0%

GST Council: জিএসটি-তে আসছে বড় বদল, ১০ হাজার টাকা কর বাকি থাকলে কী হবে?

কী কী বদল আসবে জিএসটিতে?Image Credit: TV9 বাংলা

নয়া দিল্লি: জিএসটিতে আসতে পারে বড় বদল। দেশের জিএসটি (GST) ব্যবস্থায় ফের বড়সড় পরিবর্তনের পথে কেন্দ্র। আগামী ৭ অক্টোবর জিএসটি কাউন্সিল (GST Council)-এর বৈঠকে কর ব্যবস্থা আরও সহজ করা এবং ব্যবসায়ীদের হয়রানি কমানোর জন্য একাধিক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হতে পারে। প্রস্তাবগুলির মধ্যে রয়েছে জিএসটি আধিকারিকদের গ্রেফতারির ক্ষমতা কমানো, ফৌজদারি মামলা করার সীমা ১ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করা এবং প্রকৃত ক্রেতাদের ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট (ITC) সুরক্ষা দেওয়ার মতো বিষয়গুলি।

গ্রেফতার করতে আদালতের অনুমতি প্রয়োজন হতে পারে-

জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবগুলির মধ্যে রয়েছে জিএসটি আধিকারিকদের সরাসরি গ্রেফতার করার ক্ষমতায় পরিবর্তন। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে কোনও করদাতাকে গ্রেফতার করার আগে বিচারবিভাগীয় অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে।

এছাড়া জিএসটি সংক্রান্ত ফৌজদারি মামলা করার ন্যূনতম সীমা ১ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। অর্থাৎ, ছোটখাটো কর সংক্রান্ত বিরোধকে যাতে সরাসরি ফৌজদারি মামলায় পরিণত করা না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই পরিবর্তন। তবে ইচ্ছাকৃত কর ফাঁকি বা বড় ধরনের জালিয়াতির ক্ষেত্রে সরকারের কর আদায়, সুদ ও আর্থিক জরিমানা করার ক্ষমতা বজায় রাখবে।

প্রকৃত ব্যবসায়ীদের ITC-তে সুরক্ষা-

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব হল প্রকৃত ক্রেতাদের ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট বা ITC সুরক্ষা দেওয়া। কোনও ব্যবসায়ী বৈধ ইনভয়েসের ভিত্তিতে আইটিসি (ITC) নিলেও পরে তাঁর সরবরাহকারী জিএসটি না দিলে, শুধু সেই কারণে প্রকৃত ক্রেতার আইটিসি বাতিল না করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সে ক্ষেত্রে কর আদায়ের ব্যবস্থা নেওয়া হবে সংশ্লিষ্ট কর ফাঁকি দেওয়া সরবরাহকারীর বিরুদ্ধে। এতে জিএসটি নিয়ে ব্যবসায়ীদের সমস্যা ও মামলা কমতে পারে।

ছোট ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ হতে পারে রেজিস্ট্রেশন-

ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে ব্যবসা করা ছোট বিক্রেতাদের জিএসটি (GST) রেজিস্ট্রেশনও সহজ করার প্রস্তাব রয়েছে। কোনও রাজ্যে নিজস্ব অফিস না থাকলেও, নির্দিষ্ট শর্তে ই-কমার্স সংস্থার গুদামকে ব্যবসার ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ মিলতে পারে। এর ফলে প্রায় ৯.৫ লক্ষ ছোট বিক্রেতা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে সুবিধা পেতে পারেন।

জিএসটি রেজিস্ট্রেশন ও রিটার্নে সরলীকরণ-

নতুন ব্যবস্থায় জিএসটি রেজিস্ট্রেশনের সময় প্রয়োজনীয় নথির তালিকা দেখানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অন্য রাজ্যে থাকা পুরনো রেজিস্ট্রেশনের তথ্য ব্যবহার করা এবং একসঙ্গে একাধিক রাজ্যে রেজিস্ট্রেশনের আবেদন করার সুযোগও তৈরি করা হতে পারে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি মাপের ব্যবসায়ী (MSME)-দের জন্য বার্ষিক রিটার্ন ও কর জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াও আরও সহজ করার প্রস্তাব রয়েছে।

১০ হাজার টাকার কম জিএসটি বকেয়ায় নোটিস বন্ধ-

ছোট অঙ্কের জিএসটি সংক্রান্ত মামলা কমাতেও পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে কেন্দ্রের তরফে। ১০ হাজার টাকার কম করের দাবিতে জিএসটি নোটিস না পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এমন ছোট অঙ্কের মামলার সংখ্যা অনেক হলেও করের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে খুব কম।

সব মিলিয়ে, জিএসটি ২.০ (GST 2.0)-এর পরবর্তী পর্যায়ে মূল লক্ষ্য হতে পারে কর কাঠামো বদলে জিএসটি ব্যবস্থাপনাকে আরও সহজ, প্রযুক্তিনির্ভর এবং ব্যবসা-বান্ধব করা। তবে এগুলি এখনও প্রস্তাব স্তরেই রয়েছে। জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker