF)

অল্টারনেট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড বা AIF অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগের একটি মাধ্যম। এতে বিনিয়োগ করতে হলে কমপক্ষে ১ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হয়। এই ধরনের বিনিয়োগ সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি, অর্থাৎ অন্তত ৭ থেকে ১০ বছরের জন্য করতে হয়। পাশাপাশি এতে তারল্যের অভাব (Liquidity) রয়েছে। তাই এই ধরনের পণ্য মূলত বিত্তবান পরিবারের জন্য উপযুক্ত। ঝুঁকি, জটিলতা এবং দীর্ঘ বিনিয়োগের মেয়াদের কারণে এটি সবার জন্য উপযোগী নয়।

আধুনিক বিনিয়োগে যেমন বেশি রিটার্ন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তেমনই ঝুঁকি, জটিলতা এবং তারল্যের অভাবও থাকে। তাই বিনিয়োগের আগে সব দিক ভালোভাবে বুঝে, প্রয়োজনে অভিজ্ঞ বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। বিনিয়োগ সবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তবে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক বিনিয়োগের মাধ্যম বেছে নেওয়াই সবচেয়ে জরুরি।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker